যে সময় সংযমের মাধ্যমে ইন্দ্রিয়গুলিকে দৃঢ়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়, তখনই প্রকৃত যোগের সূচনা ও সমাপ্তি ঘটে—এটাই তারা যোগ বলে মনে করে। তখন মানুষ হয়ে ওঠে সতর্ক ও সচেতন, কারণ যোগই সকলের উৎপত্তি ও বিলয়। তবে তিনি—যিনি চিরন্তন—তাকে কথা দিয়ে, মন দিয়ে, কিংবা চোখ দিয়ে উপলব্ধি করা যায় না। কেবল সেই ব্যক্তি, যিনি আন্তরিকভাবে বলেন "তিনি আছেন", তিনিই তাঁকে উপলব্ধি করতে পারেন। তাঁকে তাঁর প্রকৃত রূপে, উভয় অবস্থায়, বিদ্যমান হিসেবে জানতে হয়। যে তাঁকে বিদ্যমান বলে উপলব্ধি করে, তার কাছে তাঁর প্রকৃত স্বরূপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যখন হৃদয়ে বাস করা সমস্ত কামনা-বাসনা মুক্ত হয়, তখন এই নশ্বর মানুষ অমরত্ব লাভ করে; এখানেই সে ব্রহ্মকে অর্জন করে। আর যখন হৃদয়ের সমস্ত গ্রন্থি—সমস্ত জট—এখানেই খুলে যায়, তখন নশ্বর মানুষ অমর হয়ে ওঠে। এটাই একমাত্র শিক্ষা। হৃদয়ে একশত একটি নাড়ি আছে; তার মধ্যে একটি নাড়ি মাথার ওপর উঠে যায়। এই নাড়ি দিয়ে উপরে উঠে গেলে অমরত্ব লাভ হয়; অন্য নাড়িগুলো বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়ে, এবং এগুলোই প্রস্থানপথ। মানুষের হৃদয়ে সর্বদা বসে আছে এক ক্ষুদ্র আত্মা, যার আকার অঙ্গুষ্ঠ বা বুড়ো আঙুলের মতো। স্থিরচিত্তে, নিজের শরীর থেকে তাকে বের করে আনতে হয়, যেমন কঞ্চি থেকে কঞ্চি বের করা হয়। তাকে জানতে হয়—তিনি পবিত্র, তিনি অমর; তাঁকে জানতে হয়—তিনি পবিত্র, তিনি অমর। এই জ্ঞান, যা মৃত্যুর কাছ থেকে শিখেছিল, এবং যোগের সমস্ত বিধি অর্জন করে নচিকেতা ব্রহ্মের সঙ্গে একাত্ম হয়ে গেল; সে কলঙ্কহীন, মৃত্যুহীন হল। এভাবেই যে কেউ, এইভাবে আত্মাকে জানে, সে-ও ব্রহ্মের সঙ্গে একাত্ম হতে পারে। তিনি যেন আমাদের দুজনকে একসঙ্গে রক্ষা করেন; তিনি যেন আমাদের দুজনকে একসঙ্গে পুষ্ট করেন; আমরা যেন একত্রে প্রবল উদ্যমে কাজ করি; আমাদের অধ্যয়ন যেন উজ্জ্বল ও জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হয়; আমরা যেন একে অপরকে ঘৃণা না করি।