এক সময়ের কথা, যখন ভজনস্রবস নামক একজন ধনবান ব্যক্তি তাঁর সমস্ত সম্পত্তি দান করার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর একটি পুত্র ছিল, নাম নচিকেতা। যখন দানের অনুষ্ঠান চলছিল, তখন ছোট্ট নচিকেতার মনে একটি প্রশ্ন জাগে। সে ভাবতে থাকে, "বাবা, আপনি আমাকে কাকে দান করবেন?" তিনবার এই প্রশ্ন করার পর, পিতা উত্তর দেন, "আমি তোমাকে মৃত্যুকে দান করছি।" নচিকেতা অবাক হয়ে যায়। "আজ আমার বাবার উদ্দেশ্য কী?" সে ভাবে। সে দেখে, যারা আগে এসেছে এবং যারা পরে আসবে, তাদের জীবনও ধানের মতো, জন্মগ্রহণ করে এবং পরে পুনর্জন্ম লাভ করে। মৃত্যুর পরের জীবন নিয়ে তাঁর মনে একটি গভীর চিন্তা শুরু হয়। একদিন, নচিকেতা মৃত্যুর কাছে পৌঁছে যায়। সে বলল, "হে মৃত্যু, আমাকে সেই অগ্নির শিক্ষা দিন, যা স্বর্গের দিকে নিয়ে যায়।" মৃত্যুর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, নচিকেতা সেই অগ্নির জ্ঞান লাভ করে। মৃত্যুর কাছে সে তিনটি বর চায়। প্রথম বর হিসেবে সে চায়, "আমার বাবা যেন শান্তিতে থাকেন, আমার প্রতি তিনি দয়ালু হয়ে উঠুন।" দ্বিতীয় বর হিসেবে সে চায়, "স্বর্গের অগ্নির জ্ঞান আমাকে দিন।" মৃত্যু তখন তাকে সেই অগ্নির গুণাবলী বোঝাতে শুরু করে। নচিকেতা তা শুনে এবং বুঝে তা পুনরাবৃত্তি করতে শুরু করে। মৃত্যুর মুখে একটি প্রশংসাসূচক কথা আসে, "আজ আমি তোমাকে আরেকটি বর দিচ্ছি। এই অগ্নি তোমার নামেই পরিচিত হবে।" তিনটি নচিকেতা অগ্নি সম্পন্ন করে, যে ব্যক্তি জন্ম ও মৃত্যুর বৃত্ত অতিক্রম করে, সে চিরস্থায়ী শান্তি লাভ করে। এরপর নচিকেতা তৃতীয় বর চায়। সে বলে, "মানুষের মধ্যে মৃতদের সম্পর্কে সন্দেহ রয়েছে। কেউ বলে, 'সে আছে,' আর কেউ বলে, 'সে নেই।' আমি এই জ্ঞানটি চাই।" মৃত্যুর মুখে আসে, "এটি এত সহজ নয়, অন্য বর চয়ন করো।" কিন্তু নচিকেতা দৃঢ়ভাবে বলে, "এটি আমার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।" মৃত্যু তখন বলে, "সন্তান, নাতি, সম্পদ, দীর্ঘ জীবন—এসব চয়ন করো।" কিন্তু নচিকেতা বলে, "আমি এসব কিছু চাই না। আমি চিরন্তন সত্যের সন্ধান চাই।" মৃত্যুর কাছে সে জানতে চায়, "যা অদৃশ্য, যা গভীর, তা আমাকে বলুন।" মৃত্যু তখন বলে, "ভাল এবং সুন্দর দুটি বিষয় মানুষের কাছে আসে, এবং যে ব্যক্তি ভাল বেছে নেয়, সে সফল হয়।" নচিকেতা বুঝতে পারে, যে জ্ঞান অর্জন করা কঠিন, তা সাধারণ মানুষের কাছে সহজে ধরা পড়ে না। অবশেষে, নচিকেতা সেই অমর সত্তার সন্ধান পায়, যা চিরকালীন এবং অদৃশ্য। সে জানে, এই জ্ঞানই তাকে সত্যিকার সুখ ও শান্তি দেবে। এইভাবে, নচিকেতা নিজেকে জ্ঞানের আলোতে আলোকিত করে, এবং সেই অমর জ্ঞানের পথে অগ্রসর হয়।