একদিন যজ্ঞসভায় ঋষি যাজ্ঞবল্ক্য উপস্থিত ব্রাহ্মণদের উদ্দেশে বললেন, ‘‘হে মান্য ব্রাহ্মণগণ, তোমাদের মধ্যে যিনি ইচ্ছা করেন, তিনি আমাকে প্রশ্ন করতে পারেন; অথবা তোমরা সবাই একসাথে প্রশ্ন করতে পারো। আবার, আমি চাইলে তোমাদের কাউকে বা সবাইকে প্রশ্ন করতে পারি।’’ কিন্তু ব্রাহ্মণরা ভয়ে কিছু জিজ্ঞাসা করার সাহস পেলেন না। তখন যাজ্ঞবল্ক্য তাদের উদ্দেশে কিছু উপমার মাধ্যমে প্রশ্ন করলেন। তিনি বললেন, ‘‘যেমন একটি গাছ অরণ্যের গাছ, তেমনি একজন মানুষ সত্যবাদী; তার দেহের লোম গাছের পাতার মতো, বাইরের চামড়া যেন বাকল। তার রক্ত চামড়া থেকে রসের মতো প্রবাহিত হয়; তাই কাটা গেলে যেমন গাছ থেকে রস বের হয়, তেমনি মানুষের শরীর থেকেও রক্ত বের হয়। তার মাংস যেন গাছের শাঁস, স্নায়ুগুলো আঁশের মতো, হাড় কাঠের মতো, আর মজ্জা যেন গাছের শিরার মতো। যেমন গাছ কেটে দিলে সে মূল থেকে আবার জন্মায়, তেমনি মানুষ মৃত্যুর দ্বারা কাটা পড়লে, সে কোন মূল থেকে আবার জন্ম নেয়? বীজ থেকে বলে ভাবো না; জীবিত অবস্থায় তার বংশধর জন্ম নেয়, কিন্তু মৃতের পর কে তাকে আবার জন্ম দেবে? গাছ যদি মূলসহ উপড়ে যায়, তবে আর জন্মায় না; তেমনি মানুষও মৃত্যুর পরে কোন মূল থেকে পুনর্জন্ম পায়? এই মূল হচ্ছে চেতনা, আনন্দ, ব্রহ্ম—যা বীজদাতার আশ্রয়, যা স্থিতপ্রজ্ঞের পরম আশ্রয়। যাঁরা জানেন, তাঁরাই একে জানেন।’’ এরপর বিদেহের রাজা জনক সবকিছু সুন্দরভাবে সাজালেন। তখন যাজ্ঞবল্ক্য তাঁর কাছে এলেন। রাজা জনক জিজ্ঞেস করলেন, ‘‘যাজ্ঞবল্ক্য, কী উদ্দেশ্যে এসেছো—গরু চাও, না জ্ঞান চাও?’’ যাজ্ঞবল্ক্য বললেন, ‘‘রাজন, উভয়ই।’’ তখন যাজ্ঞবল্ক্য বললেন, ‘‘উদঙ্ক হৌল্বায়ন আমাকে বলেছিলেন—প্রাণই ব্রহ্ম। যেমন মা, বাবা, গুরু সত্য বলে, তেমনি হৌল্বায়ন বলেছিলেন—প্রাণই ব্রহ্ম; প্রাণ ছাড়া কিছুই টিকে না। কিন্তু তিনি তার আশ্রয় ও আধার বলেননি; বললেন, ‘আমি জানি না।’ রাজন, এ তো কেবল এক অংশ।’’ রাজা বললেন, ‘‘বলো যাজ্ঞবল্ক্য, তার আবাস কোথায়, আধার কী?’’ যাজ্ঞবল্ক্য বললেন, ‘‘তার আবাস আকাশ, আধার প্রেম; প্রেমরূপে ধ্যান করো।’’ ‘‘প্রেম কী?’’—রাজা জানতে চাইলেন। যাজ্ঞবল্ক্য বললেন, ‘‘প্রাণই প্রেম। প্রাণের জন্যই যজ্ঞ হয়, দান গ্রহণ হয়, মৃত্যুভয়েও প্রাণের জন্যই কর্ম হয়। প্রাণই পরম ব্রহ্ম; প্রাণ কখনো তাকে ত্যাগ করে না, সকল প্রাণী তার কাছে আসে।’’ ‘‘যে এভাবে জানে ও ধ্যান করে, সে দেবতা হয়ে দেবতাদের লাভ করে।’’ জনক বললেন, ‘‘আমি হাজার গরু দেবো।’’ যাজ্ঞবল্ক্য বললেন, ‘‘আমার পিতা বলেছিলেন, শিক্ষা না দিয়ে কিছু গ্রহণ করা উচিত নয়।’’ ‘‘তুমি কী শুনেছিলে?’’ পুনরায় যাজ্ঞবল্ক্য বললেন, ‘‘জিত্বা হৈলিন আমাকে বলেছিলেন—বাক্যই ব্রহ্ম। বাক্য ছাড়া কিছুই নেই। কিন্তু তিনি তার আবাস ও আধার বলেননি; বললেন, ‘আমি জানি না।’ রাজন, এও এক অংশ।’’ রাজা বললেন, ‘‘বলো, যাজ্ঞবল্ক্য।’’ যাজ্ঞবল্ক্য বললেন, ‘‘তার আবাস বাক্য, আধার আকাশ; জ্ঞানরূপে ধ্যান করো।’’ ‘‘জ্ঞান কী?’’—রাজা জানতে চাইলেন। যাজ্ঞবল্ক্য বললেন, ‘‘বাক্যই জ্ঞান। বাক্যের দ্বারাই আত্মীয় চেনা যায়; ঋগ্বেদ, যজুর্বেদ, সামবেদ, অথর্বাঙ্গিরস, ইতিহাস, পুরাণ, উপনিষদ, শ্লোক, সূত্র, ব্যাখ্যা—সবই বাক্যের দ্বারা জানা যায়। বাক্যই পরম ব্রহ্ম; বাক্য তাকে ত্যাগ করে না, সকল প্রাণী তার কাছে আসে।’’ ‘‘যে এভাবে জানে ও ধ্যান করে, সে দেবতা হয়ে দেবতাদের লাভ করে।’’ জনক বললেন, ‘‘আমি হাজার গরু দেবো।’’ যাজ্ঞবল্ক্য বললেন, ‘‘আমার পিতা বলেছিলেন, শিক্ষা না দিয়ে কিছু গ্রহণ করা উচিত নয়।’’ ‘‘তুমি কী শুনেছিলে?’’ এরপর যাজ্ঞবল্ক্য বললেন, ‘‘বার্কু বার্ষ্ণ আমাকে বলেছিলেন—চক্ষুই ব্রহ্ম। চোখ ছাড়া কিছুই নেই। কিন্তু তিনি তার আবাস ও আধার বলেননি; বললেন, ‘আমি জানি না।’ রাজন, এও এক অংশ।’’ রাজা বললেন, ‘‘বলো, যাজ্ঞবল্ক্য।’’ যাজ্ঞবল্ক্য বললেন, ‘‘তার আবাস চক্ষু, আধার আকাশ; সত্যরূপে ধ্যান করো।’’ ‘‘সত্য কী?’’—রাজা জানতে চাইলেন। যাজ্ঞবল্ক্য বললেন, ‘‘চক্ষুই সত্য। চক্ষুর দ্বারাই দর্শন হয়; কেউ বলে, ‘আমি দেখেছি’—এটাই সত্য। চক্ষুই পরম ব্রহ্ম; চক্ষু তাকে ত্যাগ করে না, সকল প্রাণী তার কাছে আসে।’’ ‘‘যে এভাবে জানে ও ধ্যান করে, সে দেবতা হয়ে দেবতাদের লাভ করে।’’ জনক বললেন, ‘‘আমি হাজার গরু দেবো।’’ যাজ্ঞবল্ক্য বললেন, ‘‘আমার পিতা বলেছিলেন, শিক্ষা না দিয়ে কিছু গ্রহণ করা উচিত নয়।’’ ‘‘তুমি কী শুনেছিলে?’’ পুনরায় যাজ্ঞবল্ক্য বললেন, ‘‘ভরদ্বাজ, যিনি গাধার দুধ পান করেছিলেন, বলেছিলেন—কর্ণই ব্রহ্ম। কর্ণ ছাড়া কিছুই নেই। কিন্তু তিনি তার আবাস ও আধার বলেননি; বললেন, ‘আমি জানি না।’ রাজন, এও এক অংশ।’’ রাজা বললেন, ‘‘বলো, যাজ্ঞবল্ক্য।’’ যাজ্ঞবল্ক্য বললেন, ‘‘তার আবাস কর্ণ, আধার আকাশ; অসীমরূপে ধ্যান করো।’’ ‘‘এই অসীমতা কী?’’—রাজা জানতে চাইলেন। যাজ্ঞবল্ক্য বললেন, ‘‘দিকগুলোই অসীম, রাজন। যেদিকে যাও, শেষ পাওয়া যায় না; দিক যেমন অসীম, কর্ণও তেমন। কর্ণই পরম ব্রহ্ম; কর্ণ কখনো তাকে ত্যাগ করে না, সকল প্রাণী তার কাছে আসে।’’ ‘‘যে এভাবে জানে ও ধ্যান করে, সে দেবতা হয়ে দেবতাদের লাভ করে।’’ জনক বললেন, ‘‘আমি হাজার গরু দেবো।’’ যাজ্ঞবল্ক্য বললেন, ‘‘আমার পিতা বলেছিলেন, শিক্ষা না দিয়ে কিছু গ্রহণ করা উচিত নয়।’’ ‘‘তুমি কী শুনেছিলে?’’ এরপর যাজ্ঞবল্ক্য বললেন, ‘‘শত্যকাম যাবাল আমাকে বলেছিলেন—মনই ব্রহ্ম। মন ছাড়া কিছুই নেই। কিন্তু তিনি তার আবাস ও আধার বলেননি; বললেন, ‘আমি জানি না।’ রাজন, এও এক অংশ।’’ রাজা বললেন, ‘‘বলো, যাজ্ঞবল্ক্য।’’ যাজ্ঞবল্ক্য বললেন, ‘‘তার আবাস মন, আধার আকাশ; আনন্দরূপে ধ্যান করো।’’ ‘‘আনন্দ কী?’’—রাজা জানতে চাইলেন। যাজ্ঞবল্ক্য বললেন, ‘‘মনই আনন্দ। মন দিয়েই নারীসঙ্গ হয়, তাতে সন্তান জন্মায়—এটাই আনন্দ। মনই পরম ব্রহ্ম; মন কখনো তাকে ত্যাগ করে না, সকল প্রাণী তার কাছে আসে।’’ ‘‘যে এভাবে জানে ও ধ্যান করে, সে দেবতা হয়ে দেবতাদের লাভ করে।’’ জনক বললেন, ‘‘আমি হাজার গরু দেবো।’’ যাজ্ঞবল্ক্য বললেন, ‘‘আমার পিতা বলেছিলেন, শিক্ষা না দিয়ে কিছু গ্রহণ করা উচিত নয়।’’ ‘‘তুমি কী শুনেছিলে?’’ পুনরায় যাজ্ঞবল্ক্য বললেন, ‘‘বিদগ্ধ শাকল্য আমাকে বলেছিলেন—হৃদয়ই ব্রহ্ম। হৃদয় ছাড়া কিছুই নেই। কিন্তু তিনি তার আবাস ও আধার বলেননি; বললেন, ‘আমি জানি না।’ রাজন, এও এক অংশ।’’ রাজা বললেন, ‘‘বলো, যাজ্ঞবল্ক্য।’’ যাজ্ঞবল্ক্য বললেন, ‘‘তার আবাস হৃদয়, আধার আকাশ; স্থিতিরূপে ধ্যান করো।’’ ‘‘স্থিতি কী?’’—রাজা জানতে চাইলেন। যাজ্ঞবল্ক্য বললেন, ‘‘হৃদয়ই স্থিতি। হৃদয়ই সকল জীবের আবাস, সকল জীব হৃদয়ে স্থিত। হৃদয়ই পরম ব্রহ্ম; হৃদয় কখনো তাকে ত্যাগ করে না, সকল প্রাণী তার কাছে আসে।’’ ‘‘যে এভাবে জানে ও ধ্যান করে, সে দেবতা হয়ে দেবতাদের লাভ করে।’’ জনক বললেন, ‘‘আমি হাজার গরু দেবো।’’ যাজ্ঞবল্ক্য বললেন, ‘‘আমার পিতা বলেছিলেন, শিক্ষা না দিয়ে কিছু গ্রহণ করা উচিত নয়।’’ ‘‘তুমি কী শুনেছিলে?’’ তখন রাজা জনক নিজের আসন থেকে উঠে এসে বললেন, ‘‘নমস্কার! যাজ্ঞবল্ক্য, আমাকে পরাজিত করো না।’’ যাজ্ঞবল্ক্য বললেন, ‘‘যেমন কেউ মহাযাত্রা করতে চাইলে রথ বা নৌকা প্রস্তুত করে, তেমনি তুমি এই উপনিষদ জেনে নিজেকে প্রস্তুত করেছো। হে ধনবান বৃন্দারক, বেদ ও উপনিষদ জেনে, যখন এ শরীর থেকে মুক্ত হবে, কোথায় যাবে জানো?’’ জনক বললেন, ‘‘ভগবন, জানি না, কোথায় যাবো।’’ যাজ্ঞবল্ক্য বললেন, ‘‘তবে আমি বলি—শোনো।’’ তিনি বললেন, ‘‘ডান চোখে যে ব্যক্তি, তার নাম ইন্ধ; তাকে ইন্দ্র বলা হয়, তবে পরোক্ষভাবে, কারণ দেবতারা পরোক্ষ পছন্দ করেন, প্রত্যক্ষ নয়।’’ ‘‘বাম চোখে স্ত্রীরূপে বিরাজ—তাঁর পত্নী। এই দুইয়ের মিলনস্থল হৃদয়ের মধ্যের স্থান। তাদের খাদ্য হৃদয়ের রক্তপিণ্ড, তাদের আবরণ হৃদয়ের জাল, তাদের পথ হৃদয় থেকে ঊর্ধ্বগামী স্নায়ু। হৃদয়ে হাজার স্নায়ু আছে, চুলের হাজার ভাগের মতো সূক্ষ্ম। এ পথেই আত্মা চলাফেরা করে, দেহত্যাগের সময় এই পথেই বেরিয়ে যায়। তাই আত্মা চলে গেলে শরীর ক্ষীণ হয়ে পড়ে।’’ এই আত্মার জন্য প্রাণশক্তিগুলোই দিকসমূহ—পূর্বে পূর্বীয় প্রাণ, দক্ষিণে দক্ষিণীয়, পশ্চিমে পশ্চিমীয়, উত্তরে উত্তরীয়, ঊর্ধ্বে ঊর্ধ্বগামী, অধঃস্থলে অধঃগামী; সব দিকই সব প্রাণশক্তি। এই আত্মা ‘নেতি, নেতি’—একে ধরা যায় না, কারণ ধরা যায় না; এটি ক্ষয় হয় না, কারণ ক্ষয়হীন; এটি আসক্ত নয়, কারণ অনাসক্ত; এটি দুঃখভোগ করে না। যাজ্ঞবল্ক্য বললেন, ‘‘তুমি নির্ভয়তা লাভ করেছো, জনক।’’ জনক বললেন, ‘‘নমস্কার, যাজ্ঞবল্ক্য। আমাদের যেন নির্ভয়তা আসে। তুমি আমাদের নির্ভয়তা জানতে দিয়েছো।’’ জনক আবার বললেন, ‘‘তোমারও যেন নির্ভয়তা আসে, যাজ্ঞবল্ক্য, কারণ তুমিও আমাদের নির্ভয়তা জানতে দিয়েছো। নমস্কার। এরা বিদেহরা, আমি এই।’’ এরপর জনক যাজ্ঞবল্ক্যর কাছে এসে ভাবলেন, ‘‘আমি তাঁর সঙ্গে বিতর্ক করবো।’’ তাঁরা একসাথে অগ্নিহোত্র যজ্ঞ করলেন। যাজ্ঞবল্ক্য তাঁকে বর দিলেন। রাজা কামনা-সংক্রান্ত প্রশ্ন করলেন, যাজ্ঞবল্ক্য তা মঞ্জুর করলেন। এরপর, আগের মতো, রাজা পুনরায় প্রশ্ন করলেন— ‘‘যাজ্ঞবল্ক্য, এই ব্যক্তির আলো কী?’’ যাজ্ঞবল্ক্য বললেন, ‘‘সূর্যই তার আলো, রাজন। সূর্যের আলোয় সে বসে, চলে, কাজ করে, ফিরে আসে।’’ ‘‘যখন সূর্য অস্ত যায়, তখন কী?’’ ‘‘চন্দ্রই তার আলো, রাজন। চন্দ্রের আলোয় সে বসে, চলে, কাজ করে, ফিরে আসে।’’ ‘‘যখন সূর্য-চন্দ্র দুটোই অস্ত যায়, তখন?’’ ‘‘অগ্নিই তার আলো, রাজন। আগুনের আলোয় সে বসে, চলে, কাজ করে, ফিরে আসে।’’ ‘‘যখন সূর্য, চন্দ্র, আগুন—সব নেই, তখন?’’ ‘‘বাক্যই তার আলো, রাজন। বাক্যের সাহায্যে সে বসে, চলে, কাজ করে, ফিরে আসে। এমনকি নিজের হাতও না দেখতে পেলেও, কেউ ডাকলে সে সেখানে যায়।’’ ‘‘যখন সূর্য, চন্দ্র, আগুন, বাক্য—সব নিস্তব্ধ, তখন?’’ ‘‘আত্মাই তার আলো, রাজন। আত্মার আলোয় সে বসে, চলে, কাজ করে, ফিরে আসে।’’ ‘‘এই আত্মা কে?’’ যাজ্ঞবল্ক্য বললেন, ‘‘যে জ্ঞানময় ব্যক্তি, প্রাণশক্তির মধ্যে, হৃদয়ের অন্তরালে জ্যোতিরূপ; সে একই, এই জগৎ ও পরজগৎ অতিক্রম করে। মনে করে, চলে, বুদ্ধি নিয়ে স্বপ্নদর্শী হয়, এভাবে এই সংসার ছাড়িয়ে যায়।’’ ‘‘এই ব্যক্তি জন্ম নিয়ে দেহে প্রবেশ করে, দুষ্কর্মে যুক্ত হয়; মৃত্যুর সময় ঊর্ধ্বগামী হয়ে, পাপরূপ মৃত্যু ত্যাগ করে। তার দুইটি আবাস—এই সংসার ও পরজগৎ। এর মধ্যে একটি তৃতীয়, স্বপ্নাবস্থা; এই মধ্যবর্তী স্থানে দাঁড়িয়ে সে দুই জগৎই দেখে।’’ এভাবেই যাজ্ঞবল্ক্য ও জনকের জ্ঞানের এই মহাসভা এক অনন্ত সত্যের দিকে এগিয়ে চলে, যেখানে আত্মা, চেতনা ও ব্রহ্ম—সবকিছুর মূলে, সবকিছুর আশ্রয়।