প্রাচীন ঋষিদের মন্দিরে একদিন গভীর আলোচনা চলছিল—বেদান্তসূত্রের তৃতীয় অধ্যায়ের তৃতীয় অধ্যাস। সেখানে প্রশ্ন উঠল, কোনো কর্ম বা জ্ঞান, বা তাদের বিভিন্ন রূপ, একে অপরের তুলনায় শ্রেষ্ঠত্ব বা অধমত্ব পায় কি না। তখন এক জ্যেষ্ঠ ঋষি বললেন, “এমনটি নয়, কারণ প্রসঙ্গের পার্থক্য শ্রেষ্ঠত্ব বা অধমত্ব নির্দেশ করে না—যেমন উচ্চ ও নিম্ন স্তরের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও, তা গুণগত শ্রেষ্ঠত্ব নয়।” অন্য একজন স্মরণ করালেন, “যদি কোনো কিছুকে এমন বলে চিহ্নিত করা হয়, তবে সেটি আগেই বলা হয়েছে। তবুও, সেটিও বিদ্যমান, কারণ প্রসঙ্গভেদে নানা রূপ দেখা যায়।” আরেকজন যুক্তি দিলেন, “এটি যুক্তিযুক্ত, কারণ সর্বত্রই ব্যাপ্তি থাকে।” তখন আরও বলা হলো, “এই একটি ছাড়া আর কোথাও প্রকৃত পার্থক্য নেই।” ঋষিরা বললেন, “আনন্দ ও অনুরূপ গুণাবলী প্রধান তত্ত্বের অন্তর্গত। ‘প্রিয় মস্তক’ ইত্যাদি লাভ না হওয়া, বৃদ্ধি ও হ্রাস—এসবই পার্থক্যজনিত। কিন্তু অন্য সকল বিষয় সাধারণ অর্থের জন্যই ঘটে।” তখন আলোচনায় উঠে এল, “ধ্যানের কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য এখানে নেই, এবং ‘আত্মা’ শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে বলেই তা বোঝা যায়।” ঋষিরা ব্যাখ্যা করলেন, “যেভাবে অন্য ক্ষেত্রেও আত্মার উপলব্ধি হয়, এখানে পরবর্তী অংশ থেকেও তা বোঝা যায়। কেউ যদি বলে, সংযোগের কারণে তা হয়, তবে সেটিও বিশেষণের জন্য গ্রহণযোগ্য।” কারণ, যখন ফলের উল্লেখ রয়েছে, তখন এটি নতুন কিছু নয়। এভাবেই, অমিল না থাকার কারণে, বিষয়টি একই রকম। ঋষিরা আরও বললেন, “সংযোগের কারণে, অন্যত্রও একই রকম ঘটে। আবার, কখনো তা না-ও হতে পারে, যদি পার্থক্য থাকে। শাস্ত্রে এও দেখানো হয়েছে। সমষ্টি ও ব্যাপ্তির কারণেই এসব ঘটে। পুরুষ-ধ্যানে, অন্যান্য বিষয়ও উল্লেখিত হয়েছে বলে, একই রীতি চলে।” তারা বললেন, “অর্থের পার্থক্য, সৃষ্টিকর্তা থেকে শুরু করে, এখানে প্রাধান্য পায়। তবে, যদি কোনো কিছু বাদ পড়ে, তাহলে ‘উপায়ন’ শব্দটি থেকে বোঝা যায়, কুশ ঘাস ও ছন্দ কেবল প্রশংসা ও গীতির মতোই ব্যবহৃত হয়, যেমন আগেও বলা হয়েছে।” তখন প্রশ্ন উঠল, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সময় কি কোনো অতিক্রম ঘটে? ঋষিরা বললেন, “না, কারণ অন্যরা এভাবেই ঘোষণা করেছেন।” আবার, ইচ্ছামতো করা যায়, কারণ উভয় ক্ষেত্রেই কোনো বিরোধ নেই। উদ্দেশ্য পূরণ হয় দুই ভাবেই, নতুবা বিরোধ হতো। সাধারণ জীবনের মতোই, এখানে লক্ষিত উদ্দেশ্য অর্জিত হয়, তাই এটি গ্রহণযোগ্য। পূজারীদের কাজ তাদের নিযুক্তি শেষ হওয়া পর্যন্ত চলে। সকলের জন্য কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, এবং এতে কোনো বিরোধও নেই—শাস্ত্র ও যুক্তি অনুসারে। কিন্তু যারা অব্যয় বা অক্ষর ধ্যান করেন, তাদের জন্য নিয়ম আছে, সাধারণ ও বিশেষ প্রকৃতির কারণে, যেমন উপাঙ্গ-ক্রিয়াগুলির ক্ষেত্রে হয়। এভাবে চিন্তার কারণে এসব নির্ধারিত হয়। কেউ যদি বলেন, উপাদানসমূহের মতো, মধ্যবর্তী সময়ে আত্মার কোনো স্বতন্ত্রতা থাকবে না, তবে তা ঠিক নয়, কারণ শাস্ত্র অন্যরকম বলে। কেউ কেউ বিনিময়ের কথা বলেন, যেমন অধম বিষয়ের ক্ষেত্রে ঘটে। সত্য ইত্যাদি গুণাবলী একই থাকে। ইচ্ছা এবং অনুরূপ মানসিক অবস্থা, এখানে ও সেখানে, ইন্দ্রিয়াদি থেকে উৎপন্ন হয়। কখনো সম্মানের জন্য কোনো কিছু বাদ দেওয়া হয়। উপস্থিত থাকলে, তার উল্লেখ থাকায় তা পালন করা হয়। তবে নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম নেই, কারণ দেখা যায়—ফল আলাদা হলেও বাধা হয় না। দানের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটে, যেমন আগেও বলা হয়েছে। যেখানে নির্দেশক চিহ্ন মুখ্য, সেটিই অধিকতর শক্তিশালী হয়। পূর্ববর্তী বিকল্প প্রসঙ্গ থেকে উঠে আসতে পারে, যেমন কোনো কাজ শুরু হলে। আবার, প্রসারিত অর্থে তা হতে পারে। তবে, মূলত এটি জ্ঞানই, কারণ নির্ধারণ ও অভিজ্ঞতা থেকেও তা বোঝা যায়। এভাবেই, ঋষিদের মধ্যে এই গভীর আলোচনার মধ্য দিয়ে, শাস্ত্রের সূক্ষ্ম বিষয়াবলি ও তাদের প্রয়োগের নানান দিক উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে—প্রসঙ্গ, উদ্দেশ্য, নিয়ম ও ব্যতিক্রম—সবই শাস্ত্রের আলোয় সুস্পষ্ট হয়।