তিনি সেই মহান, যিনি কখনো ব্যবসায়ী, কখনো কাঠমিস্ত্রি, কখনো গাছ, আবার কখনো বকুল বা চন্দন বৃক্ষের মতো আশ্রয়দাতা। তাঁর গলায় বল, কাঁধ প্রশস্ত, চঞ্চলতা আছে, আবার তিনিই মহাঔষধ। তিনি সফলতার সাধক, সফলতায় সিদ্ধ, ছন্দ ও ব্যাকরণের অধীশ্বর। তাঁর গর্জন সিংহের মতো, দাঁত সিংহের, গমন সিংহের, এবং সিংহবাহন তিনি। তিনিই সারসত্তা, জগতের কাল, অবিচল, কল্যাণের বৃক্ষ। তাঁর দেহে হরিণের চিহ্ন, নবচক্রাকৃতি, পতাকাবাহী, পালনকারী। তিনি সকল জীবের আশ্রয়, জীবের স্বামী, দিন-রাত্রি, নিঃদোষ। সমস্ত জীবকে বহন করেন, তিনিই আশ্রয়, সর্বব্যাপী, উৎস। তিনি অক্লান্ত, সংযমী, অশ্বের মতো দ্রুত, পালনকারী ও প্রাণবাহক। তিনি স্থির, জ্ঞানী, দক্ষ, সম্মানিত, যুগের অধিপতি। তিনি গো-রক্ষক, গোসম্পদের প্রভু, গ্রামের অধীশ্বর, চর্মবস্ত্রধারী, অন্ধকার অপসারক। তাঁর বাহু সোনার মতো দীপ্তিমান, গুহার রক্ষক, প্রবেশকারীদের মাঝে। তিনি ভয়ংকর শত্রু, মহাআনন্দ, কামজয়ী, ইন্দ্রিয়নিয়ন্তা। তিনি গান্ধারদেশীয়, সুন্দরবসন, তপস্যারত, মানুষের আনন্দ। তিনি মহান গায়ক, মহা নর্তক, অপ্সরাগণ পরিবেষ্টিত। তিনি মহাপতাকাবাহী, মহাসংবলিত, বহুজনসহ, সদা গতিশীল। তিনি প্রকাশযোগ্য, আদেশ, এবং সকল সুগন্ধের দাতা। তিনি দ্বার, মুক্তিদাতা, বায়ু, পরিবেষ্টন, আকাশচারীদের প্রভু। তিনি সংযোগ, বৃদ্ধিকারী, প্রাচীন, অতি প্রাচীন, গুণে অতুলনীয়। তিনি চিরন্তন, স্বনির্ভর, দেব-দানবের স্বামী, অধিপতি। তিনি সংযুক্ত, বলবান বাহু, দেবতা, দেবগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। তিনি অজেয়, সুদৃঢ়, চিরস্থায়ী, পিঙ্গল, অপসারক। তাঁর রূপ ঘূর্ণায়মান জগতের মাঝে, জ্যোতির্ময়দের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, মহাপথ। তিনি শিরচ্ছেদক, চিন্তাশীল, সর্বমঙ্গলচিহ্নিত। তিনি অবিনশ্বর, সারথি, সকল যোগের অধিপতি, মহাবলশালী। তিনি সমগ্র বেদ, বেদের অতীত, তীর্থদেবতা, মহাসারথি। তিনি প্রাণহীন, প্রাণদাতা, মন্ত্র, মঙ্গলদর্শী, অতি কঠোর। তিনি রত্নসমৃদ্ধ, রক্তবর্ণ অঙ্গ, মহাসাগরের গভীরতা জানেন। তিনি মূল ও বিশালতা, অমর, প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য, তপস্যার আধার। তিনি আরোহী, উত্তরণের কারণ, ধর্মধারক, মহাখ্যাতিমান। তিনি সেনার মতো, মহাযুগের মতো, যোগ, যুগনির্মাতা, ক্লেশ অপসারক। তিনি যুগের রূপ, মহারূপ, বিশাল ও দুর্ভেদ্য, স্বয়ং বিনাশ। তিনি ন্যায়প্রতিষ্ঠাতা, ভিত্তি, জ্ঞানী, পর্বতের মতো স্থির। তিনি বহু মাল্যধারী, মহামাল্যযুক্ত, চন্দ্র, সূর্য-চন্দ্রনয়ন, বিশাল, লবণাক্ত, কূপ, যুগযুগল, তাঁর উদয় ফলদায়ক। তিনি ত্রিনয়ন, বিষচিহ্নিত অঙ্গ, রত্নভূষিত, জটাজুটধারী। তিনি বিন্দু ও বিসর্গ, মঙ্গলমুখ, বাণ, সর্বাস্ত্রধারী, সহিষ্ণু। তিনি অর্ঘ্য, আনন্দোদ্ভূত, সুগন্ধবাহক, মহাধনুর্ধর। তিনি সুগন্ধরক্ষক, দেবতা, সৃষ্টিকর্তা, সকল কর্মের কর্তা। তিনি মন্থনকারী, পরিপূর্ণ, বায়ু, সর্বব্যাপী, সর্বদর্শী। তিনি তাল, তালা, করতাল, বলবান উর্ধ্বাঙ্গ, মহান। তিনি ছাতা, শ্রেষ্ঠ ছাতা, বিখ্যাত, বিশ্ব, সকলের আশ্রয়, বিধান। তিনি মুন্ডিত, বিকৃত, কুব্জ, দণ্ডধারী, কমণ্ডলুবাহী, রূপান্তরকারী। তিনি হর্যক্ষ, দিক, বজ্রধারী, শতজিহ্বা, সহস্রপদ, সহস্রমস্তক, দেবরাজ, সর্বদেবময়, গুরু। তিনি সহস্রবাহু, সর্বাঙ্গ, আশ্রয়দাতা, সকল বিশ্বের স্রষ্টা। তিনি বিশুদ্ধ, ত্র্যক্ষর মন্ত্র, কনিষ্ঠ, শ্যাম ও পিঙ্গল। তিনি ব্রহ্মার দণ্ডস্রষ্টা, শতহন্তা, পাশ, শূলধারী, পদ্মগর্ভ, মহাগর্ভ, ব্রহ্মাগর্ভ, জলজ। তিনি উজ্জ্বল, ব্রহ্মাস্রষ্টা, ব্রহ্মাসংযুক্ত, ব্রহ্মজ্ঞ, ব্রাহ্মণপথ, অনন্তরূপ, বহুরূপ, তেজস্বী, স্বয়ম্ভূ। তিনি ঊর্ধ্বগামী আত্মা, প্রজাপতি, বায়ুর মতো দ্রুত, মনগতিবেগ, চন্দনগন্ধ, পদ্মনালীর শিখর, অতিগন্ধ, পুরুষ। তিনি কর্ণিকারমহামাল্যধারী, নীলশির, পিনাকধারী, উমার স্বামী, উমাপ্রিয়, জাহ্নবীধারী, উমাপতি। তিনি শ্রেষ্ঠ, বরাহ, বরদাতা, সর্বোত্তম, মহাস্বর, মহাদয়া, দমনকারী, শত্রুনাশক, শুভ্র ও পিঙ্গল। তাঁর সত্তা স্বর্ণসম, পরমাত্মা, বিশুদ্ধচিত্ত, প্রকৃতির ধারক। তাঁর আত্মা সন্তুষ্ট, সর্বদিকমুখী, ত্রিনয়ন, ধর্মের ভিত্তি, শ্রেষ্ঠ। তাঁর আত্মা স্থাবর-জঙ্গমে ব্যাপ্ত, সূক্ষ্মাত্মা, অমর, নন্দিবৃষধ্বজ। তিনি সাধ্য, বসু, আদিত্যদের ঋষি, জ্যোতির্ময়, সূর্য, অমর। তিনি ব্যাস, সৃষ্টি, সংক্ষেপ, বিস্তার, পরিবর্তন, মানব; ঋতু, বর্ষ, মাস, পক্ষ, গণনার সমাপ্তি। তিনি কালা, কাষ্ঠা, লব, মাত্রা, মুহূর্ত, দিন, রাত্রি, ক্ষণ; বিশ্বক্ষেত্র, সকল জীবের বীজ, আদিলিঙ্গ, সকল উদয়নের মূল। তিনি অস্তিত্ব-অনস্তিত্ব, প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য, পিতা, মাতা, পিতামহ; স্বর্গদ্বার, জীবদ্বার, মুক্তিদ্বার, পরমধাম। তিনি নির্বাণ ও আনন্দ, ব্রহ্মলোক ও শ্রেষ্ঠপথ; দেব-দানবের স্রষ্টা ও তাদের পরমাশ্রয়। তিনি দেব-দানবের গুরু, তাদের পূজ্য, তাদের মধ্যে মহামাপ, দেব-দানবের আশ্রয়। তিনি দেব-অসুরগণের তত্ত্বাবধায়ক, তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, দেবতাদের ঊর্ধ্বস্থ, দেবঋষি, দেব-দানবকে বরদানকারী। তিনি দেব-অসুরদের অধিপতি, সর্বব্যাপী, মহাদেব, সর্বদেবময়, অচিন্ত্য, দেবশক্তির আত্মা, স্বয়ম্ভূ। তিনি অঙ্কুরদাতা, ত্রিবিক্রম, চিকিৎসক, নির্মল, কলঙ্কহীন, অমর, বন্দনীয়, গজরাজ, বাঘ, দেবতাদের মধ্যে সিংহ, পুরুষদের মধ্যে বৃষ। তিনি জ্ঞানী, সর্বোত্তম, সূক্ষ্ম, সর্বদেবময়, তপস্যার সার, সুসজ্জিত, দীপ্তিমান, বজ্রধারী, শূলের উৎস, অবিনশ্বর। এভাবেই, এই সকল গুণ, রূপ ও মহিমায় তিনি—শিব—সকল সৃষ্টির অন্তর্যামী, আশ্রয়, এবং চিরন্তন সত্য।