আশ্বিন যুগল দেবতার বন্দনা দিয়ে এই কাহিনী শুরু হয়। তাঁদের প্রশংসা করা হয়—তাঁদের গৌরব যেন দ্রুতগামী ঘোড়ার মতো। আহ্বান জানানো হয়, যেন তাঁরা মধুমিশ্রিত, সদ্য নিঃসৃত সোম পান করতে আসেন এবং যিনি গাভী কামনা করেন, সেই যজ্ঞকারীর গাভী রক্ষা করেন। তাঁদের অনুরোধ করা হয়, যেন তাঁরা উষ্ণ, মধুর সোম পান করেন, পূত আসনে বসেন এবং মানবের গৃহে এসে জ্ঞান দিয়ে সন্তানদের রক্ষা করেন। প্রিয়মেধ তাঁদের সমস্ত সহায় নিয়ে ডেকেছেন, যেন তাঁরা সুসজ্জিত আসনে এসে স্বর্গীয় দেবতাদের মধ্যে যজ্ঞ গ্রহণ করেন। আবারও তাঁদের ডাকা হয়, যেন তাঁরা আনন্দ সহকারে মধুমিশ্রিত সোম পান করেন, সুপ্রশংসিত যজ্ঞস্থলে আসেন এবং স্বর্গ থেকে যিনি গাভী কামনা করেন, তাঁর জন্য আসেন। এরপর তাঁদের আহ্বান করা হয়, যেন তাঁরা তাঁদের জল ছিটানো ঘোড়াগুলো নিয়ে, সোনালী চক্রযুক্ত রথে চড়ে, সত্যের দ্বারা বর্ধিত হয়ে, সোম পান করেন। প্রার্থনা করা হয়, জ্ঞান ও অনুপ্রেরণাময় বাক্যে, যেন তাঁরা শক্তি লাভের জন্য আসেন। আশ্বিন যুগল, যাঁরা বহু কর্মের অধিকারী ও আনন্দদায়ক, তাঁদের ডাকা হয়, জ্ঞান নিয়ে যেন তাঁরা আহ্বানে সাড়া দেন। এরপর কাহিনী ঘুরে যায় ইন্দ্রের দিকে, যিনি অমর, আশ্চর্য, আনন্দদায়ক এবং বলবর্ধক পানীয়ের আনন্দ। তাঁকে গীতিতে বন্দনা করা হয়, যেমন গোশালা থেকে বাছুরকে ডাকে গাভীরা। তাঁকে কামনা করা হয়, যিনি দানশীল, দীপ্তিমান, শক্তিতে ঘেরা, পাহাড়ের মতো উপহারবহুল, দ্রুতগামী এবং হাজারগুণে গবাদি পশু দান করেন। ইন্দ্রের শক্তিকে কেউই বাধা দিতে পারে না—না প্রবল, না দুর্বল। যিনি যজ্ঞকারীর কামনার প্রতিদান দেন, তাঁর দান কেউ কমাতে পারে না। ইন্দ্র ইচ্ছাশক্তিতে যোদ্ধা, কর্ম ও শক্তিতে অতুলনীয়, সমস্ত সত্তার ঊর্ধ্বে। এই স্তোত্র তাঁরই সাহায্য চায়, যাঁকে গোতমরা জন্ম দিয়েছেন। তিনি স্বর্গের কিনারা থেকে শক্তি নিয়ে ছুটে এসেছেন, কোনো পৃথিবীর সীমা তাঁকে থামাতে পারেনি; তিনি নিজ স্বভাবেই অবস্থান করেন। তাঁর দানের কোনো সীমা নেই; যাঁকে তিনি সন্তুষ্ট করেন, তিনি আনন্দিত হন। ইন্দ্র যেন আমাদের জাগ্রত করেন, সর্বোচ্চ শক্তি লাভের জন্য। এরপর মারুৎগণকে আহ্বান করা হয়, যেন তাঁরা ইন্দ্রের প্রশংসা করেন—যিনি বৃত্রবধকারী, যাঁর দ্বারা দেবতারা দেবতাদের জন্য দিব্য আলো জাগিয়ে তুলেছেন। ইন্দ্র, অভিশাপ বিনাশী ও কলঙ্ক দূরকারী, মহিমায় উজ্জ্বল হয়ে উঠেছেন; দেবতারা তাঁকে বন্ধু হিসেবে বেছে নিয়েছেন। আবারও মারুৎগণকে বলা হয়, তাঁরা যেন গীতিতে ইন্দ্রের বন্দনা করেন; তিনি শতশক্তিমান, শতসংযোজিত বজ্র দিয়ে বৃত্রকে বিনাশ করেন। তাঁদের সাহসী মন জাগিয়ে তুলতে বলা হয়, যেন ইন্দ্রের জন্য খ্যাতি হৃদয়ে বাস করে; দ্রুত প্রবাহিত জল যেন মাতার মতো তাঁর জন্য ছুটে আসে—বৃত্রকে বিনাশ করে স্বর্গ জয় করুন। ইন্দ্র যখন জন্মগ্রহণ করেন, বৃত্রবধের জন্য, তখন তিনি পৃথিবীকে বিস্তৃত করেন ও আকাশকে সমর্থন করেন। তখনই যজ্ঞ, স্তোত্র ও ক্রিয়া জন্ম নেয়; তিনি যা কিছু আছে, ছিল এবং হবে, তার চেয়েও শ্রেষ্ঠ। তাঁর জন্য সিদ্ধ আহুতি অর্পণ করতে বলা হয়, সূর্যকে আকাশে তুলে ধরতে, যেন মহাদানপ্রিয় দেবতার কাছে উপহার প্রীতিকর হয়। ইন্দ্র যেন আমাদের যজ্ঞে, সভায়, সর্বত্র অলংকৃত করেন, গীতিতে ও সোমার্পণে আসেন, তিনি শক্তিতে শ্রেষ্ঠ, প্রশংসায় তৃষ্ণ। তিনি ধনদানে প্রথম, প্রকৃতপক্ষে শক্তিশালী; তাঁকে বেছে নেওয়া হয় শক্তিশালী পুত্রের সহচর হিসেবে। ইন্দ্র, গীতিপ্রেমী, তোমার জন্য এই স্তোত্র রচিত—অতুলনীয় ও আশ্চর্য; তুমি যেন এগুলো গ্রহণ করো, তোমার পিঙ্গল ঘোড়াসহ। তিনি অটল, বিমুখ নন, বহু বৃত্রকে বিনাশ করেছেন; বজ্র হাতে, নিকটবর্তী পূজারীকে ধন দান করুন। তিনি খ্যাতিমান, কর্মে দ্রুত, জাতিসমূহের অধিপতি, একাই সমস্ত বৃত্রকে প্রতিরোধহীনভাবে বিনাশ করেন। এখন, জ্ঞানী স্বামী, আমরা তোমায় আমাদের অংশ হিসেবে চাই, যেন তোমার মহান রক্ষা আমাদের ঢেকে রাখে—তোমার কৃপা আমাদের কাছে আসুক। এরপর এক কুমারী, দক্ষতায় পারঙ্গম, ভালোমতো ছাঁকা সোম খুঁজে পান। তিনি সেটি স্থানে আনেন এবং বলেন, “আমি তোমায় ইন্দ্রের জন্য নিঃসৃত করবো, শক্রর জন্য নিঃসৃত করবো।” এই নবীন বীর, যিনি গৃহে গৃহে দীপ্তিময় হয়ে আসেন—তাঁকে বার্লি, দধি, পিঠা ও স্তোত্র মিশ্রিত সোম পান করতে বলা হয়। তাঁকে যত্ন ও স্নেহে পালন করা হবে; সোম যেন ইন্দ্রের জন্য ধীরে ধীরে প্রবাহিত হয়। কে জানে, কে করে, কে আমাদের ধন দেয়? আমরা যেন ইন্দ্রের সঙ্গে আমাদের শত্রুদের জয় করি। ইন্দ্রকে বলা হয়, এই তিনটি ক্ষেত্র বৃদ্ধি করুন; ওই ব্যক্তির মাথা নিচে থাকুক, আর এইটা আমার গর্ভে থাকুক। যে ক্ষেত্র এই দেহ গ্রহণ করে না, এবং যার মাথা ওই ব্যক্তির, তাদের সবাইকে লোমশ করে দিন। রথের আকাশে, অক্ষের আকাশে, যুয়ের আকাশে, শতশক্তিমান ইন্দ্র তিনবার অপালা-কে সূর্যের মতো ত্বক দিয়ে শুদ্ধ করেছেন। পুনরায় সবাইকে আহ্বান করা হয়, ইন্দ্রের জন্য গান গাও, আমাদের সোম রক্ষার জন্য; আমি সর্বশক্তিমান, সর্বশ্রেষ্ঠ ইন্দ্রকে বন্দনা করি। তাঁকে ডাকা হয়, যিনি বহুবার আহ্বানপ্রাপ্ত, বহুবার প্রশংসিত, প্রাচীন কীর্তিমান; তাঁকে ‘ইন্দ্র’ নামে স্মরণ করা হয়। ইন্দ্র আমাদের জন্য পুরস্কারদাতা, বীরদের নেতা; তিনি তাঁর মহাশক্তিতে শত্রু দমন করেছেন। জ্ঞানী, দক্ষ, দানশীল যজ্ঞকারীর নিঃসৃত সোম ইন্দ্র, বার্লির দাড়ি-সহ, পান করেছেন। তাঁকে আবার আহ্বান করা হয়, সোমপানের জন্য; সেটিই তাঁর আহার। এই আনন্দদায়ক সোম পান করে, দেবতা তাঁর শক্তিতে সমস্ত জগতের স্বামী হয়ে উঠেছেন। নিজেদের জন্য সেই ইন্দ্রকে ডাকো, যিনি শত্রুসমূহকে দমন করেন, সমস্ত স্তোত্র দিয়ে, সাহায্য পাওয়ার জন্য। তিনি অপরাজেয়, সোমপায়ী, অচঞ্চল, অদম্য সংকল্পের অধিকারী। এভাবেই আশ্বিন যুগল, ইন্দ্র, মারুৎ ও অন্যান্য দেবতাদের বন্দনা, আহ্বান ও কৃতজ্ঞতায় এই কাহিনী প্রবাহিত হয়—সত্য, শক্তি, জ্ঞান ও কল্যাণের জন্য।