অশ্বিন যুগল দেবতাদের প্রতি এক গভীর আহ্বান জানানো হলো। তাঁদের সোনালী রথে আরোহণ করতে বলা হলো, সেই রথে রয়েছে অপার সম্পদ ও পুষ্টির দান। যেসব আশ্চর্য শক্তির দ্বারা তাঁরা অতীতে পাক্থা, অধ্রিগু ও বাবহ্রুকে বিপদ থেকে রক্ষা করেছিলেন, সেই সব আশীর্বাদ ও উপায় নিয়েই যেন তাঁরা দ্রুত এসে দুঃখী ও রোগাক্রান্তদের আরোগ্য করেন। অধ্রিগুর গো-মাতাগণ যখনই সংকটে পড়ে, তখনও মানুষ গীত ও স্তব দ্বারা অশ্বিনদের আহ্বান করে, কারণ তাঁরা গানের কৌশলে পারদর্শী। এই শক্তিশালী অশ্বিনদের ডাকা হয়, যেন তাঁরা সর্বত্রগামী, সর্বশক্তিমান হয়ে, মহাদান ও পুষ্টি নিয়ে, যেমন করে তাঁরা কৃপিকে উন্নত করেছিলেন, তেমনিভাবে আসেন। যিনি স্তব করেন, তিনি আজও সেই একই উপায়ে অশ্বিনদের স্মরণ করেন ও শ্রদ্ধায় নত হন। ভোরবেলা, সূর্যোদয়ে, যাত্রাপথে, রুদ্রের অনুগ্রহে, এবং দ্রুতগামী অশ্বিনদের কাছে প্রার্থনা করা হয়—তাঁরা যেন তাঁদের ভক্তদের কোনো শত্রুর কাছে কিংবা রুদ্রের ক্রোধের কাছে প্রকাশ না করেন। সহজগামী পথে, সকালে, রথে কিংবা শক্তিতে, এক পুত্র যেমন স্নেহে তাঁর পিতাকে ডাকে, তেমনিভাবে অশ্বিনদের ডাকা হয়। তাঁরা যেন মন-দ্রুতিতে, আনন্দে, দূর থেকেও দ্রুত এসে বহু উপহারে সাহায্য করেন। অশ্বিনদের কাছে প্রার্থনা করা হয়, যেন তাঁরা ঘোড়ায় পূর্ণ পথ, গাভী, সোনা ও মধুময় উপহার নিয়ে আসেন। তাঁদের অসাধারণ পুরস্কার, বীরত্ব ও অজেয় ধন যেন ভক্তরা লাভ করে, অশ্বিনদের আগমনে সমস্ত কল্যাণ যেন প্রাপ্ত হয়। এরপর পৃথিবীর কৃপা কামনায় যজ্ঞের আগুন, জাতবেদাসের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানানো হয়, যার ধোঁয়া ওঠে, যার শিখা ধরাছোঁয়ার বাইরে। অগ্নি, যিনি সকল জাতির বশকারী, সকল মনকে আকৃষ্ট করেন, তাঁর গান ও রথের প্রতিযোগিতার প্রশংসা করা হয়। যাঁর কাছে কোনো বাধা নেই, যাঁর পুষ্টি ও সমৃদ্ধি অবারিত, অগ্নি যজ্ঞে ধন আনেন। তাঁর শিখা দীপ্তিমান, অবিনশ্বর, উজ্জ্বল; তিনি দেবতাদের সেনাপতি, আলোয় ভাস্বর। অগ্নিকে ডাকা হয়, যেন তিনি সঠিক আচরণে, দেবীর দয়ার সঙ্গে, তাঁর মহাজ্যোতিতে উদ্ভাসিত হন। অগ্নি যেন সদা প্রশংসায়, উপহার বহন করে, বারবার যজ্ঞে আসেন, কারণ তিনি দেবতাদের বার্তাবাহক। মানুষের প্রাচীন পুরোহিত অগ্নিকে স্তব ও কণ্ঠে পূজা করা হয়। বিস্ময়কর শক্তির অধিকারী অগ্নিকে, যাঁকে সদাশয়রা জাগিয়ে তোলে, যিনি মানুষের বন্ধু, সত্যে অবিচল—তাঁকে যজ্ঞে আহ্বান করা হয়। অমর, ঋতনিষ্ঠ, যজ্ঞকার্যকারী দেবতারা শ্রদ্ধার আসনে বসে অগ্নির কাছে আসেন। সুসংগঠিত যজ্ঞ যেন সর্বশ্রেষ্ঠ অঙ্গিরসের কাছে পৌঁছায়, যিনি মানুষের মধ্যে সর্বাধিক খ্যাতিমান পুরোহিত। অগ্নির সেই অবিনশ্বর, উজ্জ্বল শিখা যেন বলবান অশ্বের মত শক্তিশালী। তিনি যেন আমাদের বংশ, সন্তান, সংগ্রামে রক্ষা করেন, ধন ও বীরত্ব দান করেন। যখন অগ্নি, মানুষের মধ্যে প্রিয়, শাণিত, সমস্ত বিপদ দূর করেন, তখন তাঁর কাছে নতুন স্তব পৌঁছায়—তিনি যেন মন্ত্রবলে, অসুর-রাক্ষসদের দগ্ধ করেন। যিনি অগ্নিকে অর্ঘ্য দেন, তাঁকে কোনো শত্রু কখনো ছলনায় পরাজিত করতে পারে না। ধনপ্রার্থী ঋষি অগ্নিকে প্রশংসা করেন, কারণ তিনি ধনদাতা; মহাধনের জন্য তাঁকে জ্বালানো হয়। ঊষণা কাব্য অগ্নিকে পুরোহিত হিসেবে নিযুক্ত করেছিলেন; যজ্ঞকার্য সম্পাদনের জন্য, মানবের জন্য জাতবেদাসকে বেছে নিয়েছিলেন। সকল দেবতা অগ্নিকে তাঁদের বার্তাবাহক করেন; তিনি প্রথম, যজ্ঞযোগ্য, শ্রবণযোগ্য দেবতা হয়ে উঠেন। মানুষ যেন এই অমর, দীপ্তিমান, কালো পথচিহ্নিত, আকাশে ওঠা অগ্নিকে বার্তাবাহক করেন। তাঁকে ডাকা হয়, যাঁর চামচ প্রস্তুত, যিনি উজ্জ্বল, বিশুদ্ধ শিখাধারী—অগ্নি, যিনি সকল মানুষের, চিরন্তন, প্রাচীন, প্রশংসার যোগ্য। যিনি অগ্নিকে অর্ঘ্য দেন, তিনি প্রচুর পুষ্টি ও বীরত্ব লাভ করেন। জাতবেদাস অগ্নি, যিনি যজ্ঞে প্রথম, প্রাচীন, তাঁর উদ্দেশে শ্রদ্ধাভরে অর্ঘ্য দেওয়া হয়। শ্রেষ্ঠ, প্রাচুর্যময়, জ্ঞানী স্তব দিয়ে অগ্নিকে সেবা করা হয়, যিনি দীপ্তিমান শিখা, অশ্বে সমৃদ্ধ। এখন ঋষি বৈয়শ্বের নবীন অগ্নিকে উচ্চ স্তব ও স্তম্ভে পূজা করা হয়। জ্ঞানীরা অগ্নিকে, মানবজাতির চিরন্তন অতিথি, বনবৃক্ষের সন্তানকে সহায়তার জন্য ডাকেন। অগ্নি মানুষের সব অর্ঘ্যের মাঝে, মহিমায় পরিবেষ্টিত, কুশাসনে শ্রদ্ধাভরে বসেন। তিনি যেন বহু অভীষ্ট বর, বহু ধন, বহু সন্তান, বীরত্ব ও খ্যাতি দান করেন। দানশীলদের প্রতি আশীর্বাদ বর্ষণ করেন, সর্বদা নবীন বসু, পূজারীর জন্য দানপ্রবণ করেন। কারণ তিনি নিশ্চিত রক্ষক; তিনি যেন গবাদি পশুতে সমৃদ্ধ, বিপুল ধন দেন। অগ্নি, তুমি এই যজ্ঞের গৌরব বহন করো; মিত্র ও বরুণ, ধার্মিক ও পবিত্র জ্ঞানী দুই রাজাকে এখানে নিয়ে এসো। এভাবেই ভক্তেরা অশ্বিন ও অগ্নির কাছে আশ্রয় ও কল্যাণের প্রার্থনা করেন, তাঁদের কীর্তি ও করুণায় জীবনকে আলোকিত করেন।