অশ্বিন যুগল দেবতাদের উদ্দেশ্যে এক নিবেদিত প্রাণ ঋষি তাঁর হৃদয়ের গভীর প্রার্থনায় আরম্ভ করলেন, “হে অশ্বিন যুগল, আমাদের সকল আশীর্বাদ বিলম্ব না করে দান করুন; আমাদের যজ্ঞ সম্পন্ন হোক আপনাদের অনুগ্রহে, আমাদের থেকে কখনো মুখ ফিরিয়ে নেবেন না। হে নাসত্য, আপনারা যেখানেই থাকুন, দূর দেশে বা আকাশের উচ্চতায়, সেখান থেকেই আপনাদের সহস্রপথ চক্রবাহন রথে আমাদের কাছে আসুন। আপনারা যাঁদের ঋষি, যিনি গীতিতে বলবান, সেই বৎসকে হাজারগুণ, ঘৃতবাহ আশীর্বাদ দিন। তাঁকে দিন ঘৃতস্রোতা শক্তি, যিনি আপনাদের কৃপায় আনন্দিত, দানপ্রিয় দেবতা, যিনি ঐশ্বর্য কামনা করেন। হে অশ্বিন যুগল, স্তোত্রে আনন্দিত হয়ে আমাদের কাছে আসুন, আপনাদের প্রিয় উপহার দিন, আমাদের চিত্তাকাঙ্ক্ষিত বস্তু দান করুন। সমস্ত সাহায্য নিয়ে প্রিয়মেধ আপনাদের আহ্বান করেছেন; হে যজ্ঞপতি, আমাদের আহ্বানে আসুন। আনন্দ ও সুখ নিয়ে আসুন, আমাদের বৎসের কাছে যিনি গীতিতে বলবান। যেমন আপনারা কণ্ব, মেধাতিথি, বসা, দশব্রজ এবং গোশার্যকে রক্ষা করেছিলেন, তেমনি আমাদেরও রক্ষা করুন। যেমন ত্রসদস্যুকে ধনযুদ্ধে সাহায্য করেছিলেন, সেই শক্তি দিয়ে আজ আমাদেরও শক্তি লাভে রক্ষা করুন। আপনাদের প্রশস্তি, সুন্দরভাবে গাওয়া স্তোত্র, হে অশ্বিন যুগল, উর্ধ্বে উঠুক; আপনারা বহু শত্রুর উপর বিজয়ী, আমাদের কাছে বহু স্থানে কাম্য হয়ে উঠুন। অশ্বিন যুগলের তিনটি পদ প্রকাশিত, অন্যগুলি গুপ্ত; জ্ঞানীরা সত্যপথে জীবনের সীমা ছাড়িয়ে পৌঁছান। এখন, হে অশ্বিন, বৎসের সাহায্যে আসুন; তাকে অক্ষয়, বিস্তৃত রক্ষা দিন এবং শত্রুদের দূরে সরিয়ে দিন। মধ্যকাশে, স্বর্গে, বা মানুষের মধ্যে যত শক্তি আছে, সেই সমস্ত শক্তি আমাদের দিন, হে অশ্বিন। যাঁরা আপনাদের আশ্চর্য কীর্তি অনুধাবন করেছেন, তাঁরা যেন কণ্বর স্তোত্রে মনোযোগী হন। আপনাদের জন্য এই গরম পানীয়, এই মধুময় সোমার্পণ, যেটি দিয়ে আপনারা শত্রুকে চিনেছিলেন। জল, বৃক্ষ, ও ঔষধিতে আপনারা যেটুকু শক্তি রেখেছেন, তাই দিয়ে আমাদের রক্ষা করুন। আপনারা যেসব চিকিৎসাশক্তি ও দেব-চিকিৎসার অধিকারী, কেবল চিন্তা দিয়ে আপনাদের পাওয়া যায় না, যিনি আহুতি দেন, তাঁর কাছেই আপনি যান। এখন ঋষি ভক্তি সহকারে অশ্বিন যুগলের জন্য স্তোত্র রচনা করেছেন; তিনি অত্রির জন্য মধুরতম সোমার্পণ করুন। এখন, হে অশ্বিন, আপনারা দ্রুতগামী রথে আরোহণ করুন; আমার এই স্তোত্র আপনাদের উদ্দেশ্যে উঠুক, যেমন আকাশ কখনো পতিত হয় না। আজ আপনাদের যা কিছু প্রশস্তি, বাক্য নিবেদন করি, তাই শুনুন, কণ্বর স্তোত্রে মন দিন। কক্ষীবত, ব্যশ্ব ঋষি, দীর্ঘতমা, অথবা ভেনপুত্র পৃথী যেখানেই আপনাদের আহ্বান করেছেন, তেমনি আপনারা সব জানেন। রক্ষক হয়ে আসুন, আমাদের রক্ষা করুন; পৃথিবী ও দেহের রক্ষক হোন; আমাদের সন্তান-সন্ততির জন্য আসুন। ইন্দ্রের সঙ্গে এক রথে, বা বায়ুর সঙ্গে, অথবা আদিত্য ও ঋভুদের সঙ্গে, কিংবা বিষ্ণুর পদক্ষেপে থাকুন, যেখানেই থাকুন, আমাদের কাছে আসুন। আজ, হে অশ্বিন, আপনাদের ডাকি শক্তি লাভের জন্য; যুদ্ধে তুর্বণকে আপনারা শ্রেষ্ঠ সাহায্য দিন। এই আহুতি আপনাদের জন্য নিবেদিত; এই সোমা তুর্বশার জন্য, এবং যখন আপনারা কণ্বরদের আনন্দিত করেন। হে নাসত্য, দূরে বা কাছে যেসব চিকিৎসা আছে, তাই দিয়ে আমাদের রক্ষা করুন, আমাদের আনন্দ দিন, বৎসকে আশ্রয় দিন। অশ্বিন যুগলের ঐশ্বর্যপূর্ণ বাক্যে আমি সমৃদ্ধ হয়েছি; দেবী মানুষের মধ্যে জ্ঞান ও কৃপা বিস্তার করেন। জাগো, হে অশ্বিন, দেবতুল্য, কৃপাশীল, শক্তিশালী; যজ্ঞকারগণও জাগো, মহাসম্পদ ও আনন্দের জন্য। যখন আপনারা সূর্যের সঙ্গে দীপ্তি নিয়ে চলেন, তখন অশ্বিন যুগলের রথ মানুষের পথে গতি করে। যখন ভাগ্য পানীয় পান করা হয়, গাভীর দুগ্ধের মতো, অথবা গায়করা প্রশস্তি গায়, তখন দেবতারা অশ্বিন যুগলকে পূজা করেন। গৌরব, খ্যাতি, বীরত্বপূর্ণ রক্ষা, দক্ষতা, ও জ্ঞানের জন্য। যখনই, হে অশ্বিন, আপনারা পিতার গর্ভে চিন্তা বা মধুর বাক্যে আসীন হন। আপনারা দূর বিস্তারে, দীপ্তিময় স্বর্গে, অথবা সমুদ্রতীরে গৃহে থাকুন, এখানে আসুন, হে অশ্বিন যুগল। আপনারা মনুর যজ্ঞে যোগ দিতে চান, অথবা কণ্বরদের জন্য জাগেন, আমি সমস্ত দেবতাকে ডাকি—বৃহস্পতি, ইন্দ্র, বিষ্ণু ও অশ্বিন যুগলকে শক্তিশালী স্তোত্রে। হে অশ্বিন, আপনাদের ডাকি, যাঁরা শুভ পরামর্শদাতা, গৃহে প্রতিষ্ঠিত; দেবতাদের মধ্যে যাঁদের বন্ধুত্ব আমাদের জন্য প্রশংসার যোগ্য। যাঁদের উপর যজ্ঞ ও আহুতি নির্ভর করে, দীপ্তিমান, যাঁরা নিজেদের শক্তিতে মধুর সোম পান করেন যজ্ঞে। আজ, হে অশ্বিন, দূর থেকে আহ্বান করা হোক, অথবা আপনারা অশ্বদানকারী; দ্রুহ্যু, তুর্বশা, বা যাদুদের মধ্যে থাকুন, আমি আপনাদের ডাকি—আমাদের কাছে আসুন। আপনারা মধ্যকাশে উড়ুন, দাতা, অথবা এই দুই পৃথিবী অতিক্রম করুন; অথবা নিজের শক্তিতে রথে দাঁড়িয়ে থাকুন, এখানে আসুন, হে অশ্বিন যুগল। অগ্নি, আপনি প্রতিজ্ঞার রক্ষক, দেবতাদের মধ্যে মানুষের জন্য; যজ্ঞে আপনি প্রশংসার যোগ্য। আপনি সভায় প্রসিদ্ধ, শক্তিমান; অগ্নি, আপনি যজ্ঞের রথচালক।” এভাবেই ঋষির হৃদয়ের অন্তর থেকে উৎসারিত হল অশ্বিন যুগলের প্রতি অকৃত্রিম প্রার্থনা ও প্রশস্তি, তাঁদের আগমন, কৃপা, রক্ষা, শক্তি ও জ্ঞানের জন্য আকুল আহ্বান। দেবতারা যেন আবারও তাঁদের ভক্তের ডাকে সাড়া দিয়ে, অমৃত আশীর্বাদে সমস্ত যজ্ঞ ও মানবজীবন পূর্ণ করেন।