একদিন, ঋষিরা পবিত্র যজ্ঞে বসেছেন। তাঁরা দেবতাদের উদ্দেশ্যে নানা আহুতি দিচ্ছেন, নানা উপাদান দিয়ে। তারা গোমুখ, যবের শীর্ষ এবং সোমার অংশ গ্রহণ করে বললেন, “হে বাতাপি, তুমি আমাদের অন্তরে পুষ্টি দাও।” ঔষধি, খিচুড়ি, বৃক্ক ও মজ্জার মতো পুষ্টিকর হয়ে ওঠো, বাতাপি, আমাদের হৃদয়ে পুষ্টি দাও। তাঁরা পিতার মতো দেবতাকে আহ্বান করলেন, যেমন গাভীরা তাদের প্রিয় আহুতি গ্রহণ করে, তেমনি আমরা তোমাকে চাই, দেবতাদের সঙ্গে উৎসবে আমাদের সঙ্গী হও। আজকের দিনে, অগ্নি দেবতা প্রজ্বলিত হয়ে দেবতাদের মধ্যে বিজয়ী হয়ে উঠলেন। তিনি জ্ঞানী দূত, যিনি আহুতি বহন করেন। যখন তনুনাপাতের জন্য মধুর দ্বারা যজ্ঞ প্রস্তুত হয়, তখন তিনি অসংখ্য ধন-সম্পদ প্রদান করেন। তিনি প্রশংসার যোগ্য, যিনি দেবতাদের আহ্বান করেন, অগ্নি, তোমার হাজার গুণ শক্তি আছে। ঋষিরা প্রাচীন কুশ ঘাস বিছিয়ে, হাজার বীরের শক্তি দিয়ে, সেই স্থানে আদিত্যরা দীপ্তি ছড়ান। উজ্জ্বল, রাজসিক, শক্তিশালী, প্রচুর স্রোত—সবই ঘৃতের প্রবাহে চলেছে। সুন্দরভাবে সাজানো আসনে, সৌন্দর্য্যে দীপ্ত, সেখানে ঊষা দেবীরা বসুন। প্রথম, বাচাল, দেবীয় পুরোহিতরা—তারা যেন আমাদের যজ্ঞ গ্রহণ করেন। ভারতী, ইলা, সরস্বতী এবং যাদের আহ্বান করেছি—তারা যেন আমাদের গৌরবময় করে তোলেন। ত্বষ্টৃ, শাসক, সকল রূপ ও জীব সৃষ্টি করেছেন; তিনি যেন আমাদের জন্য তাদের প্রাচুর্য প্রদান করেন। হে অরণ্যের অধিপতি, তোমার রস দেবতাদের জন্য প্রবাহিত হোক; অগ্নি যেন আহুতি বহন করেন। অগ্নি, দেবতাদের নেতা, গায়ত্রীর সঙ্গে যুক্ত; তিনি স্বাহা উচ্চারণে দীপ্তি ছড়ান। অগ্নি, তুমি আমাদের কল্যাণের পথে নিয়ে যাও, সকল পথ জানো, আমাদের কুটিল পাপ থেকে দূরে রাখো। আমরা তোমাকে সর্বোচ্চ প্রশংসা নিবেদন করি। অগ্নি, তোমার আশীর্বাদে আমাদের সকল কষ্ট পার করিয়ে দাও; পুষণ এবং বিস্তৃত পৃথিবী যেন আমাদের সন্তানদের প্রতি সদয় হন। অগ্নি, আমাদের সকল শত্রুতা দূর করো—চাই তারা অগ্নিহীন হোক বা বৈরী গোষ্ঠী; আমাদের কল্যাণের জন্য, দেবতাদের সঙ্গে আবার আমাদের ভূমি দাও। অগ্নি, তুমি আমাদের অটুট সুরক্ষা দাও; তোমার প্রিয় আসনে দীপ্তি ছড়াও। পূজারিকে যেন কখনও ভয় না আসে; আমরা যেন তোমার আরও শক্তি জানতে পারি। অগ্নি, দুষ্ট, শত্রু বা কুটিল ব্যক্তি যেন আমাদের পরাস্ত না করে; চোর, প্রতারক, অপবাদদাতা যেন আমাদের ক্ষতি না করতে পারে। তুমি তাদের দূরে সরিয়ে দাও, হে শক্তিশালী। তুমি সত্য থেকে জন্ম নিয়ে গায়ককে তার নিজের জন্য সুরক্ষা দাও; তুমি সকল ক্ষতিকর ইচ্ছার প্রতিরোধ, বিশ্বরক্ষক। অগ্নি, তুমি দুই পক্ষ জানো, মানুষের জন্য প্রাচীন পথ খুঁজে বের করো; তোমাকে মান্য করতে হয়, তুমি অনুপ্রাণিত ঋষিদের নেতা। আমরা এই বাক্যগুলি মনের পুত্রের সামনে, মহা অগ্নিতে উচ্চারণ করেছি; যেন আমরা হাজার ঋষির সঙ্গে শক্তি অর্জন করি এবং এই পুষ্টি-দাতা জনগণকে জানি। তাঁরা বৃহস্পতি, সেই নম্র জিহ্বা বিশিষ্ট বলদকে নবীন স্তোত্রে উচ্চ করে তুললেন, যার গান উজ্জ্বল, দেবতারা যার কথা শোনেন, আর মানুষ নব মন নিয়ে শ্রবণ করেন। পুরোহিতরা তাদের কণ্ঠ যুক্ত করেন, দেবতাদের প্রতি নিবেদিতরা প্রবাহের মতো; বৃহস্পতি দ্রুত ও শক্তিশালী, মাতারিশ্বান তাকে স্মরণ করেন। তাঁকে প্রশংসা, শ্রদ্ধা ও উচ্চতা নিবেদন করা হয়, যার স্তোত্র সূর্য দেবতার বাহুর মতো ওঠে; তার সংকল্পে তিনি অনন্য, বন্য জন্তুর মতো কঠোর, শক্তিশালী, এবং ক্ষতি থেকে রক্ষক। তার স্তোত্র স্বর্গ ও পৃথিবীতে প্রতিধ্বনি তোলে, যেমন রথচালকের গান অদৃশ্য ভার বহন করে; বন্য জন্তুর পদচিহ্ন যেমন চলে, তেমনি বৃহস্পতির শক্তি মেঘকে পরাস্ত করে। যারা ভাবেন তুমি দুর্বল, তারা বৃহস্পতির কাছে সৌভাগ্যের জন্য আসে, তারা সমৃদ্ধ হয়; তুমি যোগ্যকে দান withheld করো না, বিনীতকেও অনুগ্রহ করো। উদারদের পথ যেন সুপ্রশস্ত হয়, সহজে সন্তুষ্ট বন্ধুর মতো; যারা দুর্বল নয়, আমাদের প্রতি সদয়, তারা পূর্ণতা পায়, প্রাচুর্য অর্জন করে। যে স্তোত্র গাওয়া হয়, তা লক্ষ্যচ্যুত হয় না, যেমন জল বাধাহীন সমুদ্রে যায়; বৃহস্পতি, দুই দিক জানেন, অন্তরে উপলব্ধি করেন, শকুনের মতো জল অতিক্রম করেন। এভাবেই বৃহস্পতি, মহত্ব থেকে জন্ম, বলদ, দেবতা, প্রতিষ্ঠিত; তিনি যেন আমাদের প্রশংসায় বীরত্ব ও গবাদি পশু দেন, আর আমরা যেন এই পুষ্টি-দাতা জনগণকে জানি। তারপর, অদৃশ্যদের কাহিনি শুরু হয়। বকের ডাকের মতো, আবার বকের ডাক, আর সাতিনা-বকের ডাক। দু’জন বলে, ‘প্লুষি’, অদৃশ্যরা এসে স্থির হয়েছে, কিন্তু স্পর্শ করেনি। অদৃশ্যরা আগতদের আঘাত করে, প্রস্থানকারীদেরও; ওপর থেকে আঘাত করে, আবার চূর্ণ ও দমন করে। তীর, মিথ্যা তীর, ঘাস ও নল; মুঞ্জা ঘাস, অদৃশ্য শত্রুরা—সবই একত্রে স্থির হয়েছে, কিন্তু স্পর্শ করেনি। গাভীরা গোশালায় স্থিত, বন্য জন্তু ঘুরে বেড়ায়; মানুষের মধ্যে চিহ্ন, অদৃশ্যরা স্থিত, কিন্তু স্পর্শ করেনি। এরা সন্ধ্যায় আসে, চোরের মতো; অদৃশ্যরা, সকলের দেখায়, জাগ্রত হয়েছে। তোমাদের পিতা স্বর্গ, মা পৃথিবী, ভাই সোম, বোন অদিতি; অদৃশ্যরা, সকলের দেখায়, দাঁড়িয়ে আছে, তোমরা যেন সুন্দরভাবে চলো। যারা কাঁধে, যারা অঙ্গের ওপর, যারা সূচের মতো, যারা প্রকঙ্কতা; অদৃশ্যরা, তোমরা যাই হোক, সবাই একত্রে দমন হও। সূর্য সামনে উঠে আসে, সকলের দেখায়, অদৃশ্যদের নাশকারী; তিনি সকল অদৃশ্য ও জাদুকরদের দমন করেন। সূর্য উদিত হয়েছে, সকল দুঃখ দূর করেছে; আদিত্য, পর্বত থেকে, সকলের দেখায়, অদৃশ্যদের নাশকারী। আমি আমার সংকল্প সূর্যের মধ্যে স্থাপন করি, উদারদের গৃহে; সে যেন নষ্ট না হয়, আমরাও না হই; এই বন্ধন যেন ভাঙে না; তোমার শক্তি মধুর, মধুর তোমার কর্ম। এইভাবে, ঋষিরা দেবতাদের আহ্বান, প্রশংসা ও প্রার্থনা জানালেন, যজ্ঞের মাধ্যমে কল্যাণ, পুষ্টি, সুরক্ষা ও আলো কামনা করলেন; অদৃশ্যের শক্তি দূর করে, দেবতাদের আশীর্বাদে জীবনকে সমৃদ্ধ ও নিরাপদ করলেন।