একবার, রামায়ণের সেই মহৎ কাহিনীতে, রাজা দশরথের মনে এক গভীর উদ্বেগ ছিল। তিনি চিন্তিত ছিলেন তাঁর প্রিয় পুত্র রামকে নিয়ে, যিনি ছিলেন ধর্মের প্রতীক এবং সকলের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। তাঁর মনে প্রশ্ন জেগেছিল, “রামকে কি আমি রাক্ষসদের বিরুদ্ধে পাঠাব? তাদের শক্তি কতটা, আর তারা কারা?” রাজা দশরথের এই চিন্তায়, মহর্ষি বিশ্বামিত্র, যিনি ছিলেন একজন প্রজ্ঞাবান ঋষি, তাঁর কাছে এসে বললেন, “রামকে পাঠানো উচিত। রাক্ষসদের শক্তি নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। তারা অহংকারী, কিন্তু রাম ধর্মের প্রতীক। রামকে পাঠালে, তিনি তাঁদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে সক্ষম হবেন।” বিশ্বামিত্র রাক্ষস রাবণের কথা উল্লেখ করলেন, যিনি পালাস্ত্য বংশে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং ব্রহ্মার আশীর্বাদে তিনটি বিশ্বের ওপর অত্যাচার চালাচ্ছিলেন। রাবণ ছিল শক্তিশালী, এবং তাঁর সঙ্গে ছিল অনেক রাক্ষস। কিন্তু, রাবণ নিজে কখনো যজ্ঞের ক্ষতি করতেন না, বরং তাঁর নির্দেশে দুই শক্তিশালী রাক্ষস, মারীচ এবং সুবাহু, যজ্ঞকে বিঘ্নিত করতে আসছিল। রাজা দশরথের মনে তখন এক ধরনের আতঙ্ক ছিল। তিনি বললেন, “হে ঋষি, আমি আমার সন্তানকে রাক্ষসদের বিরুদ্ধে পাঠাতে পারব না, কারণ আমি দুর্ভাগ্যশালী। রাক্ষসদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে আমার শক্তি নেই।” কিন্তু বিশ্বামিত্রের মধ্যে ক্রোধ জেগে উঠল। তাঁর প্রজ্ঞা এবং শক্তির কারণে, তিনি বললেন, “রাজা, তুমি ধর্মের পথে চলতে পারবে না। রামকে পাঠাতে হবে, কারণ তিনি একমাত্র সেই ব্যক্তি যিনি রাক্ষসদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারেন।” বিশ্বামিত্রের কথা শুনে রাজা দশরথের মনে সন্দেহের মেঘ কেটে গেল। তিনি অনুভব করলেন, রাম সত্যিই ধর্মের প্রতীক। তিনি জানতেন, রাম যুদ্ধের কৌশলে পারদর্শী এবং তাঁর কাছে অসীম শক্তি আছে। এখন, রাজা দশরথের মুখে আনন্দের হাসি ফুটে উঠল। তিনি তাঁর পুত্র রাম এবং তাঁর ভাই লক্ষ্মণকে ডেকে বললেন, “হে রাম, তুমি বিশ্বামিত্রের সঙ্গে যাও। তোমার শক্তি ও ধর্মের প্রতি নিষ্ঠা আমাদের সকলকে রক্ষা করবে।” এভাবে, রাজা দশরথের হৃদয়ে এক নতুন আশার আলো জ্বলে উঠল। তিনি জানতেন, রাম এবং লক্ষ্মণ এই বিপদের মোকাবেলা করতে সক্ষম হবে। আর বিশ্বামিত্রের আশীর্বাদ তাঁদের পথপ্রদর্শক হবে।