এক সময়ের কথা, যখন রাজা দশরথের হৃদয়ে দুঃখের ছায়া নেমে এসেছিল। তিনি একটি কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিলেন। রাজা দশরথ, যিনি বীরত্বের জন্য পরিচিত, তখন ভীষণ ক্লান্ত এবং হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। তিনি নিজের মনে বলেছিলেন, "এমন পরিস্থিতিতে আমি রাগের কাছে আত্মসমর্পণ করব না।" তিনি জানতেন, তাঁর প্রিয় পুত্র রামকে দিতে হবে, যিনি সত্যিকার অর্থে সাহসী। বিশ্বামিত্র, যিনি একজন মহান ঋষি, রাজাকে বললেন, "রাজা, তোমার পুত্র রামকে আমাকে দাও। তাঁর সাহস ও ক্ষমতা অসাধারণ। তিনি সেই অসুরদের পরাজিত করতে সক্ষম, যারা আমাদের ত্রিভুবনে অশান্তি সৃষ্টি করছে। আমি নিশ্চিত, তিনি তাদের ধ্বংস করবেন এবং আমি তাঁকে আশীর্বাদ দেব।" বিশ্বামিত্রের কথায় রাজা দশরথের মনে চিন্তা উদ্রেক হলো। তিনি ভাবলেন, "রাম একদম তরুণ, মাত্র ষোল বছর বয়সে। কি করে তিনি এই দানবদের সঙ্গে যুদ্ধ করবেন?" রাজা বললেন, "আমার বাহিনী শক্তিশালী, এরা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। আমি নিজেই যুদ্ধ করব এবং রামকে যুদ্ধের জন্য পাঠাতে পারি না। তিনি এখনও ছোট এবং যুদ্ধের কলা জানেন না।" কিন্তু বিশ্বামিত্র রাজাকে আশ্বস্ত করলেন, "রামকে দিলে তুমি কেবল তাঁর জন্যই নয়, বরং সকলের জন্য মঙ্গল আনবে। তিনি অসাধারণ, এবং তাঁর সাহসের ফলে তোমার রাজ্যের সুনাম হবে।" রাজা দশরথের মনে দ্বিধা ছিল। তিনি ভাবলেন, "আমি রামকে হারাতে পারি না। তিনি আমার প্রথম পুত্র, এবং আমার প্রতি তাঁর ভালোবাসা অগাধ।" কিন্তু বিশ্বামিত্রের কথাগুলি তাঁর মনে গভীর দাগ কাটল। রাজা হতাশ হয়ে উঠলেন এবং তাঁর হৃদয় ভারাক্রান্ত হলো। বিশ্বামিত্র বললেন, "তুমি জানো, রাবণের মতো শক্তিশালী একটি দানব আমাদের জন্য বিপদ ডেকে আনছে। তাঁর ভাই বৈশ্রবণ এবং পিতা ঋষি বিশ্রবাস। রাবণ সরাসরি অর্পণকে বিঘ্নিত করে না, কিন্তু তাঁর নির্দেশে দুই দানব, মারীচ এবং সুবাহু, আমাদের অর্ঘ্যকে নষ্ট করতে আসছে।" রাজা দশরথের মনে ভয় এবং উদ্বেগ বাড়তে থাকল। তিনি বললেন, "আমি জানি না, কীভাবে আমি রামকে পাঠাব। তাঁর জন্য আমার ভালোবাসা অপরিসীম। আমি নিজেই যুদ্ধ করব, কিন্তু রামকে আমি দিতে পারব না।" বিশ্বামিত্রের কথা শুনে রাজা দশরথের মনে এক নতুন উপলব্ধি হলো। তিনি বুঝলেন, রামকে পাঠানোই হবে সঠিক সিদ্ধান্ত। কিন্তু তাঁর হৃদয় বলছিল, "আমি আমার প্রিয় পুত্রকে এই বিপদে পাঠাতে পারি না।" এভাবেই রাজা দশরথ এবং ঋষি বিশ্বামিত্রের মধ্যে কথোপকথন চলতে থাকে, যেখানে রাজা নিজের পুত্রের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত ছিলেন এবং ঋষি বিশ্বামিত্র রামের মহত্ত্ব ও সাহসের কথা বলছিলেন। রাজা দশরথের হৃদয়ে দ্বন্দ্ব চলছিল, এবং তিনি জানতেন, এই সিদ্ধান্তটি তাঁর রাজ্যের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।