একদিন, এক মহান ব্রাহ্মণের উপস্থিতিতে, রাজা রামরাজার মনে এক অদ্ভুত আনন্দের অনুভূতি জাগল। তিনি অনুভব করলেন, আজকের রাতটি সত্যিই শুভ। সেই ব্রাহ্মণ, যিনি এককালে ছিলেন একজন রাজর্ষি, কঠোর তপস্যার মাধ্যমে অর্জন করেছিলেন অসীম জ্যোতি। এখন তিনি ব্রহ্মর্ষির মর্যাদা লাভ করেছেন এবং রাজা তার বহু উপাসনার যোগ্য। রাজা বললেন, "হে ব্রাহ্মণ, আপনার উপস্থিতিতে আমি পুণ্যের এক নতুন ক্ষেত্র পেয়েছি। আপনি যে উদ্দেশ্যে এসেছেন, তা বলুন। আমি আপনার উদ্দেশ্যে সাহায্য করতে চাই।" ব্রাহ্মণ উত্তর দিলেন, "আমি সব কিছুতে একমাত্র কার্যকরী, কিন্তু আপনি আমার divine protector। আপনার আগমনে আমার এই মহান সৌভাগ্য এসেছে, এবং সমস্ত ধর্মের উৎস আপনার আগমনের ফল।" ব্রাহ্মণের এই কথা শুনে, যিনি আত্মনিয়ন্ত্রণে সিদ্ধ, সেই মহান ঋষি আনন্দে ভরে উঠলেন। এরপর, বিশাল ও শক্তিশালী ঋষি বিশ্বামিত্র বললেন, "হে রাজা, আপনার মধ্যে এই মহান গুণাবলীর জন্যই আপনার নাম ভাসিষ্ঠ। আপনি এই কাজটি সম্পন্ন করবেন, যা আমি হৃদয়ে ধারণ করছি। আমি একটি প্রতিজ্ঞা করেছি, কিন্তু দুই দানব, মারীচ এবং সুবাহু, আমাকে বাধা দিচ্ছে। তারা প্রতিজ্ঞার সময়ে এসে পবিত্র অঙ্গীকারকে অপবিত্র করছে।" বিশ্বামিত্র বললেন, "আমি জানি, আপনার পুত্র রাম, যিনি কাকের পালকের মতো চুলের অধিকারী, সেই দানবদের নির্মূল করতে সক্ষম। আমি তাকে আপনার কাছ থেকে চাই। তিনি তাদের পরাস্ত করতে পারবে।" রাজা রামরাজার মনে দুশ্চিন্তা জাগল। তিনি বললেন, "হে ঋষি, আমার রাম এখনও ষোল বছরেরও কম, আমি তাকে এই যুদ্ধে পাঠাতে পারি না।" রাজা আরও বললেন, "এটি আমার সেনা, একটি অক্ষৌহিণী। আমি নিজে যুদ্ধ করব, আপনি রামকে নিন না। তিনি এখনও অনভিজ্ঞ, যুদ্ধের কৌশল জানেন না। আমি রামকে ছাড়া এক মুহূর্তও বাঁচতে পারি না। যদি আপনি রামকে নিতে চান, তবে তাকে আমার সঙ্গে একটি চারগুণ সেনা নিয়ে যেতে দিন।" রাজা রামরাজার হৃদয়ে রামের জন্য গভীর প্রেম ছিল, এবং তিনি জানতেন যে, রাম তাঁর চার পুত্রের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয়। বিশ্বামিত্রের সামনে তাঁর এই আবেগ প্রকাশিত হল। কিন্তু বিশ্বামিত্রের দৃঢ় প্রত্যয় ছিল, এবং তিনি জানতেন, রামই সেই যোদ্ধা যিনি দানবদের পরাজিত করতে সক্ষম। এভাবে, রাজা এবং ঋষির মধ্যে এই আলোচনা চলতে থাকল, যেখানে রাজা তাঁর পুত্রকে রক্ষা করতে চেয়েছিলেন, আর ঋষি বিশ্বামিত্র জানতেন, রামকে নিয়ে যাওয়া একান্ত প্রয়োজন। রাজা গভীর দুশ্চিন্তায় পড়লেন, কিন্তু ঋষির দৃঢ়তা তাকে ভাবতে বাধ্য করল।