একদিন, এক মহান ব্রাহ্মণ, যিনি ছিলেন ব্রহ্মর্ষি, একটি বিশেষ উদ্দেশ্যে রাজা দশরথের কাছে এসে পৌঁছালেন। রাজা দশরথ, যিনি ছিলেন রাজা এবং সৎকর্মের প্রতীক, সেই ব্রাহ্মণের আগমনকে অত্যন্ত সম্মানের সাথে গ্রহণ করলেন। তিনি বললেন, "হে ব্রাহ্মণ, আপনি আমার শ্রদ্ধার পাত্র। আপনার উপস্থিতির কারণে আমার জীবন পূর্ণতা পেয়েছে এবং আমার জন্ম সার্থক হয়েছে। আপনি যে মহৎ কাজের জন্য এসেছেন, তা জানালে আমি আনন্দিত হব।" ব্রাহ্মণটি, যিনি ছিলেন বিশ্বামিত্র, রাজাকে উজ্জ্বল ও শক্তিমান বলে অভিহিত করলেন। তিনি বললেন, "হে রাজা, আপনার পুত্র রামকে আমাকে দিন। আমি তাকে নিয়ে একটি বিশেষ কাজ সম্পন্ন করতে চাই।" রাজা দশরথ কিছুটা উদ্বিগ্ন হলেন, কারণ রাম তখনো কিশোর, মাত্র ষোল বছর বয়সে। তিনি বললেন, "রাম এখনও যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত নয়। আমি নিজে যুদ্ধে যাব এবং আমার সৈন্যদের নিয়ে রাক্ষসদের মোকাবেলা করব।" বিশ্বামিত্র রাজাকে ধৈর্য ধরে বোঝালেন, "হে রাজা, রামই একমাত্র যে এই শক্তিশালী রাক্ষস মārīca এবং Subāhu কে পরাস্ত করতে পারবে। আমি জানি, রাম মহান আত্মার অধিকারী এবং তাঁর সাহস অটুট।" রাজা দশরথের মনে দ্বন্দ্ব দেখা দিল, তিনি ভাবতে লাগলেন, "কীভাবে আমি আমার প্রিয় পুত্রকে দূরে পাঠাব?" বিশ্বামিত্র আবারও বললেন, "আপনার পুত্র রামকে আমার সঙ্গে পাঠালে, তিনি এই যুদ্ধে জয়ী হয়ে ফিরে আসবেন। আমি তাকে সুরক্ষিত রাখব এবং সাফল্য অর্জন করাব।" রাজা দশরথের হৃদয়ে দুঃখের ছায়া পড়ল, কিন্তু তিনি বিশ্বামিত্রের কথা শুনে কিছুটা আশ্বস্ত হলেন। শেষ পর্যন্ত, রাজা দশরথ বুঝতে পারলেন যে, রামকে পাঠানোই সঠিক সিদ্ধান্ত হতে পারে। তিনি তাঁর মন্ত্রীদের সাথে পরামর্শ করলেন এবং সকলের সম্মতি নিয়ে রামকে বিশ্বামিত্রের কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলেন। সেই সঙ্গে, তিনি নিজের সাহসিকতা ও কর্তব্যবোধের কথা মনে রেখে বললেন, "যুদ্ধের জন্য আমি প্রস্তুত, কিন্তু রামকে আমার কাছে রেখে দিন।" এভাবে, রাজা দশরথের হৃদয়ে দ্বন্দ্ব ও উদ্বেগ ছিল, কিন্তু তিনি জানতেন যে, রামকে পাঠানোই হবে তাঁর পুত্রের ভবিষ্যতের জন্য সঠিক পদক্ষেপ। রাজা দশরথের মনের অস্থিরতা ও বিশ্বামিত্রের দৃঢ়তা, এই ঘটনাকে একটি নতুন মোড় দিল।