এককালে অযোধ্যা শহরে এক অসাধারণ রাজ্য ছিল, যা ছিল একটি চিত্রকল্পের মতো। শহরটি ছিল সজ্জিত চৌকোটের মতো, যেখানে মহৎ মহিলাদের ভিড় ছিল এবং বিভিন্ন রত্নে সজ্জিত ছিল। সেখানে আকাশীয় রাজপ্রাসাদের মতো সুশোভিত বাড়িঘর ছিল, যেখানে ধান এবং বার্লি ভরা ছিল, এবং গুড়ের মিষ্টি পানির ঝর্ণা প্রবাহিত হচ্ছিল। সেই মহান আবাসে ড্রাম, মৃদঙ্গ, বীণা এবং পনবের সুরে পৃথিবী গুঞ্জরিত হতো। রাজা দাশরথের শাসনে, শহরটি ছিল সজ্জিত যোদ্ধাদের দ্বারা পূর্ণ, যারা দূর বা কাছের লক্ষ্য বিঁধতে পারদর্শী ছিলেন। তারা ছিল বীর, যারা বাঘ, সিংহ এবং বন্য শুকরের মধ্যে যুদ্ধ করতেন, তাদের শক্তিশালী অস্ত্র এবং বাহুর বল ব্যবহার করে। হাজার হাজার এমন মহান রথযোদ্ধাদের নিয়ে রাজা দাশরথ সেই শহরকে পূর্ণ করেছিলেন। অযোধ্যা শহরটি ছিল অগ্নির মতো পবিত্র এবং গুণী দ্বিজদের দ্বারা পরিবেষ্টিত, যারা ছয়টি বেদশাখার অধিকারী ছিলেন। সেখানে সত্যনিষ্ঠ মহামানবদের এবং মহর্ষিদের মতো ঋষিদের সমাগম ছিল। শহরের প্রতিটি নাগরিক ছিল জ্ঞানী এবং ধর্মনিষ্ঠ, তাদের মধ্যে ছিল কোনো কৃপণতা, অজ্ঞতা বা নৈরাজ্য। রাজা দাশরথ, যিনি ছিলেন এক মহান যোদ্ধা এবং সত্যের প্রতীক, শহরটি শাসন করতেন। তিনি ছিলেন একজন ব্রাহ্মণ, যিনি সকলের প্রতি সদয় ছিলেন এবং সবার মধ্যে সুখ ও সমৃদ্ধি ছড়িয়ে দিতেন। অযোধ্যার প্রতিটি গৃহে ছিল গরু, ঘোড়া, ধন-সম্পদ এবং শস্য। সেখানে কোনো দারিদ্র্য ছিল না, সবাই ছিল উন্নত এবং সুখী। শহরের প্রতিটি মানুষ ছিল সজ্জিত, তাদের কানে ছিল কানের দুল, মাথায় ছিল মুকুট এবং গলায় ছিল মালা। অযোধ্যায় কোনো অশুচি খাবার খাওয়া হত না এবং সবাই ধর্মীয় কাজকর্মে নিয়োজিত ছিল। ব্রাহ্মণরা সদা তাদের কর্তব্যে নিবেদিত ছিল এবং দানের প্রতি ছিল সংযমী। রাজা দাশরথের শাসনে, অযোধ্যা শহরটি ছিল এক আশ্রয়স্থল, যেখানে সব শ্রেণীর মানুষ একত্রে বাস করতেন। ক্ষত্রিয়ারা ব্রাহ্মণদের সমর্থন দিত, বৈশ্যরা ক্ষত্রিয়দের প্রতি নিবেদিত ছিল এবং শূদ্ররা তাদের নিজ নিজ কর্তব্যে নিয়োজিত ছিল। রাজা দাশরথ ছিলেন এক মহান এবং দীপ্তিমান রাজা, যিনি শত্রুদের দমন করে শহরটিকে রক্ষা করতেন। অযোধ্যা, যা সত্যনামা নামে পরিচিত, ছিল একটি সুসজ্জিত শহর, যেখানে হাজার হাজার জনতা বাস করত এবং রাজা দাশরথের শাসন ছিল ইন্দ্রের মতো। রাজা দাশরথের মন্ত্রীরা, যারা গুণে সমৃদ্ধ ছিলেন, সবসময় রাজ্যের কল্যাণে নিবেদিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিল ধৃতী, জয়ন্ত, বিজয়, সূরাষ্ট্র, রাষ্ট্রবর্ধন, আকোপ, ধর্মপাল এবং সর্বশেষ, সুমনত্র, যিনি বুদ্ধিমত্তায় প্রসিদ্ধ ছিলেন। এভাবে অযোধ্যার শহরটি ছিল এক অনন্য স্থান, যেখানে সুখ, শান্তি এবং ধর্মের সমাহার ঘটেছিল।