এক সময়ের কথা, যখন পৃথিবী ছিল রাজাদের অধিকারী, যারা যুদ্ধের মাধ্যমে বিজয়ী হয়েছিল। তাদের মধ্যে একজন ছিলেন সাগর, যিনি মহাসাগর খুঁড়েছিলেন, তার চারপাশে ছিল ষাট হাজার পুত্র। এই মহান রাজাদের মধ্যে, ইক্ষ্বাকু বংশের এক মহান কাহিনী জন্ম নেয়, যা রামায়ণ নামে পরিচিত। এই কাহিনী শোনার সময় এসেছে, যা ন্যায়, ইচ্ছা ও ধন-সম্পদ নিয়ে গঠিত। একটি সময় ছিল যখন অযোধ্যা নামক একটি শহর ছিল, যা সারা বিশ্বে পরিচিত, নির্মাতা ছিলেন মনু, মানবের প্রভু। এই মহান শহরটি বারো যোজন দীর্ঘ এবং তিন যোজন প্রশস্ত, যার প্রধান রাস্তাগুলি সুন্দরভাবে বিভক্ত ছিল। শহরের রাজপথ ছিল বিশাল, সদা ফুলে ফুলে সজ্জিত এবং জল ছিটানো। রাজা দশরথ, যিনি তার রাজ্যকে বাড়িয়ে তুলেছিলেন, সেই শহরে বাস করতেন, যেমন দেবতারা স্বর্গে বাস করেন। শহরটি ছিল প্রবেশদ্বার ও আর্চওয়ে দ্বারা সজ্জিত, যেখানে বিভিন্ন পণ্য ও অস্ত্রের বাজার ছিল এবং সব ধরনের শিল্পী বাস করতেন। সেখানে ছিল রথচালক ও গায়কদের ভিড়, উঁচু মঞ্জিল ও পতাকা, এবং যুদ্ধের যন্ত্রপাতির উপস্থিতি। অযোধ্যা শহরটি নৃত্যশিল্পী ও গায়িকাদের দ্বারা পরিবেষ্টিত ছিল, যেখানে বাগান ও আম গাছের সারি ছিল, এবং চারপাশে ছিল বিশাল শাল গাছের বেল্ট। শহরটি গভীর ও সুরক্ষিত খালের দ্বারা পরিবেষ্টিত ছিল, যা অন্যদের জন্য প্রবেশ করা কঠিন করে তুলেছিল। সেখানে ছিল ঘোড়া, হাতি, গবাদি পশু, উট ও গাধার ভিড়। শহরটি ছিল রাজ্যগুলির সমাবেশ দ্বারা সজ্জিত, যারা কর প্রদান করত, এবং বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ীদের দ্বারা সজ্জিত। এটি রত্ন দ্বারা অলঙ্কৃত রাজপ্রাসাদে ঝলমল করত, যা পাহাড়ের মতো বিশাল এবং উঁচু মঞ্জিলের সমৃদ্ধিতে ভরা ছিল, যেন ইন্দ্রের অমরাবতী। এমন একটি শহরে, দুই কুশীলব একদিন গান গাইতে আসে। তারা তাদের সুরেলা কণ্ঠে একটি মহৎ কাহিনী গায়, যা রাজা রাম এবং তার ভাইদের মনোযোগ আকর্ষণ করে। রাম, শত্রুর বিনাশক, তাদের সম্মানিত করেন, এবং সোনালী সিংহাসনে বসে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। রাজা রাম তাদের বলেন, "এই দুই মহৎ কাহিনী, দেবতাদের মতো দীপ্তিমান, আমাদের শোনানো হোক।" এরপর, কুশীলবরা তাদের হৃদয়ের গভীর থেকে গান গাইতে শুরু করে, সুর ও তাল মিলিয়ে, তাদের গান যেন সকলের মনে আনন্দের সঞ্চার করে। তাদের গান ছিল অতি মধুর, যা প্রতিটি শ্রোতার হৃদয় ও মনে আনন্দের ঢেউ তুলেছিল। তাদের সঙ্গীতের সুর, মানুষের সমাবেশে ঝলমল করছিল। তারা ছিলেন রাজকীয় জন্মের চিহ্ন বহনকারী, কঠোর তপস্যায় মহৎ, এবং তাদের কাহিনী শোনার জন্য সবাই উন্মুখ হয়ে ছিল। এভাবে, রামায়ণের এই মহৎ কাহিনী শুরু হয়, যা সমস্ত সত্যবাদী ঋষিদের দ্বারা গৃহীত হয়েছিল। তাদের গানের মাধ্যমে, পৃথিবী জুড়ে জীবন, শক্তি ও আনন্দের প্রচার হয়।