মহাবীর্য থেকে জন্মগ্রহণ করেন তাঁর পুত্র দুরুক্ষয়। দুরুক্ষয়ের তিন পুত্র ছিল—ত্রয়্যারুণি, পুষ্করিণ ও কাপি। পরে এই তিনজনই ব্রাহ্মণত্ব লাভ করেন। বৃহৎক্ষত্রের পুত্র ছিলেন সুহোত্র। সুহোত্র থেকে জন্ম নেন হস্তি, যিনি বিখ্যাত হস্তিনাপুর নগরীর প্রতিষ্ঠাতা। হস্তির তিন পুত্র—অজমীঢ, দ্বিজমীঢ ও পুরুমীঢ। অজমীঢের বংশধারা থেকে জন্ম নেন কণ্ব, কণ্ব থেকে মেধাতিথি, এবং মেধাতিথি থেকে কণ্বায়ন ব্রাহ্মণগণ বিস্তৃত হন। অজমীঢের আরেক পুত্র ছিলেন বৃহদিষু। বৃহদিষুর পুত্র বৃহদ্ধনু, তাঁর পুত্র বৃহৎকর্মা, বৃহৎকর্মা থেকে জয়দ্রথ, জয়দ্রথ থেকে বিশ্বজিত এবং বিশ্বজিতের পুত্র সেনজিত। সেনজিতের ছিল রুচিরাশ্ব, কাশ্য, দৃঢ়হনুস ও সহনুস নামক চার পুত্র। রুচিরাশ্বের পুত্র ছিলেন পৃথুসেন, পৃথুসেন থেকে পার, পার থেকে নীল। নীলের একশত পুত্র জন্মেছিল, যাদের মধ্যে সবচেয়ে প্রধান ছিলেন সমর, যিনি কাম্পিল্যের অধিপতি ছিলেন। সমরের তিন পুত্র—পারসু, সুপার ও সদশ্ব। সুপার থেকে পৃথু, পৃথু থেকে সুকৃতি, সুকৃতি থেকে বিভ্রাজ। বিভ্রাজের পুত্র ছিলেন অনুহ। অনুহ বিবাহ করেন শুকের কন্যা কীর্ত্তিকে। অনুহের পুত্র ব্রহ্মদত্ত, তাঁর পুত্র বিষ্বক্ষেন, বিষ্বক্ষেন থেকে উদক্ষেন, এবং উদক্ষেনের পুত্র ভল্লাভ। এদিকে, দ্বিজমীঢের পুত্র ছিলেন যবীনরস। তাঁর পুত্র ধৃতিমান, ধৃতিমান থেকে সত্যধৃতি, সত্যধৃতি থেকে দৃঢ়নেমি, দৃঢ়নেমি থেকে সুপার্শ্ব, সুপার্শ্ব থেকে সুমতি, সুমতি থেকে সন্নতিমান। সন্নতিমানের এক পুত্র জন্মগ্রহণ করেন, যাঁকে হিরণ্যনাভ যোগের সাধনা শিক্ষা দেন। তিনিই পূর্বদিকে চব্বিশটি সামগান সংকলন করেন। তাঁর পুত্র উগ্রায়ুধ। উগ্রায়ুধের দ্বারা নীপ বংশের অধিকাংশ বিনাশ সাধিত হয়। উগ্রায়ুধ থেকে ক্ষেম্য, ক্ষেম্য থেকে সুধীর, সুধীর থেকে পুঞ্জয়, পুঞ্জয় থেকে বহুরথ—এঁরাই পৌরব বংশের অন্তর্ভুক্ত। অজমীঢের পত্নী নলিনী, তাঁর গর্ভে জন্ম নেন নীল। নীল থেকে শান্তি, শান্তি থেকে সুশান্তি, সুশান্তি থেকে পুরঞ্জয়, পুরঞ্জয় থেকে ঋক্ষ। ঋক্ষ থেকে জন্ম নেন হর্যশ্ব। হর্যশ্ব থেকে মুদ্গল, সৃঞ্জয়, বৃহদিষু, যবীনরক, এবং কাম্পিল্য—এই পাঁচজনই, তাঁদের নিজ নিজ রাজ্যের রক্ষার্থে, তাঁদের পিতা দ্বারা পাঞ্চাল নামে অভিহিত হন। মুদ্গল থেকে মৌদ্গল্য বংশীয়া এক নারী দ্বারা দ্বিজত্বপ্রাপ্ত এবং ক্ষত্রিয়গুণসম্পন্ন সন্তান জন্মগ্রহণ করেন। মুদ্গল থেকে আবার হর্যশ্ব জন্মান। হর্যশ্ব থেকে যুগল সন্তান—দিবোদাস ও অহল্যা। শারদ্বত ও অহল্যার মিলনে জন্ম নেন শতানন্দ। এভাবেই এই মহৎ বংশধারা বিস্তৃত হয়েছে, প্রতিটি নাম ও ঘটনা পূর্বসূরিদের গৌরবময় স্মৃতি বহন করে।