শিনির বংশধরদের বর্ণনা এইভাবে বিস্তার লাভ করে। অনামিত্রের বংশে জন্ম নেন বৃষ্ণি; বৃষ্ণি থেকে জন্মগ্রহণ করেন শ্বফল্ক, যাঁর শক্তি ও খ্যাতি কাথা দ্বারা প্রচারিত ছিল। শ্বফল্কের এক ছোট ভাই ছিলেন, তাঁর নাম ছিল চিত্রক। শ্বফল্ক ও গান্দিনীর ঔরসে জন্ম নেন অক্রূর। একইভাবে জন্মগ্রহণ করেন উপমদ্গ। উপমদ্গের পুত্রেরা ছিলেন মৃদ, অমৃদ, বিশ্বারী, মেজয়, গিরিক্ষত্র, উপক্ষত্র, শতঘ্ন, অরিমর্দন, ধর্মদৃক, দৃঢ়ধর্মা, গন্ধমোজ, বাহ ও প্রতিবাহ; তাঁর এক কন্যার নাম ছিল সুতারা। অক্রূরের দুই পুত্র— দেববান ও উপদেব। চিত্রকের বহু পুত্রের মধ্যে প্রধান ছিলেন পৃথু ও বিপৃথু। কুকুরের চার পুত্র— ভজমান, শুচি, কম্বল ও বারিষাখা; অনুরূপভাবে আন্ধকেরও চার পুত্র ছিল। কুকুর থেকে হৃষ্ট, তাঁর থেকে কাপোতারোমা, তারপর ভিলোমা, তাঁর থেকে তুম্বুরের বন্ধু, অনু সংজ্ঞার জন্ম হয়। অনু থেকে অনকদুন্দুভি, তারপর অভিজিৎ ও অভিজিতা, এরপর পুনর্বসুর জন্ম। পুনর্বসুরও এক পুত্র ও এক কন্যা ছিল— পুত্র আহুক ও কন্যা আহুকী। আহুকের দুই পুত্র— দেবক ও উগ্রসেন। দেবকের চার পুত্র— দেববান, উপদেব, সহদেব ও দেবরক্ষিতা। তাঁদের সাত কন্যা— বৃকদেবা, উপদেবা, দেবরক্ষিতা, শ্রীদেবা, শান্তিদেবা, সহদেবা ও দেবকী। এই সাতজনকেই বিয়ে করেন বসুদেব। উগ্রসেনেরও বহু পুত্র ছিল— কংস, ন্যগ্রোধ, সুনামা, নকাহ্ব, শঙ্খু, সুবূমি, রাষ্ট্রপাল, যুদ্ধতুষ্টি, সুতুষ্টি ও মৎস। তাঁর কন্যারা— কংসা, কংসবতী, সুতনু ও রাষ্ট্রপালিকা। ভজমানের পুত্র ছিলেন বিদূরথ। বিদূরথ থেকে সূর, সূর থেকে শমী, শমী থেকে প্রতিক্ষত্র, তাঁর থেকে স্বয়ম্ভোজ, তাঁর থেকে হৃদিক। হৃদিকেরও পুত্র ছিল— কৃতবর্মা, শতধন্বান, দাভারহ, দেবগর্ভ ও আরও অনেকে। দেবগর্ভেরও এক পুত্র ছিল, তাঁর নাম সূর। সূরের পত্নী ছিলেন মারীষা। মারীষার গর্ভে সূর দশ পুত্রের জন্ম দেন, যাঁদের মধ্যে বসুদেব ও ঊর্বা উল্লেখযোগ্য। বসুদেব যখন সদ্যজাত, তখন দেবতারা স্বচ্ছ দৃষ্টিতে সেই ঈশ্বরীয় অংশের অবতরণ দেখে আকাশে দেবদুন্দুভি বাজান। সেই কারণে তাঁর নাম হয় অনকদুন্দুভি। বসুদেবের নয় ভাই— দেবভাগ, দেবশ্রবা, অষ্টক, ককুদ, চক্রবত, সাধারক, সৃঞ্জয়, শ্যাম ও শমিকগঞ্জুষ। বসুদেব ও তাঁর ভাইদের পাঁচ বোন— পৃথা, শ্রুতদেবা, শ্রুতকীর্তি, শ্রুতশ্রবা ও রাজাধিদেবী। সূরের এক বন্ধু ছিলেন কুন্তির। কুন্তির নিঃসন্তান ছিলেন বলে সূর তাঁর কন্যা পৃথাকে নিয়ম অনুযায়ী কুন্তিরকে দান করেন। পরে পাণ্ডু পৃথাকে পত্নী হিসেবে গ্রহণ করেন। পৃথার গর্ভে ধর্ম, বায়ু ও ইন্দ্রের অনুগ্রহে জন্ম নেয় তিন পুত্র— যুধিষ্ঠির, ভীমসেন ও অর্জুন। বিবাহের পূর্বেই এক দৈবিক জ্যোতির্ময় সত্তার দ্বারা পৃথার এক পুত্র জন্মেছিল, যাঁর নাম কর্ণ, যিনি কনীন নামে পরিচিত। পৃথার এক সতীন ছিলেন, তাঁর নাম মাদ্রী। মাদ্রীর গর্ভে অশ্বিনীকুমারদের অনুগ্রহে পাণ্ডুর দুই পুত্র— নকুল ও সহদেবের জন্ম হয়। শ্রুতদেবার বিবাহ হয়েছিল করূষ দেশের বৃদ্ধধর্ম রাজার সঙ্গে। তাঁর গর্ভে জন্ম নেয় এক মহাসুর, দন্তবক্র। শ্রুতকীর্তির বিবাহ হয়েছিল কেকয় রাজার সাথে। তাঁর গর্ভে পাঁচ কেকয় পুত্র জন্ম নেন, যাঁদের মধ্যে প্রথম সন্তার্দন। রাজাধিদেবীর গর্ভে জন্ম নেন অবন্তি দেশের দুই রাজপুত্র— বিন্দ্য ও অনুবিন্দ্য। এভাবেই শিনির বংশধরদের বিস্তৃত বংশপরম্পরা ও তাঁদের গৌরবময় কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।