ধীরে ধীরে বংশের ধারাবাহিকতা শুরু হয়। তার থেকে জন্ম নেন দাম। দাম-এর পুত্র রাজবর্ধন। রাজবর্ধন থেকে জন্ম নেন সুবৃদ্ধি। সুবৃদ্ধি থেকে জন্ম নেন কেবল। কেবল থেকে জন্ম নেন সুধৃতি। সুধৃতি থেকে জন্ম নেন চন্দ্র। এরপর আবার কেবল জন্ম নেন। কেবল থেকে জন্ম নেন বন্ধুমত। বন্ধুমত থেকে জন্ম নেন বেগবত। বেগবত থেকে জন্ম নেন বুধ। তারপর ত্রিণবিন্দু জন্ম নেন। ত্রিণবিন্দুর ছিল একটি কন্যা, নাম ছিল ইলাবিলা। পরে বিখ্যাত অপ্সরা আলম্বুষা ত্রিণবিন্দুর সঙ্গে মিলিত হন। তাদের থেকে জন্ম নেন বিশাল, যিনি বিশাল নগরী নির্মাণ করেন। বিশালের পুত্র ছিলেন হেমচন্দ্র। এরপর চন্দ্র জন্ম নেন। তার পুত্র ধূমরাক্ষ। ধূমরাক্ষের পুত্র শৃঞ্জয়। শৃঞ্জয় থেকে জন্ম নেন সহদেব। তারপর জন্ম নেন কৃষাশ্ব। কৃষাশ্ব থেকে জন্ম নেন সোমদত্ত, যিনি শত অশ্বমেধ যজ্ঞ সম্পন্ন করেন। সোমদত্তের পুত্র জনমেজয়। জনমেজয় থেকে জন্ম নেন সুমতি। এই সকলই বিশালীর রাজাদের বংশ। এখানে একটি শ্লোকও গেয়া হয়—ত্রিণবিন্দুর কৃপায় বিশালীর সকল রাজা দীর্ঘজীবী, মহাত্মা, শক্তিশালী ও অত্যন্ত ধর্মপরায়ণ ছিলেন। শর্যাতির ছিল একটি কন্যা, নাম সুকন্যা, যাকে চ্যবন মুনির সঙ্গে বিবাহ হয়। শর্যাতির পুত্র ছিলেন অনর্ত, যিনি অত্যন্ত ধর্মপরায়ণ ছিলেন। অনর্তেরও পুত্র ছিলেন রেবত, যিনি অনর্ত দেশের শাসক ছিলেন এবং কুশস্থলীতে বাস করতেন। রেবতের পুত্র রৈবত, যিনি ককুদ্মিন নামেও পরিচিত, ছিলেন একশো ভাইয়ের মধ্যে জ্যেষ্ঠ এবং ধর্মপ্রাণ। রৈবতের ছিল একটি কন্যা, নাম রেবতী। কন্যাকে নিয়ে তিনি ব্রহ্মার লোকের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন, যাতে পদ্মজন্ম ব্রহ্মার কাছে জানতে পারেন—কোন পাত্র তার কন্যার জন্য যোগ্য হবে। এদিকে ব্রহ্মার উপস্থিতিতে গান্ধর্বা হাহা ও হুহু 'অতিতান' নামক এক অপূর্ব গান্ধর্ব গান গাইতে শুরু করেন। সেই গান চলাকালীন বহু যুগ কেটে যায় এবং তিনটি পথ ঘুরে যায়, কিন্তু রৈবত শুনতে শুনতে মনে করেন, যেন এক মুহূর্তেই গান শেষ হয়েছে। গান শেষ হলে রৈবত পদ্মজন্ম ব্রহ্মার কাছে প্রণাম করে কন্যার জন্য উপযুক্ত বর জানতে চান। তখন ব্রহ্মা বলেন, "তুমি কোন পাত্র চাও, বলো।" আবার প্রণাম করে রৈবত তার পছন্দের পাত্রদের নাম বলেন এবং জানতে চান, "হে ভাগ্যবান, এদের মধ্যে কাকে আপনি অনুমোদন করেন, যাকে আমি কন্যা দান করতে পারি?" তখন পদ্মজন্ম ব্রহ্মা মাথা একটু নিচু করে, হাসিমুখে বলেন, "তুমি যাদের চেয়েছ, তাদের কারও ছেলে বা নাতি এখন পৃথিবীতে নেই। তুমি এখানে গান্ধর্ব গান শুনতে শুনতে বহু যুগ কেটে গেছে।" এভাবেই এই বংশের কাহিনি এবং রৈবতের কন্যা রেবতীর জন্য উপযুক্ত পাত্রের সন্ধানের ঘটনা সম্পন্ন হয়।