বিধিপূর্বক ভূমি দানের মতো মহৎ কর্ম সম্পাদনকারী সেই দ্বিজাতির দাতা এবার স্বর্গলোকে আরোহণ করুক—এমনই নির্দেশ আসে। তিনি নানা রকম কাম্য ভোগে সম্মানিত হন, কারণ তিনি মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছেন। এভাবেই ভাগ্যবান বরাহ পুরাণের পবিত্র শাস্ত্রে, ‘জন্ম-মৃত্যুর চক্রে পুণ্য ও পাপের ফলের বর্ণনা’ নামক দুইশো-পাঁচ নম্বর অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে। এবার শুরু হচ্ছে পুণ্যকর্মের ফলোদয় বিষয়ক অংশ—যা চিত্রগুপ্তের বাণী হিসেবে শ্রুত হয়। এই ব্যক্তি, যিনি সর্বদা অতিথিদের সাদরে গ্রহণ করেন, আত্মসংযমে অভ্যস্ত এবং সকল প্রাণীর প্রতি করুণাশীল, তার জন্য চিত্রগুপ্ত আদেশ দেন—“মহান সেবক, তাকে মুক্তি দাও, মুক্তি দাও; এটাই ধর্মের বিচার।” পাপের দ্বারা বিকৃত পাপিষ্ঠরা কেবল আমার পাশে থাকবে। কিন্তু এই পুণ্যবানকে দেবতাসম আসন দাও, তার জন্য বিভিন্ন যানবাহনও দাও; তার মনে যেসব ইচ্ছা আছে, সেগুলোও পূরণ করো। ধর্মাধিপতির আদেশে এসব সব দ্রুতই তাকে প্রদান করতে হবে। এই ভাগ্যবান ব্যক্তি তার সঙ্গী-সহচরদের নিয়ে, উৎকৃষ্ট যানবাহনে চড়ে, দেবতাদের দ্বারা সম্মানিত হয়ে দেবলোকে গমন করেন। তিনি তার চাওয়া পূর্ণ করেন এবং যেখানেই যান, সর্বদা তৃপ্ত থাকেন। শুধু একজন কন্যাদাতা, কিংবা একবার যজ্ঞকারী নয়—এই দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ব্যক্তি হাজার হাজার, দশ-হাজার বছর ধরে সেখানে আনন্দ ভোগ করেন। কারণ তিনি সকল প্রাণীর প্রতি করুণাশীল; তার জন্য পূজা সম্পাদিত হয়। পরে, তিনি সকল মানুষের দ্বারা সম্মানিত হয়ে আবার জন্ম লাভ করেন। যিনি বারবার দান করেন, তার জন্য পূজা করা উচিত। তিনি নিজের হাতে কোমল ও শীতল স্পর্শে তা গ্রহণ করেন। সেখানে চিরকাল চারটি মহান পদ্ম বিদ্যমান থাকে। তিনি জন্ম নেন এমন এক পরিবারে, যেখানে বহু রূপবতী নারী আছে। তাকে আমাদের পাশে আসতে দাও; তার জন্য পূজা করো। সেখানে হাজার হাজার পাত্র গরুর দুধে পূর্ণ। এরপর তিনি এমন স্থানে যান, যেখানে মানুষ হিংসামুক্ত। সেই মহান তপস্বী বহু সুন্দরী নারীর সেবা পান। এও চিত্রগুপ্তের আরেকটি বাণী। তারা অমৃত বহন করে পৃথিবীতে বিচরণ করে। এ দুধ সর্বাপেক্ষা পবিত্র এবং পুষ্টিকর। সকল দেবতা ও মহেশ্বর দুধ দ্বারা তুষ্ট হন। একটি মাত্র দানেও তারা তেরো বছর পর্যন্ত সন্তুষ্ট থাকেন। পঞ্চগব্য পান করলে অশ্বমেধ যজ্ঞের ফল লাভ হয়। মারুতেরা দাঁতে, সরস্বতী জিহ্বায়, সাধ্যাগণ সমস্ত অস্থিসন্ধিতে, চন্দ্র ও সূর্য উভয় চোখে অবস্থান করেন। সমস্ত পবিত্র নদী নাসারন্ধ্রে, আর গঙ্গা প্রবাহে বিরাজ করেন। ঋষিরা চর্মছিদ্রে, আর পদ্মধারী গোমূত্রে অবস্থান করেন। সাহস, দৃঢ়তা, শান্তি, পুষ্টি ও বৃদ্ধি—সবই গরুর আশীর্বাদে আসে। যেখানে গরু আছে, সেখানে জ্ঞান, শান্তি, প্রজ্ঞা ও সর্বোচ্চ সমৃদ্ধি বিরাজ করে। পৃথিবীর যেখানেই গরু আছে, সেখানেই দেবতারা, দেবতাদের অধিপতি সহ অবস্থান করেন। নানা রূপে, সেই প্রিয় গরুগুলো চাহিদা অনুযায়ী উপস্থিত থাকে। সেখানে নারী-পুরুষ, সুশাসিত ও সুরক্ষিত, সবাই সুখে থাকে। এভাবেই পুণ্যকর্মের ফল ও গরুর মাহাত্ম্য সম্পর্কে চিত্রগুপ্তের বাণী পুরাণে প্রকাশিত হয়।