পঞ্চম স্তরে পাঁচ রকমের যন্ত্রণা, ষষ্ঠ স্তরে ছয় রকমের যন্ত্রণা বলে বর্ণনা করা হয়েছে। মৃত ব্যক্তিরা একদিন ও একরাত্রির মধ্যেই সেই ভয়ংকর নগরীর পথে যাত্রা করেন। সেখানে কেবল কষ্টই আছে, সুখের কোনো চিহ্ন নেই; এক কষ্টের ওপর আরও কষ্ট যোগ হয়। সেখানে মৃতরা মুক্তি পায়, তবে মৃত্যুদূতরা সেখানে খুব কমই দেখা যায়। কোনো সুখ নেই, কিছুই নেই—শূন্যতা ও যন্ত্রণায় ভরা সেই স্থান। ভূমি সেখানে গরম, ধারালো লোহার কাঁটায় ঢাকা। ক্ষুধা সেখানে অত্যন্ত তীব্র, তৃষ্ণাও অসীম। যখন কেউ জলপান করতে চায়, দানবরা তাকে এক হ্রদের কাছে নিয়ে যায়। জলপানের আকাঙ্ক্ষায় সে দ্রুত সেখানে ছুটে যায়। তখন দানবরা রান্না করা মাংস নিয়ে আসে। সেই হ্রদে বহু মাছ সবকিছু গিলে ফেলে। একটু কাছে গেলেই যন্ত্রণার অভিজ্ঞতা নিতে তারা পড়ে যায়। বসে থাকুক, যাত্রা করুক বা দৌড়াক—যেন সেই কাঁটা তাদের মাথায়ই বিঁধে আছে। সেখানে মল-পূর্ণ গর্ত এবং ভয়ংকর কুম্ভীপাক নরকও রয়েছে। দানবরা ধারালো নখ দিয়ে নির্মমভাবে ছিঁড়ে ফেলে। সেখানে তলোয়ার-পাতার বন ও সূচালো কাঁটার বনও আছে। পথ চলতে চলতে তারা পুড়ে যায়, কাটা যায়, ছিদ্র হয়, এবং ভেঙে পড়ে। সেখানে কালো ও দাগযুক্ত কুকুর, ভয়ংকর ও কাছে যাওয়া কঠিন। সিল্ক-কটন গাছ, কাঁটা-ভরা ও শত্রুতাপূর্ণ, সেখানে দাঁড়িয়ে আছে। সেই পাপী ব্যক্তির জন্য যত যন্ত্রণা ও বিপদ—সবই সেখানে। কেউ শীত চাইলেও গরম, কেউ গরম চাইলেও শীত; চাহিদার বিপরীতে কষ্টই তার ভাগ্যে জোটে। হাজার হাজার দানব ক্রমাগত শত শত টুকরো করে কেটে ফেলে। সেখানে এক ভয়ংকর নদী আছে, জল ও ভয়ানক সাপ-ভর্তি। তার নাম করম্ভা-বালুকা, একশো যোজন বিস্তৃত। এরপর আসে মহা নদী, বৈতরণী, লবণাক্ত জলে ভরা। সেখানে কাদা এত গভীর যে, ত্বক, মাংস ও হাড় ভেঙে যায়। ধনুকের সমান দৈর্ঘ্যের পেঁচা, হীরার মতো জিহ্বা দিয়ে হাড় ভেঙে দেয়। এক যোজন দীর্ঘ কাদার পথ কষ্টে পার হয়ে গেলে, অসংখ্য ইঁদুর নানা ভাবে দেহকে খেয়ে ফেলে। সকালে বাতাসের স্পর্শে আবার দেহে মাংস ফিরে আসে। সেখানে ভয়ংকর আমবন আছে, যেখানে নানা পাখি বাস করে। সেই মৃত ব্যক্তি শিরা-জালহীন, চোখ ও কানহীন। সেই আমবন সদা বিকশিত, সন্ধ্যার মেঘের মতো দীপ্ত। এটি যমের ভাটারূপে পরিচিত, গভীর ও তিন যোজন প্রশস্ত। সেখানে হাজার হাজার, এমনকি কোটি কোটি মৃত আত্মা অবস্থান করে। তারা কুল্লীর পেটে বিশ্রাম নেয়, আর সেই প্রবাহ তাদের দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যায়। প্রতিটি স্থান, আগের মতোই, পার হওয়া কঠিন ও ভয়ংকর, নির্দিষ্ট ক্রমে। সেখানে দশটি কাঁটা-লতা ও তেরোটি ফুটন্ত দণ্ডের কড়াই রয়েছে। সর্বত্র দয়া-শূন্য, ভয়ংকর রাক্ষসেরা অবস্থান করে। শুকনো কুয়ো ও ধোঁয়ার মধ্যে, সে উল্টো হয়ে ঝুলে থাকে। এইভাবেই মৃত ব্যক্তিরা একের পর এক নরকের বিভীষিকা ও যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাত্রা করে, কেবল কষ্ট, কোনো সুখ নেই; শাস্তির এই পথ চিরকাল স্মরণীয়।