একদিন, শ্রীবরাহ পুরাণে বর্ণিত বিধি অনুসারে, একজন ভক্ত তাঁর দেবতার কাঠের মূর্তির প্রতিষ্ঠা করতে চাইলেন। তিনি প্রথমে নির্দেশিত যজ্ঞক্রিয়া অনুসারে মূর্তির অভিষেক সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি মন্ত্র উচ্চারণ করেন: “তুমি সকলের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, আশ্রয়, প্রভু, তুমি কখনও ব্যর্থ হও না, সদা অবস্থান কর।” এইভাবে সমস্ত ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তিনি তাঁর প্রতিষ্ঠার অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেন। সুগন্ধি দ্রব্য, ফুল, উঙ্গন এবং অন্নের দ্বারা পূজা করেন। এই পদ্ধতিতে, সুন্দরী দেবি, যদি কেউ মধুকা বৃক্ষের কাঠের মূর্তি স্থাপন করে, এইভাবে পূজা করে, তবে তার পূজা প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানেই ‘মধুকা কাঠের মূর্তির পূজা প্রতিষ্ঠা’ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে। এরপর শ্রীবরাহ দেবি বসুন্ধরাকে বলেন, “এবার আমি পাথরের মূর্তির প্রতিষ্ঠার বিধি বর্ণনা করব, মনোযোগ দিয়ে শুনো।” প্রথমে, নির্দোষ, সুন্দরভাবে গঠিত একটি পাথর খুঁজে নিতে হবে এবং তা ভালোভাবে পরীক্ষা করতে হবে। তারপর সাদা চিহ্নিত দণ্ড দিয়ে সেই পাথরে চিহ্ন অঙ্কন করতে হবে। এরপর প্রদীপ ও দধি-ভাতের নিবেদন করতে হবে। মন্ত্র উচ্চারণ করতে হবে: “তুমি সকলের মধ্যে বিখ্যাত, সোম ও অগ্নির দীপ্তিতে উজ্জ্বল, জ্ঞানীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।” “হে সর্বোচ্চ, দশ হাজারগুণ বরাহ, বিজয়, বিজয়, তুমি বৃদ্ধি হও! এভাবে রূপ গঠন করে, প্রভু নারায়ণকে প্রতিষ্ঠা করো।” এরপর পূর্বদিকে মুখ করে মূর্তি স্থাপন করতে হবে। সাদা পবিত্র সুতো পরে, দাঁত পরিষ্কার করে, মন্ত্র উচ্চারণ করতে হবে: “হে প্রভু, তুমি সকল রূপে অবস্থান করো, মায়ার শক্তিতে, সমগ্র বিশ্বজগতের মূলতত্ত্ব।” “হে অস্ত্রধারী, অজেয়, চিরযৌবন, অমর—এভাবে পাথরে মূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হয়, সুন্দরী দেবি।” যে ব্যক্তি আমার এই বিধি অনুসারে প্রতিষ্ঠা করে, হে ধরিত্রী, সে আমার পূজায় নিবেদিত হয়। যব ও দুধের ভাত খেয়ে, একদিন ও একরাত ধরে অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে হবে। পঞ্চগব্য, সুগন্ধি ও জল একত্রিত করে ব্যবহার করতে হবে। সেখানে উৎসব পালন করতে হবে গান ও বাদ্যযন্ত্রের শব্দে। ব্রাহ্মণরা হাজার হাজার অক্ষরযুক্ত ব্রহ্মের স্তোত্র পাঠ করবে। দেবি, আমি আসব; মন্ত্রের পাঠ আমার প্রিয়। সৎ ব্যক্তি পুনঃআহ্বান মন্ত্রে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে। এই সকল প্রাণীর মধ্যে, বিশ্বনায়ক, বিধানকারী সদা প্রতিষ্ঠিত থাকেন। এই মন্ত্র, সমিদ ও ঘৃত দ্বারা যজ্ঞ সম্পন্ন করতে হবে। যখন এই পদ্ধতিতে অনুষ্ঠান হয়, আমি নিজেই উপস্থিত হই। এরপর পঞ্চগব্য মন্ত্রসহ বিধি অনুসারে পান করতে হবে। তারপর শুভ গান ও বাদ্যযন্ত্রের সাথে আমাকে মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। মন্ত্র উচ্চারণ করতে হবে: “যিনি শুভ লক্ষণে চিহ্নিত, সদা লক্ষ্মীর সাথে যুক্ত, প্রাচীন।” এই মন্ত্রে দেবতাকে মন্দিরে আনতে হবে। প্রতিষ্ঠার পর, প্রভুর অভিষেক করতে হবে। অভিষেক শেষে মন্ত্র পাঠ করতে হবে: “হে শুভ জগতের প্রভু, প্রশংসিত ও স্বাগত, মন্ত্রসহ এখানে অবস্থান করো।” এরপর পূজা করতে হবে সুগন্ধি দ্রব্য ও মালা দিয়ে। মন্ত্র: “হে দেবতাদের প্রভু, এই বস্ত্র গ্রহণ করো, যা আমি ভক্তিভরে প্রস্তুত করেছি।” এইভাবে বিধি অনুসারে আমাকে বস্ত্র দান করতে হবে এবং ধূপ নিবেদন করতে হবে মন্ত্রসহ। মন্ত্র: “সেই আদিপুরুষ, প্রাচীন, নারায়ণ, সকল জগতের প্রধান।” পূজা শেষে অন্ন নিবেদন করতে হবে। পূর্বে উল্লিখিত মন্ত্রে প্রাপণক দান করতে হবে। তারপর শান্তির জন্য পাঠ করতে হবে—যা সকল কাজে সফলতা দেয়, শিশু, বৃদ্ধ, গাভী, প্রাঙ্গণ, কুমারী ও ভক্ত স্ত্রীর জন্য শান্তি নিশ্চিত করে। এইভাবে শ্রীবরাহ পুরাণে বর্ণিত বিধি অনুসারে কাঠ ও পাথরের মূর্তির প্রতিষ্ঠা ও পূজা সম্পন্ন হয়, এবং ভক্তের হৃদয়ে দেবতার উপস্থিতি স্থায়ী হয়।