আমি এখন তোমাকে বরাহ পুরাণের এক মনোজ্ঞ অধ্যায়ের ঘটনা ধারাবাহিকভাবে বলছি। গোকর্ণ একদিন মথুরার উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন। পথে, তিনি জলমগ্ন মহাসাগরের পাশে এসে দাঁড়ালেন। তিনি বললেন, “আমার অবশ্যই যেতে হবে; অনুমতি দিন।” তখন কেউ তাঁকে বললো, “যাও, পুত্র, মথুরায় গিয়ে আমার বর্তমান অবস্থাটি দেখো।” এইভাবে নির্দেশ পেয়ে, গোকর্ণ সম্মতি জানালেন—“তথাস্তু”—এবং শ্রেষ্ঠ পাখি নৌকায় উঠলো। পথে শুনতে পেলেন, সেই ব্যক্তির অবস্থা খুবই সংকটপূর্ণ, এমনকি তিনি প্রয়াত হয়েছেন। এই সংবাদে সবাই গভীরভাবে শোকাহত হলো। তখন এক পাখি বললো, “হে পাখি, আমাদের বাঁচার জন্য তোমাকে কিছু করতে হবে।” খাঁচায় বন্দী তোতার কথোপকথন ও জ্ঞান দ্বারা, তারা চেষ্টা করলো। এরপর এক বিশাল কাফেলা এসে পৌঁছালো, যার মধ্যে ছিল অসংখ্য রত্ন, যেন এক মহাসাগরের মতো। মোট বিশজন, প্রত্যেকের সঙ্গে সাগরের লোকজন ছিল। তাদের সবাইকে সন্তুষ্ট ও সম্মানিত করে বিদায় দেওয়া হলো, তারা নিজ নিজ গৃহে ফিরে গেল। তারা সেই বণিককে নিজের পিতার মতো সেবা করতো। এভাবেই গোকর্ণের গোকর্ণ মাহাত্ম্যের বরাহ পুরাণের একশ একাত্তরতম অধ্যায় শেষ হলো। এরপর শ্রী বরাহ বললেন: প্রথম দিনে যেমন কর্তব্য, ত্রয়োদশীতেও তেমনই পালন করা হয়। তখন দেবীগণ নৃত্য ও সংগীতে দক্ষ হয়ে উঠলেন। গোকর্ণ, তাঁর সমস্ত মন-প্রাণ দিয়ে, নিজ গৃহ ভুলে গেলেন। কিন্তু তাদের মুখশ্রী ফ্যাকাসে, বিষণ্ন, অলংকার ও বস্ত্র ভেঙে গেছে। তাদের দেহ বিকৃত, ক্ষতবিক্ষত ও রক্তস্রোতে আচ্ছাদিত। যার পুত্র নেই, তার কোনো পথ নেই, স্বর্গ নেই, কিছুই নেই—এ কথা জেনে, গোকর্ণ তাদের রূপের এই পরিবর্তন সম্পর্কে জানতে চাইলেন। তখন দেবীগণ বললেন, “সে প্রভু সময় স্বয়ং, যার দ্বারা সৎকর্মের ফল ভোগ করা হয়। তিনিই চিরকালীন সময় হিসেবে বারবার প্রশ্ন ও উত্তর করেন।” গোকর্ণ নিশ্চিত হতে আবার তাদের প্রণাম করলেন। তিনি বললেন, “আমার কষ্টের বিকৃতি যদি প্রকাশ করো, যদিও তা গোপন রাখার কথা—” তখন তাদের মধ্যে একজন বললেন, “শোনো, বৎস, আমি তোমাকে বলি কিভাবে এই বিকৃতি ঘটেছে।” তিনি বললেন, “মধুর এক মনোরম নগরী আছে, যা মানুষকে মুক্তি দেয়। তিনি সেখানে ভক্তি নিয়ে গিয়েছিলেন, চতুর্মাস্য ব্রত পালন করেছিলেন। সেখানে ছিল মনোরম উদ্যান, সুদৃঢ় প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। তার ভিতরে ছিল ফলবতী বৃক্ষ, সব ঋতুতেই মনোমুগ্ধকর। কিন্তু সেই সকল উদ্যান ও ফলবতী বৃক্ষ দাসদের দ্বারা ধ্বংস হয়ে গেল। অনেকেই বাধা দিতে চেষ্টা করলেও, কুটিল মনোভাবের লোকেরা তাতে ক্ষান্ত হয়নি।” তখন তিনি খাঁচায় বন্দী সিংহের মতো ভাবলেন, “আমাদের কে উদ্ধার করবে?” এক নারী উচ্চস্বরে, বিষণ্নভাবে চিৎকার করলেন, “হায়, কত ভয়াবহ!” শোনা যায়, গোকর্ণও নানা ভাবে গভীরভাবে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তিনি করজোড়ে, কোমল ও বিষণ্ন কণ্ঠে, ধীরে ধীরে তাদের সান্ত্বনা দিলেন। তিনি বললেন, “আমি যদি সেখানে থাকি, সেই রাজাকে আমি সংযত করবো।” এই কথা বলা মাত্র, সবাই স্থির হয়ে গেলেন এবং প্রশ্ন করলেন, “তুমি কে? আমাদের বলো, আর কেন তুমি তোমার স্থান থেকে এখানে এসেছ?” গোকর্ণ বললেন, “পূর্বে আমি তোমাদের সবাইকে দেখেছি, সুন্দর রূপ ও মনোজ্ঞ চোখে। এখন তোমরা অগোছালো হয়ে গেছ, এতে আমার দুঃখ আরও বেড়েছে।” তখন তাঁর সামনে, সবচেয়ে বড়ো দেবী, নিজস্ব ফুল দিয়ে সজ্জিত হয়ে, কথা বললেন। এইভাবেই বরাহ পুরাণের এই অধ্যায়ের ঘটনাগুলো একে একে unfolded হলো, গোকর্ণের ভক্তি, দেবীদের দুঃখ, ও তাদের মধ্যে হৃদয়স্পর্শী কথোপকথন দিয়ে।