যমুনার তীরে এক পবিত্র তীর্থ ছিল, যেখানে যে কেউ স্নান করে এবং সেখানেই দেহত্যাগ করত, সে স্বর্গে গমন করত এবং পুনর্জন্ম আর পেত না। সেই স্থানে, যিনি বিঘ্নের অধিপতি, তিনি কখনোই স্নানকারীদের কষ্ট দেন না। সেই উৎকৃষ্ট তীর্থে স্নান করলে বিঘ্নরাজ কোনো দুঃখ দেন না। পার্বতী-পুত্র গণেশ সর্বদা এমন ভক্তের সমস্ত বিঘ্ন দূর করেন। এই তীর্থের পরেই কোটিতীর্থ নামে এক অতিশুদ্ধ স্থান আছে। সেখানে যে ব্যক্তি মোহ ও লোভ ত্যাগ করে জীবন ত্যাগ করেন, তিনি পরম গতি লাভ করেন। এরপর আছে শিবক্ষেত্র, যা অর্ধ ক্রোশ দূরে এবং পৌঁছানো বেশ কঠিন। সেখানে স্নান ও জলপান করলে মথুরার ফল লাভ হয়। এভাবেই ‘যমুনাতীর্থের মহিমা’ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে বরাহ পুরাণের মথুরা-মাহাত্ম্য অংশে। এরপর দেবীকে বলা হলো—এবার আমি আবার বলব অতি দুর্লভ অক্রূরতীর্থের মাহাত্ম্য। হে পৃথিবী, সেখানে আমি সর্বদা জগতের মঙ্গলার্থে অবস্থান করি। সংক্রান্তি, বিষুব এবং বিষ্ণুপদী কালে আমার এই ক্ষেত্র অক্রূর নামে বিখ্যাত। এখানে স্নান করলে মানুষ রাজসূয় ও অশ্বমেধ যজ্ঞের ফল পায়। আবার স্নান করলে প্রয়াগে স্নানের যে ফল, তাও লাভ হয়। এখানে সুজন সুধন আমার চিরকাল ভক্ত। তিনি গৃহে আত্মীয়, সন্তান ও পত্নীর সঙ্গে অতুল স্নেহ উপভোগ করেন। তার দিন, মাস ও বছর কেটে যায় ধারাবাহিকভাবে। তিনি কখনো ওজন বা মাপে প্রতারণা করেন না। সর্বদা হরির উৎকৃষ্ট পূজায় মন দেন। দেবোৎসর্গ ও সুগন্ধি ধূপ দিয়ে তিনি পূজা করেন। উপবাস ও নিশাজাগরণও পালন করেন। একদিন তিনি সেখানে এসে শুভ চেহারায় আমার সামনে নৃত্য করছিলেন। চলতে চলতে হঠাৎ এক ব্রহ্ম-রাক্ষস এসে তার পায়ে ধরে ফেলল। তখন সেই ব্রহ্ম-রাক্ষস পৃথিবীর উদ্দেশে বলল—“হে শ্রেষ্ঠ বৈশ্য, আমি অরণ্যে বাসকারী এক রাক্ষস।” সুধন বলল—“তুমি কি আমার এই সুস্বাদু আহারে পুষ্ট দেহ ভক্ষণ করবে? আমি দেবতাদের প্রভুর জন্য নিশাজাগরণ করতে চাই, হে রাক্ষস। সেখানে আমি জাগরণ শেষে, তোমার সামনে সকালে, তখন তুমি আমার দেহ ভক্ষণ করতে পারো। আমার এই ব্রত ভঙ্গ করো না, কারণ এটি নারায়ণের জন্য।” সুধনের কথা শুনে, ক্ষুধায় কাতর ব্রহ্ম-রাক্ষস বলল—“তুমি মিথ্যা বলছ, সজ্জন; কিভাবে তুমি আবার ফিরে আসবে?” রাক্ষসের কথা শুনে সুধন উত্তর দিল—“যারা বেদজ্ঞ, তারা সত্যের দ্বারা সিদ্ধি লাভ করেন। মানুষের জীবনও অন্তরের নিয়ম মেনে চলে। এখানে জাগরণ শেষে, ইচ্ছামতো নৃত্য করা যায়। কন্যাদান সত্যে হয়; ব্রাহ্মণরা সত্য বলেন। তারা স্বর্গে যেতে চায় সত্যের দ্বারা; মুক্তি লাভ হয় সত্যে। যম সত্যে গ্রহণ করেন; ইন্দ্র সত্যে দীপ্তিমান হন।” এভাবেই তীর্থের মাহাত্ম্য ও সত্যের গুরুত্ব প্রকাশ পায়।