হে ধরিত্রী, শুনো, আমি তোমাকে এক মহাপবিত্র তীর্থক্ষেত্রের মাহাত্ম্য জানাচ্ছি। যে কেউ—সে নারী হোক, পুরুষ হোক, কিংবা তৃতীয় লিঙ্গের—যদি সেখানে প্রাণ ত্যাগ করে, সে মহান ফল লাভ করে। এখন আরও কিছু বলছি, মনোযোগ দিয়ে শোনো। যে কেউ সেখানে স্নান করে, সে নন্দনবনে গমন করে। এক হাজার বছর স্বর্গে অবস্থান করে সে, তারপর আবার কোনো উচ্চকুলে জন্ম লাভ করে। বিশেষ করে, কার্তিক মাসের শুক্ল দ্বাদশীর দিনে যদি কেউ সেখানে প্রাণ ত্যাগ করে, তার জন্য অশেষ কল্যাণের ব্যবস্থা আছে। আবার শোনো, ও ধরিত্রী। যদি কেউ সেই স্থানে, মায়া-তীর্থে, জল অর্পণ করে, সে যেন কুবেরের গৃহে প্রবেশ করে—এমন অপূর্ব পুষ্টি ও সমৃদ্ধি লাভ করে। আর যদি কেউ সেই মায়া-তীর্থেই প্রাণ ত্যাগ করে, তারও একইরূপ মহাফল হয়। এখন আরও কিছু বলছি, শুনো। বৈশাখ মাসের শুক্ল দ্বাদশীতে যদি কেউ সেখানে স্নান করে, অথবা শার্ষপক তীর্থে প্রাণ ত্যাগ করে, তাদের জন্যও অশেষ পূণ্য। আবার বলছি, ও সুন্দরনয়নে, শুনে রাখো—সেই স্থানে সমস্ত জল গঙ্গার মত পবিত্র ও শীতল হয়ে যায়। স্নান করলে, সে সোমলোক লাভ করে ও সেখানে সম্মানিত হয়। পরে স্বর্গ থেকে পতিত হলেও, সে ব্রাহ্মণরূপে জন্ম লাভ করে। আবার, যদি কেউ মার্গশীর্ষ মাসে সেখানে প্রাণ ত্যাগ করে, সে সর্বদা আমাকে—উজ্জ্বল, চতুর্ভুজ রূপে—দেখতে পায়। এখন আরও বলছি, মনোযোগ দাও। যদি কেউ একাগ্রচিত্ত, আমার প্রতি ভক্তি নিয়ে, আমার অনুসারী হয়ে সেই তীর্থে যে কোনো সময় স্নান করে, স্বর্গ থেকে পতিত হলেও, সেই তীর্থের শক্তিতে সে আবার জন্ম-মৃত্যুর চক্রে পড়ে না, ক্লান্তি বা কোনো ভয় তার থাকে না। বিশেষ করে বৈশাখ মাসের শুক্ল দ্বাদশীতে, এই ফল আরও নিশ্চিত হয়। এবার আমি সেই তীর্থের চিহ্ন তোমাকে জানাচ্ছি, যাতে তা সহজেই চেনা যায়। মাঘ মাসের শুক্ল দ্বাদশীতে, সেই পবিত্র জলে ইচ্ছামত আগমন ও প্রস্থান করা যায়। ওই দিন যদি কেউ সেখানে প্রাণ ত্যাগ করে, তারও মহাফল হয়। আবার বলছি, শুনো। কুব্জাম্র নামক অরণ্যে সেই স্থানটি আমার অত্যন্ত প্রিয়। তার চিহ্নও বলছি—ওখানে রথচক্রের মতো বড় একটি কচ্ছপ বিচরণ করে। সেখানে স্নান করলে, অনন্য ও শ্রেষ্ঠ ফল লাভ হয়। এতে কোনো সন্দেহ নেই—সেখানে দশটি পদ্মের সমান ফল লাভ হয় এবং সে সর্বদা সিদ্ধি অর্জন করে, আমার লোক লাভ করে। এই পবিত্র স্থানটি কুব্জাম্রের অগ্নিতীর্থ নামে পরিচিত। কার্তিক (কৌমুদা) মাস, মার্গশীর্ষ মাস, কিংবা মাধব মাসের উপযুক্ত সময়ে যারা সেখানে উপস্থিত হয়, তাদের জন্যও এইসব মহাফল নির্ধারিত। এখন, ও ধরিত্রী, আমি আবার সেই তীর্থের চিহ্ন বর্ণনা করছি, মনোযোগ দিয়ে শোনো।