নীল পর্বত ও কুম্ভ পর্বতের মাঝখানে, সুখা নামে এক নদী প্রবাহিত। তার তীরে বিস্তৃত এক অরণ্য, যেখানে গাছের কাণ্ড দুই বাহুর মতো মোটা, ডালপালা তিন হাত লম্বা ও প্রশস্ত। সেই গাছের ফ্যাকাসে পুংকেশর যেন সিঁদুরের গুঁড়ার মতো ঝলমল করে। গোটা অরণ্যটি মোহময় ফুল ও সুগন্ধি পুষ্পে ভরা, মাতাল ভ্রমরের গুঞ্জন চারপাশে প্রতিধ্বনিত হয়। এই অরণ্যে দানব, দৈত্য, গন্ধর্ব, যক্ষ, রাক্ষস, কিন্নর, অপ্সরা ও মহানাগদের আনাগোনা। এখানেই প্রাণিসৃষ্টির অধিপতি পুণ্যশালী কশ্যপ মুনির আশ্রম, সিদ্ধ ও ঋষিদের ভিড়ে মুখর, নানা আশ্রমে পূর্ণ। সেই অরণ্যে রয়েছে এক অপূর্ব তালবন—পঞ্চাশ যোজন দৈর্ঘ্য, ত্রিশ যোজন প্রস্থ, আর গাছগুলো অর্ধ ক্রোশ উচ্চতায় উঠে গেছে। এই অরণ্য অটল, বলবান, স্থির বৃক্ষে পূর্ণ, যাদের কাণ্ড গাঢ় কাজলের দণ্ডের মতো ঘন, বাঁকা ও বিশাল ফলধারী। এদের সুবাস ও গুণে ভরা এই বন সিদ্ধপুরুষদের প্রিয়, আর বলা হয়, ঐখানেই বাস করেন দেবশ্রেষ্ঠ গজরাজ ঐরাবত। ঐরাবত, রুদ্র ও দেবপর্বতের মাঝে হাজার যোজন দৈর্ঘ্য ও একশ যোজন প্রস্থের এক বিস্তীর্ণ ভূমি, যেখানে একটানা পাথরের পাত, গাছ-গাছালি নেই, সর্বত্র এক হাত গভীর জলে ঢাকা। এভাবেই মেরুর নিকটবর্তী নানা উপত্যকার বর্ণনা সম্পন্ন হলো। রুদ্র তখন দক্ষিণ দিকের পর্বত উপত্যকার কথা বলেন। শীশির ও পতঙ্গ পর্বতের মাঝে সাদা ভূমি, যেখানে লতা-পাতা ঝরেছে, গাছও কম। ইক্ষুক্ষেপ শিখরে, বৃক্ষশোভিত চূড়ায়, এক মনোরম অশ্বত্থ বাগান, যেখানে নানা পাখির দল ঘুরে বেড়ায়। সেই অশ্বত্থ বাগান বড় কচ্ছপের মতো ফল দিয়ে দীপ্তিময়। এখানে অনেক নদী প্রবাহিত, স্বচ্ছ ও মধুর জলে পূর্ণ। এখানে কর্দম প্রজাপতির আশ্রম, নানা ঋষিতে মুখর। অরণ্যটি একশ যোজন জুড়ে বৃত্তাকার। তাম্রাভ ও পতঙ্গ পর্বতের মাঝে এক বিশাল হ্রদ, একশ যোজন প্রশস্ত, দ্বিগুণ দৈর্ঘ্য, চারিদিকে নবসূর্যের মতো পদ্মফুলে শোভিত, অসংখ্য সিদ্ধ ও গন্ধর্বের আবাস। হ্রদের মাঝখানে এক মহাশৃঙ্গ, একশ যোজন দৈর্ঘ্য, ত্রিশ যোজন প্রস্থ, নানা রত্ন ও খনিজে শোভিত। তার চূড়ায় রত্নমণ্ডিত প্রবেশপথ ও ধনুকাকৃতি দ্বার, যেখানে বিদ্যাধরদের মহানগরী, আর বিদ্যাধররাজ পুলোমা লক্ষাধিক অনুসারী নিয়ে বাস করেন। আবার, বিকাক্ষা ও শ্বেত পর্বতের মাঝে এক হ্রদ, তার পূর্বতীরে সুবর্ণবর্ণ, সুগন্ধি, বৃহৎ কলসের মতো আমে ভরা এক বিশাল আমবন, দেবতা ও গন্ধর্বদের আবাস। সুমূল ও বসুধারা পর্বতের মাঝে ত্রিশ যোজন প্রস্থ, পঞ্চাশ যোজন দৈর্ঘ্যের এক ভূমি—বিল্বস্থলী নামে পরিচিত। এখানে প্রবালবর্ণ ফল, পড়ে মাটি ভিজিয়ে দেয়, আর গোপন জীবেরা এই বিল্বফল খেয়ে বাস করে। বসুধারা ও রত্নধারার মাঝে সুবাসিত কিমশুকবন, সর্বদা পুষ্পে ভরা, ত্রিশ যোজন প্রশস্ত, একশ যোজন দীর্ঘ, যার সুবাস শত যোজন ছড়িয়ে পড়ে। এখানে সিদ্ধপুরুষেরা থাকেন, জলেরও ব্যবস্থা আছে। এখানেই সূর্যদেবের মহান আবাস। প্রতি মাসে প্রজাপতি সূর্য এখানে অবতরণ করেন, দেবতারা তাঁকে কালস্রষ্টা রূপে পূজা করেন। আবার, পঞ্চকূট ও কৈলাসের মাঝে হাজার যোজন দৈর্ঘ্য, একশ যোজন প্রস্থের এক ভূমি, রাজহংসের মতো শুভ্র, সাধারণের অগম্য, স্বর্গের সিঁড়ির মতো মনে হয়। এবার পশ্চিম দিকের উপত্যকার বর্ণনা। সুপার্শ্ব ও শিখি পর্বতের মাঝে শত যোজনজুড়ে পাথুরে, সর্বদা উত্তপ্ত, স্পর্শে কষ্টকর ভূমি। তার কেন্দ্রে গোলাকার ত্রিশ যোজন বিস্তৃত এলাকা, যেখানে সদা জ্বলন্ত, ইন্ধনবিহীন, বিশ্বনাশী দেবসম্বর্তক অগ্নির আবাস। কুমুদ ও অঞ্জন পর্বতের মাঝে শত যোজন প্রশস্ত আত্মুলুঙ্গস্থলী, সকল জীবের অগম্য, হলুদ ফলে ঢাকা। এখানে সিদ্ধপুরুষদের প্রিয় পবিত্র হ্রদ ও বৃহস্পতির অরণ্য। আবার, হলুদ ও শ্বেত পর্বতের মাঝে বহু শত যোজন দীর্ঘ উপত্যকা, পদ্মে শোভিত, ভ্রমরের গুঞ্জনে মুখর। এখানেই পরমপুরুষ বিষ্ণুর শ্রেষ্ঠ আবাস। আবার, মহান শ্বেত ও ফ্যাকাসে পর্বতের মাঝে ত্রিশ যোজন প্রশস্ত, নব্বই যোজন দীর্ঘ পাথুরে অঞ্চল, বৃক্ষহীন। এখানে স্বচ্ছ জলাশয়, বৃক্ষ ও ভূমিপদ্মে শোভিত, নানা পদ্মে অলঙ্কৃত। তার কেন্দ্রে পাঁচ যোজন আকারের এক মহাবটবৃক্ষ, যেখানে নীলবসনা মহেশ্বর, যক্ষ ও অন্যান্য দ্বারা পূজিত। সহস্রশিখর ও কুমুদ পর্বতের মাঝে পঞ্চাশ যোজন দীর্ঘ, বিশ যোজন প্রশস্ত, ইক্ষুক্ষেপের সমান উচ্চ এক শৃঙ্গ, নানা পাখিতে মুখর, নানা ফল ও মধুর রসে শোভিত। এখানে দেবতাজনিত ইন্দ্রের মহান আশ্রম। শঙ্খকূট ও ঋষভ পর্বতের মাঝে বহু যোজন বিস্তৃত পুরুষস্থলী, সুবাসিত কঙ্কোলক ফলে পূর্ণ, যার ফল বিল্বফলের মতো বড়। এখানে মাতাল হাতি ও অন্যান্য প্রাণী বাস করে। কপিঞ্জল ও নাগ পর্বতের মাঝে দুইশ যোজন দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ, একশ যোজন বিস্তৃত ভূমি, নানা অরণ্য, আঙুর ও খেজুরের গুচ্ছ, বহু বৃক্ষ ও লতা, বহু হ্রদে পূর্ণ। পুষ্কর ও মহামেঘের মাঝে ষাট যোজন প্রশস্ত, একশ যোজন দীর্ঘ, তালুর মতো সমান, বৃক্ষ ও ঝোপহীন এক ভূমি। তার পাশে চারটি বৃহৎ বন ও হ্রদ, প্রত্যেকটি বহু যোজন বিস্তৃত। আরও নানা ভূমি ও উপত্যকা—দশ, পাঁচ, সাত, আট, ত্রিশ, কুড়ি যোজন—কিছু কিছু পর্বতধ্বংসের ফলে ভয়ংকর। এবার দেবতাদের পর্বতাবাসের বর্ণনা। শান্ত পর্বতে মহেন্দ্রের ক্রীড়াক্ষেত্র, সেখানে দেবরাজের পারিজাতবন। পূর্বদিকে কুঞ্জর পর্বত, তার ওপর দানবদের আটটি প্রাচীন নগরী। বজ্রক পর্বতে রাক্ষসদের বহু নগরী, নীলক নামে রূপান্তরশীল রাক্ষসেরা এখানে বাস করে। মহানীল পর্বতে বিদ্যাধরদের নগরী। এখানে পনেরো হাজার প্রসিদ্ধ কিন্নরনগরী, যাদের রাজা দেবদত্ত, চন্দ্র প্রভৃতি। এই নগরীগুলো সুবর্ণ, ভূগর্ভে প্রবেশপথ। চন্দ্রোদয় পর্বতে নাগদের আবাস, গুহার মধ্যে তাদের গোপন প্রবেশপথ, আর দানবরাজারা নিজ নিজ রাজ্যে প্রতিষ্ঠিত। ভেনুমতীতে তিনটি বিদ্যাধরনগরী, প্রত্যেকটি শত যোজন বিস্তৃত, রাজা উলুকরোম, মহাবেত্র প্রভৃতি এখানে বাস করেন। প্রতিটি পর্বতরাজে গরুড় স্বয়ং বিরাজমান। কুঞ্জরে পশুপতি সর্বদা অবস্থান করেন—শিব, মহাদেব, যোগীশ্বর, অনন্তগণাধিপতি, আদিপুরুষ। বসুধারায় বসু ও পুষ্পধারীদের আবাস। বসুধারা ও রত্নধারার চূড়ায় আট ও সাতটি প্রাচীন নগরী, বসু ও সপ্তর্ষিদের। একশৃঙ্গ পর্বতে চতুর্মুখ ব্রহ্মার আসন। গজপর্বতে দেবী স্বয়ং মহাভূতবেষ্টিত অবস্থান করেন। বসুধারায় ঋষি, সিদ্ধ ও বিদ্যাধরদের বাস। আরও চুরাশি নগরী, দুর্গ ও প্রবেশপথে সুসজ্জিত। অনেকাপর্বতে যুদ্ধকুশল গন্ধর্বদের আবাস, তাদের রাজা রাজরাজৈকপিঙ্গল। পঞ্চকূট ও শতশৃঙ্গে দেবতা, রাক্ষস, দানবের নগরী, যক্ষদের শত নগরী। তাম্রাভে শতনগরী বিশিষ্ট তক্ষকের নগর। বিশাখাপর্বতে গুহার আবাস। শ্বেতোদয়ে গন্ধর্বদের মহাপ্রাসাদ, হরিকুটে হরির আবাস, কুমুদে কিন্নরদের, অঞ্জনে মহানাগদের, সহস্রশিখরে ভয়ঙ্কর দৈত্যদের আবাস। এখানে হেমমালিনদের সহস্র প্রাচীন নগরী। মুকুট পর্বতের ডানায় চারটি আবাস। মেরুর পর্বতসমূহে দেবতাদের আবাস এভাবেই বিস্তৃত। দেবকূট সীমান্তপর্বতে নগরীর বিন্যাস—একশ যোজন দূরে গরুড়ের জন্মস্থান। পাশে সাতটি গন্ধর্বনগরী, প্রত্যেকটি ত্রিশ যোজন প্রশস্ত, চল্লিশ যোজন দীর্ঘ। এরা অগ্নেয় গন্ধর্ব নামে পরিচিত। এখানে সিংহিকেয়দের ত্রিশ যোজন পরিধির নগরী, কালকেয়দের নগরীও এখানে। দক্ষিণ অভ্যন্তর ঢালে সুনান নামে শহর, ত্রিশ যোজন প্রশস্ত, বাহান্ন যোজন দীর্ঘ, অহংকারী রূপান্তরশীলদের। হেমকূটের মাঝে মহাদেবের বটবৃক্ষ। কৈলাসের বর্ণনা—ঢালে একশ যোজন দীর্ঘ অঞ্চল, জগত্মাল্য অলঙ্কৃত, কেন্দ্রে সভাগৃহ। এখানে স্বর্গীয় প্রাসাদ তৎপুষ্কর, ধনদার আবাস। এখানে পদ্ম, মহাপদ্ম, মকর, কচ্ছপ, কুমুদ, শঙ্খ, নীল, নন্দ, মহানিধি রত্নভাণ্ডার। চন্দ্র প্রভৃতি লোকপালদের আবাস। মন্দাকিনী নদী প্রবাহিত, সঙ্গে কানকমণ্ডা ও মান্দা, আরও নদী। পূর্বদিকে দশটি গন্ধর্বনগরী, প্রত্যেকটি শত যোজন দীর্ঘ, ত্রিশ যোজন প্রশস্ত, শকুবাহুহরিকেশ, চিত্রসেন প্রভৃতি রাজা। পশ্চিম চূড়ায় চল্লিশটি যক্ষনগরী, প্রত্যেকটি আশি যোজন দীর্ঘ, চল্লিশ যোজন প্রশস্ত, মহামালি, সুনেত্র, চক্র প্রভৃতি নেতা। দক্ষিণে কুঞ্জদরির গুহায় শত কিন্নরনগরী, মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত, দ্রম, সুগ্রীব প্রভৃতি শত রাজা। এখানেই রুদ্র-উমার বিবাহ, গৌরীর তপস্যা, রুদ্র শিকারী রূপে অবস্থান, সোম-শঙ্করের জম্বুদ্বীপ দর্শন। উমার কুঞ্জ, কিন্নর-গন্ধর্বগীত, নানা পুষ্পলতা, যেখানে মহেশ্বর অর্ধনারীশ্বর রূপ লাভ করেন। এখানে কার্তিকেয়ের শরৎবন। পুষ্প ও চিত্রক্রৌঞ্চের মাঝে কার্তিকেয় অভিষিক্ত হন, পূর্ব ঢালে সিদ্ধঋষিদের কালাপগ্রাম। এখানে হাজার হাজার মহর্ষি—মার্কণ্ডেয়, বশিষ্ঠ, পরাশর, নল, বিশ্বামিত্র, উদ্দালক প্রমুখের আশ্রম। এবার পশ্চিমের নিশধ পর্বতের কথা শোনা যাক। কেন্দ্রীয় চূড়ায় বিষ্ণু ও মহাদেবের আবাস। উত্তর ঢালে রাক্ষসদের মহানগরী লম্বা, ত্রিশ যোজন প্রশস্ত। দক্ষিণে ভূগর্ভনগরী। প্রভেদকের পশ্চিমে দেবতা, দানব, সিদ্ধদের প্রাচীন নগরী। শিখরে মহাসোমশিলা, পূর্ণিমায় সোমদেব এখানে অবতরণ করেন। উত্তরে ত্রিকূট, যেখানে ব্রহ্মা মাঝে মাঝে থাকেন। এখানে অগ্নির আবাস, দেবতারা দেহধারী অগ্নিকে পূজা করেন। এইভাবে একাশি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে। এবার নদী অবতরণের বর্ণনা। আকাশসাগর থেকে আকাশগঙ্গা উৎপন্ন হয়, যা ইন্দ্রের ঐরাবত হাতির দ্বারা সদা আলোড়িত। এটি চুরাশি হাজার উচ্চতায় উঠে মেরু পর্বতে চমৎকার দৃশ্য সৃষ্টি করে। মেরুর শিখর থেকে বিভক্ত হয়ে চার ভাগে পড়ে, ষাট হাজার যোজন পতিত হয়ে মেরুকে ঘিরে চারদিকে প্রবাহিত—নাম সিতা, অলকানন্দা, চক্ষুভদ্র। এই নদীগুলো শতসহস্র পর্বত ভেদ করে পৃথিবীতে এসে গঙ্গা নামে পরিচিত। এরপর গন্ধমাদন পর্বতের পাশে অমরগন্ডিকা নদী, একত্রিশ হাজার যোজন দীর্ঘ, চারশ যোজন প্রশস্ত। এখানে কেতুমাল জাতির মানুষ বাস করে—পুরুষেরা কৃষ্ণবর্ণ, বলবান; নারী পদ্মবর্ণা, সুন্দর। এখানে বিশাল কাঁঠাল গাছ, অধিপতি ব্রহ্মার সন্তান। এখানকার কূপের জল পান করে দশ হাজার বছর, বার্ধক্য-রোগহীন জীবন। মাল্যবতের পূর্বে পূর্বগন্ডিকা, এক হাজার যোজন দীর্ঘ, ভদ্রাশ্ব জাতি ও ভদ্রশাল অরণ্য। পুরুষ শ্বেতবর্ণ, নারী শাপলাবর্ণা, দশ হাজার বছর আয়ু। পাঁচটি গোত্রপর্বত—শৈলবর্ণ, মালাখ্য, কোরজ, ত্রিপর্ণ, নীল। এদের নামে অঞ্চল, নদী—সিতা, সুবাহিনী, হংসবতী, কাশা, মহাচক্র, চন্দ্রবতী, কাবেরী, সুরসা, শাখাবতী, ইন্দ্রাবতী, অঙ্গারবাহিনী, হরিতয়া, সোমবর্তা, শতহ্রদা, বনমালা, বসুমতী, হংস, সুপর্ণ, পঞ্চগঙ্গা, ধনুষ্মতী, মনিবাপ্র, সুব্রহ্মভাগা, বিলাসিনী, কৃষ্ণতোয়া, পুন্যোদা, নাগবতী, শিব, শেভালিনী, মনিতাতা, ক্ষীরোদা, বরুণাবতী, বিষ্ণুপদী, মহানদী, হিরণ্যস্কন্ধবাহা, সুরবতী, কামোদা, পতাকা—এগুলো গঙ্গার সমতুল্য, জন্ম-মৃত্যুর পাপ নাশ করে। অসংখ্য ক্ষুদ্র নদীও আছে। এই নদীর জল পানকারীরা দশ হাজার বছর বাঁচে। রুদ্র বলেন, আমাকে নিয়ে অতিভক্তি কোরো না। ভদ্রাশ্ব ও কেতুমাল অঞ্চলের পরে, নিশধ পর্বতের পশ্চিমে কুলাচল অঞ্চলের নদীসমূহ—বিশাখা, কম্বল, জয়ন্ত, কৃষ্ণ, হরিত, অশোক, বর্ধমান—এই সাত গোত্রপর্বত থেকে অসংখ্য নদী উৎপন্ন। এখানকার অধিবাসীদের নামও সেভাবেই। যেমন—সৌরগ্রাম, তাসম্তাপ, কৃতাসুরশ্রবণ, কম্বলামহা, হেয়চলকূট, বসমূল, তাপক্রৌঞ্চ, কৃষ্ণ, অঙ্গমণি, পঙ্কজচূড়া, মালাসোমিয়, সমুদ্রান্তক, কুরকুঞ্চ, সুবর্ণ, তটাকুহ, শ্বেতাঙ্গ, কৃষ্ণপাত, বিদক, পিলকর্ণি, কামহিষ, কুব্জ, করনট, মহোৎকট, শুকনাসা, গজভূম, কাকুরঞ্জন, মনহ, কিন্কিষ, পর্ণ, ভৌমক, চোরক, ধূমজন্মা, অঙ্গ, রজত, ইভন, জীবলৌ, কিলবচ, সহঙ্গ, মধুরেয়, শুকেচ, কেয়শ্রবণ, মত্ত, কাশি, গোদাব, আমকুলপঞ্জ, বরজ, হামোদ, সালক। এরা নিজেদের পর্বতের নদীর জল পান করে।