হে মহর্ষি, শুনুন এক অপূর্ব কাহিনি, যেখানে দেবতাদের বিভিন্ন রূপ ও তাদের পবিত্র আবাসভূমির কথা বলা হয়েছে। মনিমত পর্বতের ওপর শম্ভু বিরাজমান, ব্রহ্মণ্য অঞ্চলে প্রজাপতি। ঔষধি পর্বতের শিখরে বিষ্ণু বিরাজ করেন, তুমিই জানতে চেয়েছো, হে ঋষিশ্রেষ্ঠ। গয়ায় গবাদেবতা, গদাধারী ভগবান, এবং সর্বশক্তিমান ঈশ্বর অবস্থান করেন। মহেন্দ্র পর্বতের দক্ষিণ ঢালে অর্ধনারীশ্বর, সহ্য পর্বতে বৈকুণ্ঠ, এবং পরিয়াত্র পর্বতে অপরাজিতা। মালয় পর্বতে সৌগন্ধি, বিন্ধ্য পর্বতের পাদদেশে সদাশিব। পঞ্চাল অঞ্চলে পঞ্চালিকা প্রতিষ্ঠিত, মধ্যুপাটায় স্বয়ম্ভু, পুষ্করে অয়োগন্ধি। এখানেই অবিমুক্ত ও লোলার কথা গীত হয়। কুমারধারায় বহলিশা, বারহিন রূপে কার্তিকেয়। কিষ্কিন্ধাবাসীরা আমাকে বনমালিনা নামে ডাকে। নর্মদায় শ্রীবৎসধারী, সুন্দর আকৃতির, সৌভাগ্যের অধিপতি। অরবুদ, ত্রিসৌপর্ণ, ও সুকরাচল—এই পৃথিবীধারী পর্বতেও তার অবস্থান। এখানেও তৃতীয় শশিশেখর বিখ্যাত। হেমকূট পর্বতে হিরণ্যাক্ষ, শারবণে স্কন্দ, পদ্মনাভ সর্ব সুখের দাতা। মহাহংসের অবস্থানও সেখানে, আর প্রয়াগে বটেশ্বর। ভিলীবনে মহাযোগ, মাদ্র অঞ্চলে পুরুষোত্তম। শূরপারকায় চতুর্ভুজ, মগধে অমৃতের অধিপতি। দণ্ডকারণ্যে বনস্পতি, মহাকোষায় হংস দ্বারা টানা, পাপনাশক। বিন্ধ্য পর্বতের শিখরে মহাশৈরিন, কন্থায় মধুসূদন। লৌহদণ্ডে হৃষীকেশ, কোশলে মোহনীয় রূপ। দেবকানদ্যায় ভূধর, মহোদায় কুশপ্রিয়। সিন্ধু অরণ্যে সুনেত্র, শূরপুরে শূর। ভীমায় শংকুকর্ণ, শালবনে বিখ্যাত ভীম। মহিলাশৈলে মহেশ, কামরূপে শশিপ্রভা। সিংহল দ্বীপে উপেন্দ্র, শক্রাহ্ব নামে কুন্ডমালিন। মহাতলে কালাগ্নিরুদ্র ও কৃত্তিবাসাস, এবং দেবেশ চাগলেশ্বর বিখ্যাত। সহস্রচক্ষু দেবতা, যিনি গদা তুলে অসুরদের দমন করেছিলেন। ভূমিতে পদ্মাকৃতি, মাটিতে চক্রধারী। মহরলোকে অগস্ত্য, মানুষের মধ্যে কপিল। সপ্তম ব্রহ্মলোকে ব্রহ্মা প্রতিষ্ঠিত। যা অচিন্ত্য, নির্ভর, নিরাকাশ, এবং তপস্যায় পূর্ণ। প্লক্ষ দ্বীপে গরুড়ারোহী বিখ্যাত। শাক দ্বীপে সহস্ররশ্মি, পুষ্করে ধর্মরাজ। ভেজা মাটি থেকে দূরতম অঞ্চলে, স্থাবর ও জঙ্গম জীবের মধ্যে। এখানে ধর্মপ্রদানকারী, শক্তিশালী, মেঘনাশক ও হবিষ্যভোজী দেবতারা বন্দিত। দেবতা, মানুষ, এবং সাধ্যরা এখানে ধর্ম, অর্থ, কাম, ও শেষে মোক্ষ অর্জন করেন। এইভাবেই দেবতাদের রূপ ও স্থান, তাদের বিশেষত্ব ও মহিমা, তোমার সামনে প্রকাশিত হলো।