আমি আশ্রয় নিয়েছি সেই মহান ভাসুদেবের কাছে, যাঁকে ধ্যানীজনেরা গভীর চিন্তায় চেতন করেন। আমি আশ্রয় নিয়েছি ভাসুদেবের, যিনি সর্বোচ্চ ব্রহ্ম। আমি আশ্রয় নিয়েছি সেই অবিনশ্বর দেবতার কাছে, যিনি কর্মের শেষে অবস্থান করেন। আমি আশ্রয় নিয়েছি তাঁর কাছে, যাঁকে যোগীরাও লাভ করতে পারে না। আমি আশ্রয় নিয়েছি সেই অবিনশ্বর প্রভুর কাছে, যিনি সৃষ্টি করেন। আমি আশ্রয় নিয়েছি সেই প্রাচীন অধিপতির কাছে, যিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন। আমি নত মাথায় প্রণাম করছি চিরন্তন সৃষ্টিকর্তাকে, যিনি সৃষ্টি কালে প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। আমি প্রণাম করছি সেই আদিপুরুষ বিষ্ণুকে, যিনি জীবদের বিনাশ করেন। আমি প্রণাম করছি সেই বিষ্ণুকে, যিনি মূল প্রভু ও জীবদের বিনাশকারী। আমি প্রণাম করছি চিরন্তন বিষ্ণুকে, যিনি যজ্ঞের পুরুষ। আমি প্রণাম করছি চিরন্তন রুদ্রকে, যিনি অন্তরের পুরুষ। আমি প্রণাম করছি সেই জীববিনাশককে, যাঁর রুদ্ররূপ এবং যিনি নৃত্য করেন। আমি প্রণাম করছি সর্বব্যাপী প্রভুকে, যাঁর থেকে সকলের উদ্ভব। আমি প্রণাম করছি সর্বব্যাপী প্রভুকে, যাঁর অংশ সকলেই। আমি প্রণাম করছি সর্বব্যাপী প্রভুকে, যাঁর একটি অংশই সকলের মধ্যে বিদ্যমান। আমি প্রণাম করছি সর্বব্যাপী অসীমকে, যিনি সকলের মাঝে অবস্থান করেন। এইভাবে, বিষ্ণুর কৃপায় আমার সমস্ত পাপ বিনষ্ট হোক। জ্ঞানে যে পাপ বোঝা যায়, সেটিও যেন আমার জন্য বিনষ্ট হয়। বহু জন্মের কর্ম থেকে উদ্ভূত পাপও যেন আমার জন্য বিনষ্ট হয়। দিনের সন্ধিক্ষণে, কর্মে, মনে বা বাক্যে যে পাপ সংঘটিত হয়েছে—শরীর, মন, বাক্যে যা অশুভ কাজ হয়েছে—সেগুলো দ্রুতই ভাসুদেবের প্রশংসার মাধ্যমে বিনষ্ট হোক। অন্যের ক্ষতি করে যে নিন্দা মহান আত্মাদের উদ্দেশ্যে হয়েছে, সেটি যেন জলের মধ্যে লবণের মতো বিলীন হয়। পূর্বজন্মে যা কিছু হয়েছে, জীবনের পথে যা কিছু ঘটেছে, তা যেন জলের মধ্যে লবণের মতো বিলীন হয়। আমি বারবার জনার্দন, কৃষ্ণকে প্রণাম জানাই। আমি প্রণাম জানাই সেই মহানকে, যিনি অরিষ্ঠ, কেশী, চণূর ও দেবতাদের শত্রুদের হত্যা করেছিলেন। হৈহয় রাজাদের অহংকার কে আর চূর্ণ করতে পারে, যদি না তিনি করেন? দাশগ্রীব, তাঁর মন্ত্রীরা এবং তাঁর নগর—কে তাদের বিনাশ করবে? তিনিই দেবতাদের দেবতা, শাস্তিদাতা ও হত্যাকারী। জ্ঞান বা অজ্ঞানে, ইচ্ছার বা অনিচ্ছার সংযোগে, যেই পাপ হোক—মহাপাপ বা উপপাপ—সবই যেন যোগীদের জন্য জলে কাঁচা মাংসের মতো বিনষ্ট হয়। যিনি এই স্তোত্র দান করেন বা প্রতিদিন পাঠ করেন, তিনি উভয় ফল লাভ করেন। তিনি বিষ্ণুর লোক লাভ করেন—এটাই আমার সত্য ঘোষণা। এইভাবে, সমস্ত অঙ্গ কাঁপানো সেই রাক্ষস যেন আমাকে মুক্তি দেয়। দ্বিজ, কামনাহীন, আবার রাত্রিচরকে সম্বোধন করলেন। সরস্বতী যে বিষ্ণুস্তোত্র রচনা করেছিলেন—তিনি শান্তিদায়ক এই স্তোত্র বিষ্ণুকে উচ্চারণ করলেন।