এক মহাশক্তিশালী নারী ছিলেন, যার তিনটি পুত্র ছিল। তাদের প্রত্যেকের শক্তি হাজার-চক্ষু ইন্দ্রেরও অধিক ছিল। তৃতীয় পুত্রের নাম ছিল নামুচি, সে ছিল অপরিসীম শক্তির অধিকারী। তখন বিষ্ণু, তাঁর হাতে বজ্রধারণ করে, নামুচিকে বধ করতে চাইলেন। তিনি সূর্যের রথে প্রবেশ করলেন, কিন্তু অচ্যুত সেখানে নামুচিকে ধ্বংস করতে সক্ষম হলেন না। হে নারদ, নামুচি অস্ত্র ও শস্ত্রের দ্বারা অজেয় হওয়ার বর লাভ করেছিল। সূর্যের রথ ত্যাগ করে সে পাতাললোকে চলে গেল। তখন দানবদের অধিপতি তাকে দেখলেন, ধরে নিয়ে বললেন, ‘‘এই ফেনা আমাকে স্পর্শ করুক,’’ এবং দুই হাতে ফেনা ধরে নিলেন। এরপর ইন্দ্র বজ্র দিয়ে আঘাত করলেন, যদিও দানব অধিপতি লুকিয়ে ছিলেন। যখন তিনি নিহত হলেন, তখন ব্রহ্মহত্যা বিষ্ণুকে স্পর্শ করল। এরপর নামুচির দুই বীর ভাই, শুম্ভ ও নিশুম্ভ, ক্রুদ্ধ হয়ে উঠলেন। দেবতারা, হাজার-চক্ষু ইন্দ্রের নেতৃত্বে, যুদ্ধের জন্য এগিয়ে গেলেন। তারা বলপূর্বক শক্রর হাতি ও যমের মহিষকে ধরে নিলেন। দানবরা পদ্ম, শঙ্খসহ নানা ধন-রত্ন ছিনিয়ে নিল। তারপর তারা পৃথিবীর উপরিভাগে এসে এক মহা অসুরকে দেখল। সেই অসুর বলল, ‘‘আমি দৈত্য, মহিষাসুরের মন্ত্রী।’’ দুটি মন্ত্রী, চণ্ড ও মুণ্ড, পরাক্রমশালী ও বিখ্যাত ছিলেন। আমাদের অধিপতি ছিলেন দানব মহিষাসুর। ‘‘তোমার বীরত্ব কী, তোমার শক্তি কত? তা প্রকাশ করো। এ হল নিশুম্ভ, আমার ছোট ভাই, শত্রুদের বিনাশকারী। আমরা একত্রিত হয়ে অন্যান্য সকল শক্তিশালী বীরদের পরাজিত করেছি। ততক্ষণ পর্যন্ত, আমরা দুই ভাই, আমাদের সৈন্যবাহিনী নিয়ে, তাদের ধ্বংস করব।’’ চণ্ড ও মুণ্ড, দুই দানব, জলে থেকে উঠে এলেন। তারা কোমল ভাষায় জিজ্ঞাসা করলেন, ‘‘তোমাদের নেতা কে?’’ দ্বিতীয় জন হল নিশুম্ভক, ছোট ভাই। ‘‘আমি তিন জগতের রত্নস্বরূপা নারীকে বিয়ে করব। যিনি অধিপতি, তিনিই রত্নের যোগ্য; তাই সেই নারীকে শুম্ভকে দাও।’’ এরপর কৌশিকী, সৌন্দর্যসম্পন্না, সেইভাবেই জন্মগ্রহণ করলেন। তিনি বিন্ধ্যবাসিনী দেবীর কাছে এক দানব পাঠালেন। নিশুম্ভ ও শুম্ভ, ক্রোধে পূর্ণ হয়ে, এই কথা বললেন। ‘‘আমি আজ সেখানে গিয়ে দেবীর কাছে এই কথা বলেছি।’’ তিনি তোমাকে বললেন, ‘‘আমি তিন জগতের অধিপতি। আমার প্রাসাদে সর্বদা অগণিত রত্ন রয়েছে। তাই তুমি আমাকে অথবা আমার ছোট ভাই নিশুম্ভকে গ্রহণ করো।’’ ‘‘এটা সত্য: শুম্ভ তিন জগতের অধিপতি এবং রত্নের যোগ্য।’’ দেবী বললেন, ‘‘যে আমাকে যুদ্ধে পরাজিত করতে পারবে, সেই মহা অসুরই আমার স্বামী হবে।’’ ‘‘সে কীভাবে তোমাকে পরাজিত করতে পারবে না? উঠো, হে দীপ্তিমান!’’ ‘‘তোমার ইচ্ছা নিয়ে শুম্ভকে জানাও।’’ ‘‘তিনি অগ্নি-সম উজ্জ্বল, নিজের ইচ্ছানুযায়ী কার্য করবেন।’’ শুম্ভ দূরবর্তী দানব ধূম্রলোচনাকে নির্দেশ দিলেন।