ভগবান হর এইভাবে কথা বলার পর হঠাৎ দৃষ্টির আড়াল হয়ে গেলেন। এভাবেই ‘চন্দ্রোdbheda তীর্থের মাহাত্ম্য’ নামে একান্নতম অধ্যায় শেষ হয়, যা সপ্তম প্রভাস খণ্ডের তৃতীয় অংশ, অর্থাৎ অর্জুন খণ্ডের অন্তর্গত, এবং স্কন্দ মহাপুরাণের বিরাট একাশি হাজার শ্লোকে স্থান পেয়েছে। এরপর বলা হয়, যেখানে গৌরী তপস্যা করেছিলেন, সেই স্থানটি মানুষের মধ্যে সর্বাধিক পুণ্য ও খ্যাতিসম্পন্ন। শুধু সেই স্থান দর্শন করলেই মানুষ পাপমুক্ত হয়। কেন এই স্থান এত মহান ও আশ্চর্য? এই প্রশ্নও ওঠে—এবং বলা হয়, শুধু এই স্থানের কথা শ্রবণ করলেই সমস্ত পাপ নাশ হয়। প্রাচীনকালে, দেবতারা এবং ইন্দ্র জানতে পারলেন যে গৌরী তপস্যায় লিপ্ত। তখন তারা চিন্তা করলেন: ‘‘যদি ত্রিনয়ন শিবের বীজ গৌরীর ক্ষেত্রে পতিত হয়, তাহলে সেই সন্তানের বিনাশের জন্য আমাদের যেতে হবে।’’ এভাবে পরামর্শ করে দেবতারা কৈলাস পর্বতে গেলেন। সকল দেবতা তখন একত্র হয়ে এক কৌশলে সেই দলকে বিভ্রান্ত করলেন এবং বায়ুর মাধ্যমে ভগবান ভবকে বললেন, ‘‘আপনি যেন সন্তান উৎপাদন না করেন।’’ বায়ু তখন দ্রুত গিয়ে মহাদেবের কাছে উপস্থিত হলেন। এই সংবাদে শিব গভীর লজ্জায় আচ্ছন্ন হলেন। গৌরী তখন প্রবল দুঃখে দেবলোকবাসীদের অভিশাপ দিলেন—‘‘তোমরাও সন্তানের থেকে বঞ্চিত হবে।’’ যেহেতু বায়ু নির্জন এই স্থানে এসেছিল, গৌরী স্বামীর রোষে অভিভূত হয়ে গভীর নিশ্বাস ফেললেন। সন্তানের আশায় তিনি কঠোর তপস্যা শুরু করলেন—মনে, বাক্যে ও শরীরে সংযম পালন করলেন। পরে ইন্দ্র ও অন্যান্য দেবতাদের সঙ্গে তিনি সেই স্থানে গেলেন। তখন দেবগণ বললেন, ‘‘এই দেবতা শিব আপনার পাশে এসেছেন, বিনয়ে।’’ গৌরী বললেন, ‘‘সন্তান পেলে আমি চলে যাব এবং তার পাশে থাকব, হে দেবতাদের অধিপতি।’’ গৌরীর এই সংকল্প জেনে স্বয়ং শিব সেখানে এলেন। শিব বললেন, ‘‘হে দেবী, তোমার দৃষ্টিদান ও বাক্য দ্বারা তুমি নির্ধারিত সময়ের আগেই মুক্ত হয়েছ; তোমার সঙ্গে মিলন শেষ হয়েছে। তাই, তোমার নিজের দেহ থেকেই তোমার সন্তান জন্ম নেবে।’’ তিনি আরও বললেন, ‘‘হে দেবী, তোমার দেহের অপবিত্র অংশ থেকে, যেভাবে হোক, দেবতা ও বিশেষত অসুরদের মধ্যে—’’ এইভাবে ত্রিনয়ন শিবের কথা শুনে দেবী সন্তুষ্ট হলেন। চতুর্থ দিনে, শিবার (পার্বতী) স্নান করলেন এবং হরার আদেশে চার বাহুযুক্ত বিনায়ক সৃষ্টি করলেন। তখন হরার বচনে বিনায়ক প্রাণ ফিরে পেলেন এবং সেই থেকে তিনি সকল মানুষের মধ্যে প্রসিদ্ধ হলেন। তিনি বিখ্যাত হলেন বিনায়ক নামে, তিনটি লোকের অধিবাসীদের দ্বারা পূজিত হলেন। এরপর দেবতারা, দেবীর ইচ্ছায় সন্তুষ্ট হয়ে, আনন্দ প্রকাশ করলেন। তারা বললেন, ‘‘হে দেবী, তোমার এই পুত্র আমাদের সকলের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হবে। এই সুন্দর পর্বতশৃঙ্গ, হে মঙ্গলময়ী, তোমার সেবায় পবিত্র হয়েছে। যারা এখানে, এই সর্বোত্তম পবিত্র জলে স্নান করবে, বিশেষত যারা মাঘ মাসের শুক্ল তৃতীয়ীতে একাগ্রচিত্তে স্নান করবে, তারা বিশেষ ফল লাভ করবে।’’ এইভাবে কথা বলে দেবতারা নিজেদের নিজ নিজ লোকালয়ে ফিরে গেলেন। এভাবেই ‘ঈশানী শৃঙ্গের মাহাত্ম্য’ নামে বাহান্নতম অধ্যায় শেষ হয়, যা অর্জুন খণ্ডের তৃতীয় অংশ, প্রভাস খণ্ডের অন্তর্গত, স্কন্দ মহাপুরাণের বিরাট একাশি হাজার শ্লোকে স্থান পেয়েছে। সেই স্থানে, অতীতে, বিশ্ব-স্রষ্টা ব্রহ্মা তাঁর পদ স্থাপন করেছিলেন।