পুলস্ত্য মুনি বললেন, ‘‘তুমি কপিলার কাছে যেতে চাও না, এতে কোনো অপরাধ হবে না।’’ তখন তিনি স্মরণ করলেন, এক সময় ঋষিরা ধর্ম নিয়ে একটি শ্লোক গেয়েছিলেন। কপিলা বলেছিলেন, ‘‘আমি কখনো নিজের জন্য সামান্যতম মিথ্যা বলি না। হাজারটি অশ্বমেধ যজ্ঞ আর সত্যকে যদি তুলনা করা হয়, সত্যই শ্রেষ্ঠ। তাই, আমি জীবন রক্ষার জন্যও কখনো মিথ্যা বলব না। তুমি যে তোমার জীবন—যা পরিত্যাগ করা অত্যন্ত কঠিন—সর্বোচ্চ সত্যের জন্য ত্যাগ করতে চাও, তার জন্য তোমার মৃত্যু কখনো হবে না, কোনো পরিস্থিতিতেই নয়।’’ এরপর, যখন কপিলাকে দেখল, তার চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে গেল। সত্যে নিবেদিতদের কখনো অশুভ কিছু ঘটে না। ‘‘তুমি পূর্বে, কপিলা, শপথ নিয়ে এবং ব্রতের জন্য কথা বলেছ। তাই, আমি তোমাকে মুক্ত করছি—তুমি তোমার ছেলের কাছে যাও।’’ পুলস্ত্য বললেন, সেই মুহূর্তে রাজা তার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এলেন এবং আনন্দিত হৃদয়ে সত্যভাষী কপিলার উদ্দেশে বললেন, ‘‘আজ আমি তোমার জন্য কী উপকার করতে পারি, বল গরু, দ্রুত বলো।’’ গরুটি বলল, ‘‘তৃষ্ণায় কষ্ট পাচ্ছি; তাই, তাড়াতাড়ি জল নিয়ে আসো।’’ রাজা বললেন, ‘‘জেনে রেখো, আমি কখনো মিথ্যা বলি না; আমি যা বলেছি, তা সত্য।’’ রাজা ধনুকে তীর বসালেন, লক্ষ্য স্থির করলেন এবং মাটিতে আঘাত করলেন। তখন শুদ্ধ, শীতল ও শুভ জল উৎসারিত হল। সেই মুহূর্তে স্বয়ং ধর্ম সেখানে উপস্থিত হলেন। তিনি বললেন, ‘‘তোমার সত্যনিষ্ঠায় আমি সন্তুষ্ট; পৃথিবীর কোথাও তোমার সমতুল্য কেউ নেই।’’ ‘‘তোমার দীপ্তিতে তুমি দেবলোক লাভ করবে, যেখানে বার্ধক্য ও মৃত্যু নেই। এই পবিত্র জলাধার আমার নামে প্রসিদ্ধ হোক। বিশেষত চতুর্দশী তিথিতে, যারা এখানে আসবে, তারা সর্বোচ্চ অবস্থায় পৌঁছাবে। তোমার নামে এই তীর্থ অত্যন্ত পুণ্যময় হবে; এখানে স্নান করলে লক্ষগুণ পুণ্য লাভ হয়, আর এখানে দান করলে অশেষ ফল পাওয়া যায়।’’ ‘‘যারা এখানে একাগ্রচিত্তে শ্রাদ্ধ করেন—তৃষ্ণায় কাতর পতঙ্গ ও কীটেরা পর্যন্ত এই শুভ জলে প্রবেশ করলে মুক্তি পায়—তাহলে মানুষের কথা তো বলাই বাহুল্য, যারা ভক্তি ও সত্যনিষ্ঠা নিয়ে এখানে আসে। হে রাজা, কপিলার শক্তিতে তারা সকলেই এখানে উপস্থিত হয়েছে।’’ এরপর কপিলা, গরু ও গো-সম্পদ নিয়ে তাদের উপর আরোহণ করলেন। তাই, এখানে সর্বশক্তি দিয়ে স্নান করা উচিত। পুলস্ত্য বললেন, ‘‘সেই স্থানে, বহু বছর আগে, আগুন হারিয়ে গিয়েছিল এবং দেবতারা আবার তা উদ্ধার করেছিলেন।’’ যয়াতি বললেন, ‘‘ঠিক সেইখানেই কীভাবে উদ্ধার হল? আমি জানতে চাই, মহর্ষি।’’ পুলস্ত্য বললেন, ‘‘সমগ্র পৃথিবী তখন ক্ষুধায় কাতর, গভীর সন্দেহে নিমজ্জিত। অধিকাংশ মানুষ মারা গিয়েছিল, যারা বেঁচে ছিল তারা মৃতের মতো পড়ে ছিল। যখন এই দুর্দশা পৃথিবীর মানুষের উপর নেমে এল, হে রাজা, খাদ্য ও ঔষধি উদ্ভিদ না থাকায় কেবল হাড় পড়ে ছিল। প্রবল ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় কাতর হয়ে এক ব্যক্তি চণ্ডালদের বাসস্থানে পৌঁছাল। চণ্ডাল তাকে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে জল দিয়ে পরিষ্কার করল।’’ ‘‘খাদ্যযোগ্য ও অখাদ্য জেনে, অগ্নি তখন, হে রাজা, বললেন—ঔষধি উদ্ভিদ পৃথিবী থেকে বিলীন হয়ে গেছে, তাই এখন এটাই যথাযথ। আমি অখাদ্য কিছু গ্রহণ করব না; আমি পৃথিবী ত্যাগ করব।’’ এইভাবে, পবিত্র সত্যনিষ্ঠা, ত্যাগ, ও ধর্মের মহিমা প্রকাশিত হল; এবং সেই স্থানে জলাধার, শ্রাদ্ধ, ও অগ্নি উদ্ধারের কাহিনি স্মরণীয় হয়ে রইল।