অরবুদের তৃতীয় অংশে, সপ্তম প্রভাস খণ্ডের অন্তর্গত এই মহাকাব্যে এক অপূর্ব কাহিনি বর্ণিত হয়েছে। গুহার মধ্যভাগে দেবী কাত্যায়নী সর্বদা বিশ্বকল্যাণে নিয়োজিত থাকেন। রাজাধিরাজ, শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথিতে যে মনোযোগ সহকারে তাঁকে দর্শন করে, সে মহাপুণ্যলাভ করে। এখানে কাত্যায়নীর মহিমা বর্ণনার অধ্যায়টি শেষ হয়। এরপর বর্ণিত হয়েছে পবিত্র তীর্থ পিণ্ডারক ও ব্রাহ্মণ মঙ্কির কাহিনি। একসময় মঙ্কি নামে এক ব্রাহ্মণ, যিনি কেবল নামেই ব্রাহ্মণ ছিলেন, এক সুন্দর পর্বতে বাস করতেন। কিছুদিন পর তিনি সেখানে ধন-সম্পদ অর্জন করেন এবং দুটি বলদ ও একটি উট দখল করেন। কিন্তু পরে, সংসারে বিমুখ হয়ে, মঙ্কি গ্রাম ছেড়ে অরণ্যে চলে যান। তিনি নিয়মিত তিনবার স্নান করতেন এবং উৎকৃষ্ট গায়ত্রী মন্ত্র জপ করতেন। ঠিক সেই সময়, সেই পথে শঙ্করদেবের আগমন ঘটে। তাঁকে মহানুভব পিণ্ডার দেখেন এবং বলেন, “হে ব্রাহ্মণ, তোমাকে দর্শন বৃথা না যাক, আমাকে বর দাও।” মঙ্কি সম্মত হয়ে বর জানতে চাইলে, পিণ্ডার বলেন, “আমার নামে এই স্থান পিণ্ডারক নামে খ্যাত হোক এবং এখানে মহান অষ্টমী তিথিতে আমি বিরাজ করব। যারা এখানে আসবে, তারা আমার চিরস্থায়ী ধামে অধিষ্ঠান লাভ করবে।” এরপর মঙ্কি, যিনি পিণ্ডারক নামে পরিচিত, দিন-রাত কঠোর তপস্যা করেন এবং পরিশেষে দেহত্যাগ করে স্বর্গে আরোহণ করেন। এই কারণে, এই পুণ্যস্থানে স্নান ও মন্ত্রোচ্চারণ বিশেষ ফলদায়ক। বিশেষত অষ্টমী তিথিতে গো-দান করলে মহাপুণ্য লাভ হয়। এভাবেই পিণ্ডারক তীর্থের মাহাত্ম্য বর্ণনার অধ্যায় শেষ হয়। এরপর কাহিনি আসে কনখলা পর্বতের, যা পাপনাশী নামে খ্যাত। একদিন সূর্যগ্রহণের সময় এক রাজা কনখলার পবিত্র তীরে স্নান করতে যান। অসাবধানতাবশত তাঁর অনেক সোনা জলে পড়ে যায়। স্নান শেষে তিনি অনুতপ্ত মনে গৃহে ফিরে আসেন। আবার সূর্যগ্রহণের সময় তিনি স্নান করতে গেলে, আগের পড়ে যাওয়া সোনা কিছুতেই খুঁজে পান না। কিন্তু এখানে, রাজাধিরাজ, কোনো ক্ষতি নেই—এ জগতে বা পরজগতে নয়। বরং, এখানে প্রাচীন সোনা কোটি গুণ বৃদ্ধি পায়। তাই, এখানে যারা শ্রাদ্ধাদি করেন, বিশেষত সোনার দ্বারা, তারা অশেষ পুণ্যলাভ করেন। ব্রাহ্মণদের দান করলে তার মাপ নেই। এই কথা শুনে দেবী সরস্বতী স্বর্গ থেকে আবির্ভূত হন এবং রাজা পরম সন্তুষ্ট হয়ে, পিতৃ-দেবতাদের উদ্দেশ্যে বিশুদ্ধ, মহান দান অর্পণ করেন। সেই দানের ফলে, রাজা অশেষ পুণ্যলাভ করেন। এখানে, সূর্য সংক্রান্তির সময় যে কেউ শ্রাদ্ধ করলে, স্নান করলে, ঋষি, দেবতা ও মহা নাগেরা তৃপ্ত হন। এইভাবেই, স্কন্দ মহাপুরাণের এই অংশে দেবী কাত্যায়নীর মহিমা, পিণ্ডারক তীর্থের মাহাত্ম্য ও কনখলা পর্বতের পুণ্যগাথা এক অপূর্ব ধারাবাহিকতায় বর্ণিত হয়েছে।