যে কোনো ব্যক্তি যদি বিশ্বাসসহকারে শিবলিঙ্গের পূজা করে, তবে আপনার কৃপায় তার মৃত্যুভয় অত্যন্ত সামান্য হয়ে যায়। দেবতারা যখন যুদ্ধে বারবার দানবদের হত্যা করেছিলেন, তখন জ্ঞানশক্তির দ্বারা এক ঋষি তাদের জীবন ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। ঐ স্থানে, যে ব্যক্তি যথাযথভাবে স্নান করে, সে সমস্ত পাপ থেকে মুক্তি পায়। যখন পূর্বপুরুষরা শুধু জলেই সন্তুষ্ট হন, তখন যদি কেউ পিণ্ড দান করে, তবে তারা আরও বেশি সন্তুষ্ট হন। সেই স্থানে, মানিকর্ণিকা নামে এক তীর্থ আছে, যা সমস্ত লোকের মাঝে খ্যাতিমান। সেখানে, মহর্ষি বলখিল্যরা সাধনায় সিদ্ধিলাভ করেছিলেন। যখন সেই ঋষিরা নির্মল চিত্তে সেখানে উপবিষ্ট ছিলেন, তখন এক কিরাত নারী, মানিকর্ণিকা নামে, প্রবল তৃষ্ণায় কাতর হয়ে মধ্যাহ্নে সেখানে উপস্থিত হন। ঠিক সেই সময়, এক দেবসদৃশ রূপধারী সেখানে আবির্ভূত হন। পরবর্তীতে, তার স্বামীও তাকে খুঁজতে সেখানে এসে পৌঁছান। তিনি বললেন, "হে সরলবক্ষিনী, যদি আমার স্ত্রী এখানে এসে থাকেন এবং তাকে কেউ দেখে থাকেন..." — এভাবে তিনি তৃষ্ণায় ও ক্ষুধায় কাতর হয়ে বারবার বিলাপ করছিলেন। তখন সেই দেবসদৃশ রূপ লাভ হয়, যা দেবতাদের জন্যও দুর্লভ। তাকে বলা হয়, "তুমি এখানকার জলে স্নান করো।" এরপর তিনি ও তার পুত্র সেই জলপ্রবাহে প্রবেশ করেন। কিন্তু সেই জলাশয়ে তিনি কষ্ট পেয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তারপর, সেই নারী স্বামীর সঙ্গে চিতা নির্মাণ করে আগুন প্রজ্জ্বলিত করেন। বলখিল্য ঋষিরা চরম করুণায় বিস্মিত হয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করেন, "হে সুন্দরী, কেন তুমি এই মহাপাপী পুরুষের সঙ্গে নিজেকে উৎসর্গ করছো?" তখন মানিকর্ণিকা বলেন, "স্বামী ছাড়া আমার এই সৌন্দর্য দিয়ে কী হবে? তিনি কুৎসিত বা সুন্দর, দরিদ্র বা ধনবান যেই হোন না কেন, আমি তার সঙ্গ ছাড়বো না।" সেই পুত্রকেও ঋষিদের শরণে সমর্পণ করা হয়। ঋষিরা পরস্পর চরম করুণায় তাকিয়ে থাকেন এবং অবশেষে তার স্বামীকে জীবিত করে তোলেন। তখনই তাদের মনোবাঞ্ছিত এক দিব্য রথ সেখানে উপস্থিত হয়। সেই দম্পতি পবিত্র ঋষিদের সামনে উপস্থিত হন। তখন মানিকর্ণিকাকে ঋষিরা বলেন, "তোমার স্বামী-নিষ্ঠা ও বিশেষ করে সততার জন্য আমরা অত্যন্ত তুষ্ট। এখানে যে মহান লিঙ্গ আছে, তা আমার নামে পরিচিত হবে। এটাই আমার একমাত্র ইচ্ছা, অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই।" এইভাবে মানিকর্ণিকা নামে তীর্থক্ষেত্রের উৎপত্তি ঘটে। সেখানে বলখিল্য ঋষিরা তপস্যার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত আছেন। বিশেষত সূর্যগ্রহণের সময় এখানে স্নান, দানাদি ধর্মকর্ম সম্পাদিত হয়। যে-ই এখানে স্নান করে, সে যেকোনো মনোবাঞ্ছা পূর্ণ করে। এজন্য সকল প্রচেষ্টায় এখানে স্নান করার জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে। এই পবিত্র স্থানে পূর্বে এক পঙ্গু ও এক ব্রাহ্মণ কঠোর তপস্যা করেছিলেন। চ্যবন বংশীয় পঙ্গু নামে এক ব্রাহ্মণও সেখানে বাস করতেন।