তিনি দ্রুত তা সম্পন্ন করলেন, আর সঙ্গে সঙ্গে ধোঁয়া উঠতে শুরু করল। তখন সমস্ত সাপেরা আতঙ্কিত হয়ে ছুটে এল; তারা উত্তঙ্কের হাতে নিজেদের সমর্পণ করল, তাঁকে প্রণাম জানিয়ে নিজেদের গৃহে ফিরে গেল। যাঁকে তুমি পূর্বে তোমার গুরুর নির্দেশে পূজা করেছিলে—তিনি, তোমার বিপদের কথা জেনে, করুণায় পূর্ণ হয়ে এখানে এসেছেন। আমি তোমাকে সেখানে নিয়ে যাব, যেখানে গুণের আধার সেই গুরু বাস করেন। ঠিক সেই মুহূর্তে তিনি গৌতমের আশ্রমে পৌঁছে গেলেন। স্নান শেষে, গুণবতী পত্নী তাঁর স্বামীর কাছে এসে বললেন, ‘‘আমি লক্ষ্য করলাম, তিনি গুরুর প্রতি কর্তব্যে অবহেলা করছেন; অথচ তিনি আনন্দিত, উৎফুল্ল, কানে দুল পরিহিত অবস্থায় দেখা দিলেন।’’ এই দৃশ্য দেখে সেই সৎ স্ত্রী সঙ্গে সঙ্গে দুলগুলো নিজের কানে পরলেন। আমি বারবার চিন্তা করি, গাভীর জন্যই এই গর্তটি পূরণ করা আবশ্যক। সুতরাং, তুমি দ্রুত তা পূরণ করো; এই কাজ আর কেউ করতে পারবে না। তখন তিনি ভাবতে লাগলেন, কীভাবে এই গর্ত পূরণ করা যায়। অনেকক্ষণ চিন্তা করার পর, পর্বতশ্রেষ্ঠ ঋষিকে বললেন, ‘‘তাদের ডানাগুলো বহু আগে ইন্দ্র ও অন্যান্য দেবতারা কেটে দিয়েছিলেন।’’ তখন বশিষ্ঠ বললেন, ‘‘হে মহাপর্বত, তাদের মধ্যে একজন আছে, যার নাম অরবুদ, আমার শৈশবের প্রিয় বন্ধু। সে অবশ্যই দ্রুত উঠে এসে মুহূর্তেই এখানে পৌঁছে যাবে, সন্দেহ নেই। তাকে আদেশ দাও, কিন্তু তাকে কোনো কষ্ট দিও না।’’ মহাশোকাক্রান্ত হয়ে পর্বত চিন্তা করতে লাগল—‘আমাদের পুত্র মৈনাক ভয়ে সাগরে আশ্রয় নিয়েছে; এখন আমরা কী করব, আমাদের মঙ্গল কীভাবে হবে?’ এখানে অভিশাপের তীব্র ভয়, আবার পুত্রের কারণে দুঃখ। এইভাবে স্থির সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি নন্দিবর্ধনকে বললেন, ‘‘ওখানে এক ভয়ঙ্কর খাদ আছে—তুমি দ্রুত তা পূরণ করো। পালাশ, খদির, ধব, ও শালমলী গাছের ডালপালা দিয়ে তা পূরণ করো। সেখানে ভয়ংকর মানুষ, পশু ও বিভিন্ন ভিল জাতির বাস; হে পর্বতশ্রেষ্ঠ, আমি কোনোভাবেই সেখানে যেতে পারি না।’’ তখন বশিষ্ঠ ভীত নন্দিবর্ধনকে বললেন, ‘‘আমার আশ্রম সর্বদা তোমার শিরে থাকবে। সেখানে নানারকম গাছ, পত্র, ফুল ও ফলে শোভিত। আমি নিজেই মহেশ্বরকে তোমার জন্য এখানে নিয়ে আসব।’’ এরপর তিনি অরবুদ নামক সাপের কাছে গিয়ে বললেন, ‘‘আজ তুমি সেখানে কল্যাণ লাভ করো, বন্ধু, বিনয়সহকারে। আমিও সেখানে তোমার সঙ্গে থাকব, সন্দেহ নেই। তবে স্নেহবশত ভাই, একটি কথা বলি—শোনো: আমার নামে সেই স্থানের খ্যাতি হোক, আমি আর কিছু চাই না।’’ এরপর তিনি তাঁর পিতামাতাকে প্রণাম করে ঋষির সঙ্গে রওনা হলেন। সেই স্থানে, যেখানে দেবতুল্য শুভ বৃক্ষ, নদী ও জলপ্রপাত রয়েছে, ঋষির বাক্য অনুসারে অরবুদ তাঁকে খাদ থেকে মুক্ত করলেন। মহানুভব অরবুদের দ্বারা সেই খাদ থেকে মুক্ত হয়ে তিনি অরবুদ সাপকে বললেন, ‘‘বরণ করো, হে ধৈর্যবান, একটি বর চাও।’’ অরবুদ বললেন, ‘‘যদি কিছু দিতেই হয়, তবে শুনো, দ্বিজশ্রেষ্ঠ...