এই পর্বতটি সকল সিদ্ধপুরুষ, মহর্ষি এবং শুভব্রতধারীদের বাসস্থান। এমনকি এটি সুমেরু, কৈলাস ও মন্দর পর্বতকেও ছাড়িয়ে যায় তার মহিমায়। স্বর্গের দেবতারা পর্যন্ত এখানে বসবাসকারী প্রাণীদের জন্য আকাঙ্ক্ষা করেন। এখানকার মহাবৃক্ষগুলির তুলনায় ইচ্ছাপূরণকারী বৃক্ষও তুচ্ছ। এমনকি যারা শিকারী, যাদের আনন্দ কেবল হিংসায়, তারাও এখানে এসে রূপান্তরিত হয়ে যায়। এই অঞ্চলে মেঘেরা গিরিশৃঙ্গ স্পর্শ করে চলে যায়। পাখিরা মধুর সুরে গান গায়, বাঁশবনও সুরে সুরে বাজে। কৃষ্ণপক্ষের রাতে অসংখ্য জোনাকিরা যেন কিছু স্মরণ করে জ্বলজ্বল করে। নদী তীরবর্তী বৃক্ষসমূহ এখানে সবসময় একতাবদ্ধ, তাদের মাঝে কোনো বাধা নেই। এই উচ্চশিখরের সঙ্গে স্বয়ং তারকারাও সংস্পর্শে আসে। পশুরা অবিরাম এর ঢালে বিচরণ করে। পাদদেশে শবররাও সহজেই দেখা যায়। এত মহিমার কথা আর বলব কেন? এমনকি দুই মায়ের সন্তানরাও এখানে বসবাসকারীদের প্রতি ঈর্ষান্বিত। এখানে সিংহ, বাঘ, হাতি—সবাই তাদের দেহ ত্যাগ করেছে। পূর্বদিকে দেখা যায় ভাস্কর নামক এক পর্বত, পশ্চিমে আছে দণ্ড নামের এক মহান পর্বত, আর শোণা পর্বতের দক্ষিণে রয়েছে অমরাচল। উত্তরে, যেখানে সিদ্ধপুরুষেরা গুহাবাসী, সেখানেও রয়েছে আরও অনেক পর্বত, তার প্রান্তদেশে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য শৃঙ্গ। সব বৃক্ষই যেন এদের দ্বারাই ধারণ করা। এই পর্বতের দর্শনে মেনা ও হিমবানকে দেখা যায়; বৃক্ষ ও লতার ছায়ায় তার জটাজুট চিহ্নিত। দীপ্তিময় শৃঙ্গের দুই পাশে সূর্য ও চন্দ্র বিরাজমান। বর্ষাকালে শিখরের নিচে ঘন কালো মেঘ জমে থাকে। এই পর্বতরাজের সহস্র পদ ও সহস্র মস্তক। নদীর প্রবাহ তার মস্তকে বিলীন হয়ে যাওয়াটা কোনো আশ্চর্যের বিষয় নয়। শরতের মেঘেরা এসে তার গায়ে মেখে বেষ্টনী গড়ে তোলে। তার শৃঙ্গের ডগায় নীল ও লাল আভা লেগে থাকে। অত্যন্ত দুর্গম বলে এতে এক প্রকার উগ্রতা আছে, যদিও নামমাত্র নয়। এখানে তক্ষক, অনন্ত ও অন্যান্য নাগরাজেরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। এই পর্বত তার নিজস্ব অষ্টরূপ স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে। শিবশৃঙ্গের মাঝে বয়ে চলে সুষুম্না, পদ্মনদী। ব্রহ্মা ও বিষ্ণু এখানে যথাক্রমে রাজহংস ও বরাহরূপ ধারণ করেন। তারা তাদের প্রিয়াদের নিয়ে অরুণাচলনাথের কাছে আসেন। তারা কঠোর তপস্যা করে সদাশিবকে প্রত্যক্ষ দর্শন করেন, কিন্তু মন্থরবিরোধী করুণাময় শিবের বামাংশ লাভ করতে পারেননি। এখানে প্রতিষ্ঠিত লিঙ্গ পুরুষদের ভোগ ও মুক্তি প্রদানকারী। এটি সদাচারীদের মন্ত্রসিদ্ধি সরাসরি ও নিরবিঘ্নে দান করে। একবার স্নানেই মানুষের পাঁচ মহাপাপ ধ্বংস হয়। কেবল একবার প্রণামেই সমস্ত পাপ বিনষ্ট হয়।