যে ব্যক্তি বিষ্ণুর চরণে পৌঁছায়, সে এমন এক মহাসুখের ধামে প্রবেশ করে, যেখান থেকে ফিরে আসা অত্যন্ত দুষ্কর। জ্ঞানীরা বলেন, সে বিষ্ণুর ধামে গমন করে—এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। হে মহাভাগ্যবান, হরি ভক্তির দ্বারা বিষ্ণু অত্যন্ত প্রসন্ন হন। যদি স্বয়ং বিষ্ণু এসে উপস্থিত হন, তবে আমার জীবন সম্পূর্ণ সফল—এ নিয়ে কোনো দ্বিধা নেই। বিষ্ণু তখন যজ্ঞস্থলে প্রবেশ করলেন, যা মন ও অগ্নির জন্য অপূর্ব আনন্দদায়ক। সেখানে বামনরূপী বিষ্ণু দ্রুত উঠে এসে, ভক্তকে ভক্তিসহকারে করজোড়ে অভ্যর্থনা করলেন। তিনি তাঁর পরিবার-পরিজনকে মাথায় তুলে নিয়ে চরম আনন্দ লাভ করলেন। তাঁর দেহে আনন্দের কাঁপুনি, চোখে আনন্দাশ্রু; তিনি আবেগভরে বললেন, ‘‘আজ আমার জীবন সার্থক, আমি পরিপূর্ণ হয়েছি—এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।’’ ‘‘আপনার কেবল আগমনে এখানে মহোৎসব স্বতঃসিদ্ধ হয়েছে। হে প্রভু, পূর্বে আমি যে তপস্যা করেছিলাম, তা আজ সফল হয়েছে। এজন্য, আপনাকে বারবার প্রণাম জানাই, আপনাকে প্রণাম, আপনাকে প্রণাম। প্রভু, পরম উৎসাহে অনুগ্রহ করে আমাকে আদেশ দিন।’’ তখন ভক্ত বললেন, ‘‘আমাকে তিন পা জমি সমান এক স্থান দিন, যেখানে আমি তপস্যা করতে পারি। গ্রাম, নগর বা ধন সম্পদ—এসব দিয়ে আপনি কী অর্জন করেছেন? যার রাজ্য প্রায় হারাতে বসেছে, তার মধ্যে যেমন ক্ষুধা জাগে, তেমনি বৈরাগ্যও জাগে। যাদের কোনো আসক্তি নেই, তাদের কাছে এসবের মূল্য কী? হে দৈত্য, এই সমস্তই আমার মধ্যে রয়েছে; অন্যদের দ্বারা আপনি কী অর্জন করতে চান? যাদের স্বভাব চিরসুখময়, তাঁদের কাছে ধনে কী লাভ? যার আত্মা সর্বত্র একীভূত, সেখানে দাতা কে, আর দানই বা কী?’’ ‘‘যারা এই আদেশ মেনে চলে, তারা চরম সুখ লাভ করে। ব্রাহ্মণদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করে ভূমি দান করতে হয়। ভূমি দাতা সর্বোচ্চ মুক্তি লাভ করেন—এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। সে ব্রহ্মার ধামে পৌঁছে, যেখান থেকে ফিরে আসা কঠিন। জেনে রাখুন, ভূমি দান সর্বোচ্চ দান, যা সমস্ত পাপ নাশ করে। দশ হাত ভূমি দান করলে সমস্ত পাপ থেকে মুক্তি মেলে। জগতে ভূমি দানের সমতুল্য কিছু নেই। আমি শতবর্ষ বললেও তার মাহাত্ম্য সম্পূর্ণ বর্ণনা করতে পারব না।’’ ‘‘যে সামান্য ভূমি দান করে, সে-ই বিষ্ণু—এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। যে ব্যক্তি পৃথিবী দান করে, সে-ও বিষ্ণু; এতে কোনো সংশয় নেই। সামান্য ভূমি দান করেও বিষ্ণুর সঙ্গে মিলন লাভ হয়। দান করলে গঙ্গায় তিন রাত স্নানের ফল লাভ হয়। একটি নালা পরিমাণ জমি দান করলে কী ফল হয়, শোনো। যজ্ঞাদি দ্বারা যে ফল লাভ হয়, তার চেয়ে বহু গুণে বেশি ফল এতে মেলে।’’ ‘‘আমি তার গৌরব ঘোষণা করছি; আমার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনো। যিনি জাহ্নবীর (গঙ্গার) তীরে ভূমি দান করেন, তিনি অবশ্যই সেই ফল লাভ করেন। ভূমি দান সমস্ত পাপ নাশ করে এবং মুক্তির ফল দেয়। যে বিশ্বাসসহকারে এটি শ্রবণ করে, ভূমি দানের পূণ্য লাভ করে।’’ ‘‘হে মহাবাহু, এক দরিদ্র, জীবিকা হারা ব্যক্তি ছিলেন, তাঁর নাম ছিল ভদ্রমতি। তিনি সমস্ত পুরাণ ও ধর্মশাস্ত্র শুনেছিলেন...