এখানে এক গভীর ও শ্রদ্ধাশীল কাহিনী শুরু হচ্ছে, যেখানে প্রকৃতির মৌলিক গুণাবলী ও শরীরের অন্তর্গত শক্তিগুলির কথা বলা হয়েছে। এটি সংক্ষিপ্ত, ঘন, উজ্জ্বল, শুষ্ক এবং স্বচ্ছ—এইসব বৈশিষ্ট্য নিয়ে শুরু হয়। চোখে আলো দেখা যায়, আর বাতাসের মাধ্যমে স্পর্শ অনুভব করা যায়। এরপর জ্ঞানী ব্যক্তি স্বাদ সম্পর্কে জানাতে শুরু করেন। তিনি বলেন, শোনো—আমি স্বাদের জ্ঞান প্রকাশ করছি। মিষ্টি, নোনতা, তিত, কষা, টক ও ঝাল—এই ছয়টি স্বাদ রয়েছে। আলো বা দীপ্তির তিনটি গুণ বলা হয়েছে—ধ্বনি, স্পর্শ ও রূপ। আকারের বৈচিত্র্যও বর্ণনা করা হয়: ছোট, বড়, মোটা, চতুষ্কোণ, সূক্ষ্ম ও গোলাকার। আবার, কঠিন, আঠালো, মসৃণ, পিচ্ছিল, নরম ও রুক্ষ—এইসব গুণও আছে। এর মধ্যে, আকাশ বা স্থান মাত্র একটিই গুণ ধারণ করে—তা হলো শব্দ। শব্দের সাতটি রূপ বলা হয়েছে: ষড়জ, ঋষভ, গান্ধার, মধ্যম, ধৈবত এবং আরও। এই সাতটি গুণ স্থান থেকে উৎপন্ন হয় বলে ঘোষিত হয়েছে। তবলা, ঢাক, শঙ্খ, বজ্রপাত, রথ—এসবের মধ্যে শব্দের গুণ প্রকাশ পায়। বাতাসের গুণ হলো স্পর্শ, আর স্পর্শেরও নানা রূপ—রুক্ষ, নরম, মসৃণ, হালকা, ভারী। এইভাবে বাতাসের গুণ মোট এগারোটি। বাতাস নিরন্তর ও অযত্নভাবে নড়াচড়া করে, তার গতি নয়টি, এবং তার চলন অনিয়মিত। জল, আগুন ও বাতাস সর্বদা জীবিত সত্ত্বার মধ্যে সক্রিয় থাকে। যেমন শক্তিশালী কেউ পৃথিবীর উপাদান লাভ করে কাজ করে, তেমনি প্রাণশক্তি মাথায় বা বাক্-অগ্নিতে উপস্থিত হলে চলাফেরা করে। মন, বুদ্ধি, অহংকার, উপাদান ও ইন্দ্রিয়—এগুলো সমানকারী প্রাণের সঙ্গে চলতে চলতে নিজ নিজ গতি লাভ করে। নিম্নগামী প্রাণ শরীরে প্রস্রাব বা মল পরিবহন করে। আত্মজ্ঞরা একে উদান বলে। মানুষের শরীরে একে জ্ঞানীরা ব্যান (ব্যান) বলে। এটি শরীরের রস ও রসধারা বিতরণ করে। নিজস্ব আসনে অবস্থান করে অগ্নি যথাযথভাবে পাচন করে। সেই থেকে উৎপন্ন হয় বীর্য ও জীবিত সত্ত্বার সকল নাড়ি। শরীরে যে অগ্নি খাদ্য পাচন করে, তাকে তাপ ও অগ্নি হিসেবে জানো। অগ্নি উপরে উঠে আবার অগ্নিকে জাগায়। শরীরের নাভিমূলে সকল প্রাণবায়ু প্রতিষ্ঠিত। নাড়িগুলো দশটি প্রাণবায়ুর দ্বারা চালিত হয়ে খাদ্যের সার বহন করে। যারা স্থিতিশীল ও জ্ঞানী, ক্লান্তি জয় করে, তারা আত্মাকে মাথায় স্থাপন করে। সেখানে অগ্নি সদা জ্বলতে থাকে, যেমন চুলায় পাত্র স্থাপন করলে অগ্নি জ্বলে। তখন সে শ্বাস নেয়, কথা বলে, আর আত্মা নিরর্থক হয়ে পড়ে। অগ্নি এটিকে দহন করে, তারপর আত্মা নিরর্থক হয়। কেবল বাতাসই তার শরীর থেকে বেরিয়ে যায়, আর তার উষ্ণতা বিনষ্ট হয়। বাতাসকে হাতের তালুতে ধরে রাখার মতো দেখো—এটি তার গুণসহ শরীর ত্যাগ করে। যখন এটি মহাসমুদ্র থেকে মুক্ত হয়, তখন অন্য একটি জলপাত্র থেকে জল রয়ে যায়। সে দ্রুত প্রবেশ করে, যেমন তা ধ্বংস হয়। এই চারটি উপাদানের মধ্যে যদি কোনো একটি অনুপস্থিত হয়, কোনো সন্দেহ নেই—অগ্নি জ্বালানির অভাবে বিনষ্ট হয়, খাদ্যের অভাবে বিনষ্ট হয়। এইভাবেই প্রকৃতির গুণ, শরীরের অভ্যন্তরীণ শক্তি, এবং জীবনের অন্তিম রহস্য প্রকাশিত হয়।