তিনি—সেই পরমেশ্বর—সব কিছুর যন্ত্র, কারণ, কর্তা এবং সকল বন্ধন থেকে মুক্তিদাতা। তিনি সর্বজ্ঞানী, নির্ভীক, সমগ্র বিশ্বকে ধারণ করেন, এবং রাত্রির স্রষ্টা। তাঁর সংকল্পেই সৃষ্টি, তিনি ভিত্তি, স্থানদাতা, জগতের উৎপত্তি, তিনি ঢাকের মতো নিনাদিত, ক্রীড়াপূর্ণ, সর্বব্যাপী, তাঁর স্বরূপ ভাব, এবং তিনি নিজস্ব আত্মায় প্রতিষ্ঠিত। তিনি বীরদের অধিপতি, বীরভদ্র, বীরনাশক, বীরদের আশ্রয়, বিশ্বরূপ, বীরদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, জ্ঞানী, তীব্র ধ্বনির অধিকারী, নদীবাহক। তিনি আদেশবাহী, ত্রিশূলধারী, সর্বত্র বিরাজমান, শিবের আবাস, বালখিল্য, মহাধনুর্ধারী, দীপ্তিমান সূর্য, অবিনশ্বর ধনভাণ্ডার। তিনি মনোমুগ্ধকর, উত্তম আশ্রয়, সর্বোচ্চ বিদ্বান, অমৃতের অধিপতি, মঘবন, কৌশিক, গোসম্পদধারী, বিশ্রামস্থল, সর্বশাসক। তাঁর তৃতীয় নেত্র কপালে, বিশ্বদেহধারী, সারতত্ত্ব, সৃষ্টিচক্রবাহী, অচ্যুত দণ্ডধারী, নিরপেক্ষ, সুবর্ণ, ব্রহ্মতেজে উজ্জ্বল। তিনি পরম সত্য, পরম বল, শম্ভর, বাঘনয়নী, অগ্নিস্বরূপ, দীপ্তিমান, চরম কান্তিতে শ্রেষ্ঠ, প্রশংসার যোগ্য, বাকের অধিপতি, দিবসের স্বামী। তিনি সূর্য, দীপ্তিমান, আশ্রয়, গুরু, বিবস্বতের পুত্র, পুরুষ, দক্ষতা, খ্যাতিমান, সংযমী, পরাজয়জয়ী। তিনি কৈলাসের স্বামী, কামদেবের শত্রু, সবিতৃ, সূর্যনয়নী, জ্ঞানীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, নির্ভীক, বিশ্ববিধ্বংসী, অপ্রতিরোধ্য। তিনি চিরন্তন, সদাশিব, পবিত্রখ্যাত, সুদূরশ্রবণ, বিশ্বধারক, ধ্যানযোগ্য, দুষ্টস্বপ্নসংহারক। তিনি উদ্ধারক, পাপকর্মনাশক, অপ্রতিরোধ্য, সহ্য করা কঠিন, নির্ভীক, অনাদিকাল থেকে, পৃথিবী, জগতের শ্রী, মুকুটধারী, দেবতাদের অধিপতি। তিনি বিশ্বরক্ষক, সংরক্ষক, দৃঢ়, সুন্দর বালা-বাহিত, স্রষ্টা, জীবের উৎপত্তিস্থান, স্নেহশীল, ন্যায়বান, নেতা। তিনি বিশিষ্ট, কশ্যপবংশীয়, দীপ্তিমান, ভীষণ, ভীষণ বীর্যবান, পবিত্র অক্ষর, সপ্তগুণধারী, মহাদেহী, মহাধনুর্ধারী। তিনি জন্মের অধিপতি, মহাদেব, সর্বশাস্ত্রাধিপতি, সত্য-মিথ্যার পার্থক্যতত্ত্ব, অলঙ্কৃত, ভস্মলেপিত। তিনি ঋষি, ব্রাহ্মণজয়ী, জন্ম-মৃত্যু-জরার অতীত, যজ্ঞ, যজ্ঞাধিপতি, যজ্ঞকারী, যজ্ঞের শেষ, অচ্যুত বীর্যবান। তিনি মহেন্দ্র, দুর্বহ, সেনাপতি, যজ্ঞমূর্তি, যজ্ঞযান, পঞ্চব্রহ্মের উৎপত্তিস্থান, সর্বাধিপতি, উদিতকালে পবিত্র। তিনি স্বয়ম্ভূ, অনাদিনিদান, ছাব্বিশ ও সাত জগতের ধারক, গায়ত্রীর প্রিয়, উচ্চকায়, বিশ্ববাসস্থান, আলোকস্বরূপ। তিনি শিশু, পর্বতনিবাসী, স্বামী, সুসজ্জিত, শতদেবনাশক, অচ্যুত, বিপদসংহারক, মুক্তিদাতা, নিরুপদ্রব। তিনি স্বপ্রভ, আলোকউৎস, আত্মার জ্যোতি, অচঞ্চল, শ্যামবর্ণ, শ্যামদাড়িধারী, শাস্ত্রনয়ন, ত্রয়ী-রূপ। তিনি জ্ঞানরাশি, মহাজ্ঞানী, অনাদিস্বরূপ, প্রলয়রূপ, ভাগ, বিবস্বান, আদিত্য, যোগগুরু, বৃহস্পতি। তিনি মহাখ্যাত, পরিশ্রমী, সর্বদা সংযুক্ত, সত্তা-অসত্তার সংমিশ্রণ, নক্ষত্রমালাধারী, পূর্ণিমারাজা, নিজ আসনে প্রতিষ্ঠিত, ষড়াশ্রয়। তিনি বিশুদ্ধহস্ত, পাপশত্রু, মণিপুরচক্রধারী, মনবেগসম, হৃদয়পদ্মাসীন, বিশুদ্ধ, শান্ত, বৃষধ্বজ। তিনি বিষ্ণু, গ্রহপতি, শ্যামবর্ণ, সক্ষম, দুঃখনাশক, অধর্মশত্রু, অজেয়, বহুজনারাধিত, মানবসম্মানিত। তাঁর গর্ভ ব্রহ্মা, বিপুলগর্ভ, ধর্মগাভী, ধনউৎস, জগতকল্যাণকামী, সুগতি, কিশোর, মঙ্গলবিদ্যার অধিপতি। তিনি সুবর্ণবর্ণ, দীপ্তিমান, বহুবিধ জীবের বাহক, স্বরূপ, নিররোগ, শাসনবিধায়ক, জগতবন্ধু, দ্বিজশ্রেষ্ঠ। তিনি মহাপ্রভা, অমৃতধাম, কান্তিতে শ্রেষ্ঠ, মাতামহ, বায়ু, আকাশচারী, নাগমালাধারী। তিনি পুলস্ত্য, পুলহ, অগস্ত্য, জাতুকর্ণ, পরাশর, নির্বিঘ্নধর্মজ্ঞ, স্রষ্টা, সুদূরখ্যাত। তিনি স্বয়ম্ভূ, অপ্রতিরোধ্য, অত্রিবিদ্যার মূর্তি, মহাখ্যাত, বিশ্বরত্ন, বীর, ভীষণ, সত্যবাদী, সর্বোচ্চ বীর্যবান। তিনি সর্পসদৃশ, মহাযুগের অধিপতি, মহাবৃক্ষ, কলাবাহক, চিরশোভিত, স্থির, দীপ্তিমান, অতুলবীর্যবান। তিনি দ্রুতধ্বনির অধিপতি, দ্রুতগামী, লম্পট, ময়ূররথী, অনাস্পর্শ্য, অতিথি, ইন্দ্র, সংহারক, পাপনাশক। তিনি বসুশ্রেষ্ঠ, হব্যনেতা, দীপ্তিমান, সর্বপোষক, অজর, জরানাশক, রক্তবর্ণ, তনুনাপাতের পুত্র। তাঁর অশ্ববর্ণ ছোপছোপ, আকাশজ, সুন্দর, অন্ধকারনাশক, গ্রীষ্মতাপ, দাহক, মেঘ, পক্ষাবান, শত্রুনগরবিজয়ী। তিনি মুখনিঃশ্বাস, সুগঠিত, সুবাসিত, শীতলপ্রকৃতি, বসন্ত, মাধব, গ্রীষ্ম, নবস্য, বীজবাহী। তিনি অঙ্গিরস, অত্রিপুত্র, বিশুদ্ধ, বিশ্ববাহক, বিশুদ্ধকারী, বহুজনজয়ী, ইন্দ্র, ত্রয়ীজ্ঞ, মানববাহক। তিনি মন, বুদ্ধি, অহংকার, ক্ষেত্রজ্ঞ, ক্ষেত্ররক্ষক, শক্তিধাম, জ্ঞানধাম, পক্বকারী, বিঘ্নসৃষ্টা। তিনি অধম, অনুত্তম, জ্ঞেয়, জ্যেষ্ঠ, পরমমঙ্গলের আবাস, পর্বত, শৈল, পর্বতদেহ, দানবশত্রু, শত্রুনাশক। তিনি সুন্দরবুদ্ধি, পিতা, জগতের দুঃখনাশক, চতুর্বেদ, চতুর্মূর্তি, চতুর, চতুরপ্রিয়। তিনি বেদ, সর্ববেদ, তীর্থদেবতা, শিবধাম, বহুরূপ, মহারূপ, সর্বরূপ, চরাচরধারী। তিনি ন্যায়রক্ষক, ন্যায়, ন্যায়যোগ্য, নির্মল, সহস্রশীর্ষ, দেবরাজ, সর্বাস্ত্রনাশক। তিনি মুণ্ডিত, বিকলাঙ্গ, ভীষণ, দণ্ডধারী, সংযমী, সদ্গুণশ্রেষ্ঠ, পিঙ্গলনয়ন, হেমনয়ন, নীলকণ্ঠ, নিররোগ। এইভাবেই, এক অনন্ত, অপরিসীম, বহুরূপ, সর্বব্যাপী, সর্বশক্তিমান, সর্বজ্ঞ, এবং সর্বমঙ্গলের আধার—তিনি পরমেশ্বর—সকল জগতের আশ্রয়, সকলের হৃদয়ের ধ্যান, এবং চিরন্তন কল্যাণের উৎস।