তিনি সেই মহাযোগী, যিনি অন্ধকার দূর করেন, সকলের রক্ষা করেন, তাঁর জটাজুট ব্রহ্মার দেহ থেকে উৎপন্ন। তিনি মৃত্যুরও মৃত্যু, চর্মবস্ত্র পরিহিত, সর্বদা মঙ্গলময়, এবং পবিত্র অক্ষরের স্বরূপ। কখনও কখনও তিনি উন্মাদ বেশ ধারণ করেন, দর্শনে আনন্দময়, কিন্তু তাঁর নিকটবর্তী হওয়া দুরূহ। তিনি কামদেবকে দমনকারী, দৃঢ় বাহুবান, স্কন্দের শিক্ষক, সর্বোচ্চ আশ্রয় এবং পরম গন্তব্য। তিনি অনাদি, অনন্ত, পর্বতের অধিপতি, পর্বতের বন্ধু, কুবেরেরও বন্ধু। তাঁর গলায় নীলচিহ্ন, তিনি শ্রেষ্ঠ বিশ্বের সর্বোচ্চ। সকল দেবতার জন্য সাধারণ, ধনুকধারী, কুঠারধারী, বিস্তৃত চক্ষু, হরিণ শিকারি, দেবতাদের অধিপতি, সূর্যের মতো দীপ্তিমান। তিনি ধর্মকর্মে অচ্যুত, পুণ্যক্ষেত্র, ভাগার চক্ষু বিনাশকারী, ভয়ানক, প্রাণীর অধিপতি, গরুড়ের মতো দ্রুতগামী, ভক্তদের প্রিয় এবং মধুরভাষী। তিনি দাতা, করুণাময়, দক্ষ, জটাজুটধারী, কামদমনকারী, শ্মশানে বাসকারী, অতিসূক্ষ্ম, শ্মশানে অবস্থানকারী মহাদেব। তিনি বিশ্বের স্রষ্টা, জীবের অধিপতি, মহাসৃষ্টিকর্তা, মহাচিকিৎসক, সর্বোচ্চ, গোরক্ষক, রক্ষক, জ্ঞানের দ্বারা লাভযোগ্য, প্রাচীনতম। তিনি স্বয়ং ধর্ম, পরম ধর্ম, পবিত্র আত্মা, সোম, সোমাসক্ত, আনন্দময়, সোমপানকারী, অমৃতপানকারী, মহান চরিত্র ও জ্ঞানের আধার। তিনি অজন্মা, শত্রুদের বিনাশকারী, আলোকময়, অগ্নিতে আহুতি প্রদানকারী, বিশ্বের স্রষ্টা, বেদের রচয়িতা, সূত্রকার, চিরন্তন। তিনি মহর্ষি, কপিলের শিক্ষক, জগতের দীপ্তি, ত্রিনয়ন, পিনাকধারী, পৃথিবীর অধিপতি, কল্যাণদাতা, সদা শুভকর্মে রত। তিনি তিন আবাসের অধিকারী, সৌভাগ্যবান, শর্ব, সর্বজ্ঞ, সর্বদর্শী, ব্রহ্মার আশ্রয়, বিশ্বস্রষ্টা, স্বর্গ, পদ্ম, প্রিয়, কবি। তিনি শাখা, পরম শাখা, গোশাখা, মঙ্গলময়, এক নন, যজ্ঞ স্বরূপ, সমান, গঙ্গাজলে স্নাত, অস্তিত্বের মূর্তি, সর্বরূপ, নির্মাতা, স্থির। তিনি আত্মজিত, আত্মনিয়ন্ত্রিত, জীবগণের সারথি, সঙ্গীদের পরিবেষ্টিত, গণের উদ্দেশ্য, সুপ্রসিদ্ধ, সন্দেহমুক্ত। তিনি কামদেব, কামরক্ষক, ভস্মলেপিত, ভস্মপ্রিয়, ভস্মশায়ী, কামাতুর, প্রিয়জন, শাস্ত্রজ্ঞ। তিনি গুণবান, অনাসক্ত, ধর্মপরায়ণ, সদা মঙ্গলময়, চতুর্মুখ, চতুর্ভুজ, দুর্লভ, দুর্জয়। তিনি দুর্লভ, দুর্জ্ঞেয়, দুর্গ, সর্বাস্ত্রকুশল, যোগে প্রতিষ্ঠিত, সুজাত, বংশবৃদ্ধিকারী। তিনি মঙ্গলময় রূপ, বিশ্বের সার, বিশ্বেশ্বর, অমৃতভোজী, ভস্মশোধিত, মেরু, শক্তিশালী, বিশুদ্ধরূপ। তিনি স্বর্ণবীজ, সূর্য, রশ্মি, মহত্ত্বের আবাস, মহাসাগর, মহাযোনি, সিদ্ধগণের পূজিত। তিনি বাঘছাল পরিহিত, সাপমাল্যধারী, মহাতত্ত্ব, মহাধন, অমর অঙ্গ, অমররূপ, পঞ্চযজ্ঞ, বিনাশকারী। তিনি পঁচিশ তত্ত্বজ্ঞ, কাল্পবৃক্ষ, উচ্চ-নিম্ন অতিক্রমকারী, সহজলভ্য, সদ্ব্রত, বীর, বাক্যর একমাত্র ধন, ধনের আধার। তিনি বর্ণাশ্রমের শিক্ষক, অলঙ্কৃত, শত্রুজয়ী, শত্রুনাশক, আশ্রম, তপস্বী, ক্ষীণ, জ্ঞানী, অচলদের মধ্যেও অচল। তিনি পতাকা স্বরূপ, দুর্জ্ঞেয়, সুপর্ণ, বাতাসবাহী, ধনুকধারী, ধনুর্বেদজ্ঞ, গুণের আধার, গুণময়। তিনি অনন্তদৃষ্টি, আনন্দময়, দণ্ডধারী, দমনকারী, আত্মসংযমী, পূজনীয়, মহাগুরু, বিশ্বনির্মাতা, দক্ষ। তিনি রাগমুক্ত, নম্র, তপস্বী, জীবসৃষ্টিকর্তা, উন্মাদবেশধারী, গোপন, কামজয়ী, স্নেহজয়ী। তিনি মঙ্গলময়, বিধি, সব জগত ও জীবের অধিপতি, তপস্বী, উদ্ধারকর্তা, জ্ঞানী, আদিপুরুষের অধিপতি, অবিনাশী। তিনি বিশ্বের রক্ষক, আত্মগুপ্ত, চক্রের উৎপত্তি, পদ্মনয়ন, বেদ-শাস্ত্র-শাস্ত্রার্থজ্ঞ, সংযম, সংযমের আশ্রয়। তিনি চন্দ্র, সূর্য, শনৈশ্চর, কেতু, নিবৃত্তি, প্রবালবর্ণ, ভক্তির দ্বারা লাভযোগ্য, পরম ব্রহ্ম, হরিণ-ধনুর্বাহক, নিষ্পাপ। তিনি পর্বতের রাজায় বাসকারী, প্রিয়, পরমাত্মা, বিশ্বগুরু, সকল কর্মে অচঞ্চল, নির্মাতা, মঙ্গলময়, মঙ্গলের পরিবেষ্টিত। তিনি মহাতপস্বী, দীর্ঘতপস্যাকারী, বৃহৎ, প্রাচীন, চিরন্তন, দিন, বছর, সর্বব্যাপী, পরিমাপ, পরমতপস্যা। তিনি বর্ষনির্মাতা, মন্ত্র, নিশ্চিত, সর্বদর্শী, অযোনিজ, সর্বেশ্বর, কোমল, মহাবীজ, মহাশক্তি। তিনি যোগী, যোগোপযুক্ত, মহাবীজ, সিদ্ধ, সর্বের উৎস, অগ্নিদাতা, ধনবান, মহামতি, সত্য, পাপহন্তা, বিনাশকারী। তিনি অমর, চিরন্তন, শান্ত, তীরধারী, শক্তিমান, কমণ্ডলুধারী, ধনুর্বান্ধব, বেদাধ্যায়ী, বেদজ্ঞ ঋষি। তিনি দীপ্তিমান, অন্ন ও ভোজনকারী, লোকনেতা, দুর্জয়, ইন্দ্রিয়াতীত, মহামায়াবান, সর্বত্র বিরাজমান, চতুর্বিধ পথের অধিপতি। তিনি কালযোগী, মহাশব্দ, মহাশক্তি, মহাবল, মহাবুদ্ধি, মহাবীর্য, জীবমধ্যে গামী, পুরনগর বিনাশকারী। তিনি নিশাচর, ভূতের মধ্যে গামী, মহাশক্তিমান, মহাতেজস্বী, অবর্ণনীয় রূপ, গৌরবময়, সর্বাকর্ষক, অপরিমেয় গতিসম্পন্ন। তিনি বহুশ্রুত, বহুরূপ, আত্মনিয়ন্ত্রী, ভবের উৎস, বল, দীপ্তি, কান্তি দাতা, নর্তক, সকল কামনার পূরণকারী। তিনি নৃত্যপ্রেমী, নর্তক ও অনর্তক, স্বয়ংপ্রভ, দগ্ধকারী, স্পষ্টবাক, মন্ত্র, যথাযোগ্য সম্মান, রসসাগর। তিনি যুগস্রষ্টা, যুগপরিবর্তক, গভীর, বৃষধ্বজ, কাম্য, বিশিষ্ট, মহাজনের দ্বারা পূজিত, শরভ, শরভ, ধনুক। তিনি জলধন, ভিত্তি, বিজয়ী, বিজয়ের সময়জ্ঞ, প্রতিষ্ঠিত, পরিমাপক, স্বর্ণবর্ম, পিঙ্গল। তিনি দীপ্তিমান, দেবনেতা, জ্ঞানেশ্বর, জ্ঞানীদের আশ্রয়, শিশুরূপ, বলবানদের দমনকারী, ঘূর্ণায়মান, অগাধ, শিক্ষক। এইভাবেই তিনি, সর্বগুণে গুণান্বিত, অনন্তরূপ, বিশ্ববিধাতা, সকলের আশ্রয় ও প্রিয়, ভক্তদের হৃদয়ে চিরজাগরূক, জগতের মঙ্গল ও কল্যাণের একমাত্র উৎস।