হিমালয়, পার্বত্য অঞ্চল ও দেবতাদের গৌরবের কথা শুনুন। মেরু পর্বতকে বর্ণনা করা হয়েছে—এটি চারটি রঙের ও সোনালী আভায় উজ্জ্বল, উঁচু, গোলাকার, চারদিকে বিস্তৃত ও চারটি পাশ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মেরু পর্বত কখনো নীল, কখনো বেরিলের মতো, কখনো শ্বেত, কখনো সোনালী, আবার কখনো ময়ূরের পালকের মতো রঙিন। তিনটি শিখর নিয়ে এটি হলুদ সোনার তৈরি। এভাবে মেরু পর্বতের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। এখন শুনুন দেবতাদের গৌরবময় পর্বতের কথা। পূর্ব দিকে মন্দার ও দেবকূট—এই দুটি পর্বত। পূর্ব দিকেই কৈলাস, গন্ধমাদন ও হেমবান পর্বত রয়েছে, যেগুলো সমুদ্রের মধ্যে বিস্তৃত। নিষধ ও পারিয়াত্র—এই দুটি উৎকৃষ্ট পর্বত পূর্বের মতো, তবে দক্ষিণ ও পশ্চিমে অবস্থিত। উত্তর দিকে ত্রিশৃঙ্গ ও জারুচি—এই দুটি বিশাল পর্বত পূর্বের দিকে বিস্তৃত এবং সমুদ্রের মধ্যে অবস্থিত। জ্ঞানীরা এই আটটিকে সীমান্ত পর্বত বলে অভিহিত করেন। আর মেরু, দ্বিজদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, সেই উঁচু সোনালী পর্বত। এর চারটি বিশাল শিখর চারটি দিকের মধ্যে রয়েছে, যেগুলোর দ্বারা সাতটি মহাদেশসহ পৃথিবী স্থিরভাবে ধরে রাখা হয়েছে। প্রত্যেক শিখরের দৈর্ঘ্য দশ হাজার যোজন। পূর্বে মন্দার, দক্ষিণে গন্ধমাদন, পশ্চিমে বিপুলা, আর উত্তরে সুপার্শ্ব। এই চারটি শিখরে চারটি বিশাল বৃক্ষ জন্মেছে, মহাদেশের পতাকা স্বরূপ। মন্দার পর্বতের শিখরে কেতুরাট বৃক্ষ, যার শাখা বিস্তৃত, এবং কদম্ব, পবিত্র বৃক্ষ। দক্ষিণের পর্বতের শিখরে দেবতাদের পূজিত জাম্বু বৃক্ষ, যা সর্বদা শুভ ফল ধারণ করে ও মালায় সজ্জিত থাকে। দক্ষিণ মহাদেশে জাম্বু বৃক্ষ বিখ্যাত; পশ্চিমের বিপুলা পর্বতের শিখরে বিশাল অশ্বত্থ বৃক্ষ জন্মেছে। উত্তর দিকের সুপার্শ্ব শিখরে জন্মেছে বিশাল বটগাছ, যার কাণ্ড বহু যোজন জুড়ে বিস্তৃত। এবার আমি এই চারটি গৌরবময় পর্বতের বিস্তারিত বর্ণনা করব। চারটি দিকেই দেবতাদের জন্য অপূর্ব, অলৌকিক ক্রীড়াক্ষেত্র আছে, সব ঋতুতে ও সময়ে মনোমুগ্ধকর। এবার জানুন চার দিকের বনগুলোর নাম: পূর্বে চৈত্ররথ, দক্ষিণে গন্ধমাদন, পশ্চিমে বৈভ্রাজ, উত্তরে সভিতৃর বন। পূর্বে মিত্রেশ্বর, তারপর ষষ্ঠেশ্বর; পশ্চিমে বর্যেশ্বর, উত্তরে অম্রকেশ্বর। তেমনি, ঋষিদের জন্য চারটি বিশাল হ্রদও আছে। ঋষিরা এই পর্বত ও বনভূমিতে ক্রীড়া করেন। পূর্বে অরুণোদা হ্রদ, দক্ষিণে মানস হ্রদ। পশ্চিমে সিতোদা, উত্তরে মহাভদ্র। দক্ষিণে শাখার ক্ষেত্র, পশ্চিমে বিষাখার ক্ষেত্র। উত্তরে নাইগমেয়র ক্ষেত্র, পূর্বে কুমারার ক্ষেত্র। অরুণোদার পূর্বে শৈলেন্দ্র পর্বতসমূহ। আমি সংক্ষেপে তাদের বর্ণনা দেব, কারণ বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়: সিতান্ত, কুরন্দ, কুরার, উৎকৃষ্ট অচল পর্বত। বিকার, মনিশৈল, বৃক্ষবন, উৎকৃষ্ট অচল, মহনীল, রুচক, সাবিন্দু, দার্দুর। ভেনুমান, সমেঘ, নিষধ, দেবতাদের পর্বত—এরা প্রধান পর্বত, আরও অনেক পর্বত আছে। মন্দারের পূর্বে এগুলো সিদ্ধদের বাসস্থান বলে ঘোষিত হয়েছে। এই বিশাল পর্বতগুলোর গুহা ও বনভূমিতে দেবীয় রুদ্রক্ষেত্র, বিষ্ণুক্ষেত্র ও নারায়ণক্ষেত্র আছে। মানস হ্রদের দক্ষিণে বিশাল পর্বত রয়েছে। সবগুলো নাম আমি সংক্ষেপে বলছি: শৈল, বিশিরা, শিখর, উৎকৃষ্ট অচল পর্বত। একশৃঙ্গ, মহাশূল, গজশৈল, পিশাচক, পঞ্চশৈল, কৈলাস, উৎকৃষ্ট হিমবান পর্বত। এরা সকলেই গৌরবময়, দেবতাদের পর্বত, তাদের মহিমা বিখ্যাত। প্রতিটি পর্বত ও বনভূমিতে দেবীয় রুদ্রক্ষেত্র স্থাপিত হয়েছে দেবতাদের দ্বারা। আমি দক্ষিণ দিকের কথা বলেছি, এবার পশ্চিমের কথা বলি। সিতোদা, সুরাপ, কুমুদ, মধুমান, অঞ্জন, মুকুট। কৃষ্ণ, পাণ্ডুর, সহস্রশিখর, পারিজাত, শৈলেন্দ্র, উৎকৃষ্ট শ্রীশৃঙ্গ। এরা সকলেই পশ্চিম দিকের গৌরবময়, দেবতাদের পর্বত, রুদ্রক্ষেত্রে সমৃদ্ধ। মহাভদ্র হ্রদের উত্তরে আছে শক্তিশালী পর্বতসমূহ; তাদের নাম আমি সংক্ষেপে বলছি: শঙ্খকূট, বৃশভ, হংস পর্বত, নাগ, কপিল, ইন্দ্রশৈল। নীল, কণ্ঠকশৃঙ্গ, শতশৃঙ্গ, পর্বত, পুষ্পকোষ, প্রশৈল, বিরজ—এরা অচল পর্বতদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। বরাহ পর্বত, ময়ূর শিখর, জারুধি—এরা উত্তর দিকে অবস্থিত। এইসব দেবীয় পর্বতসমূহে, ত্রিশূলধারী দেবতার গৌরবে, হাজার হাজার আকাশীয় প্রাসাদ রয়েছে। এই প্রধান পর্বতগুলোর মধ্যে, নির্দিষ্ট ক্রমে, রয়েছে অন্তর উপত্যকা, হ্রদ ও বনভূমি।