তিনি রূপান্তরের দেবী, এই জগতের অন্তর্গত, শাস্ত্রজ্ঞ, অসংখ্য সেবিকা ও গন্ধর্বদের দ্বারা পূজিতা। তিনি মহারাত্রি, শিবের আনন্দদায়িনী, শচী, অশুভ স্বপ্নের বিনাশিনী। তিনি গোপন অম্বিকা, গুণের উৎস, মহাসন এবং মরুৎদের কন্যা। তিনি জগতের গর্ভ, জগতের জননী, জন্ম-মৃত্যু-বৃদ্ধির ঊর্ধ্বে অবস্থান করেন। তিনি অপরিমেয় শক্তির অধিকারিণী, গভীর ধ্যানস্থ, ত্রিনয়নী, স্বর্গে বিরাজমান। তিনি সেই জ্ঞানের রূপ, যিনি ভক্তদের মনকে ব্রহ্মতত্ত্বে বিলীন করে সাগর পার করান। তিনি সোনালি, মহারাত্রি, সংসারের চক্র ঘুরিয়ে দেন। তিনি জাগরণদাত্রী, সব সহিষ্ণু, সমস্ত সত্যের সাক্ষী। তিনি সত্তার পরিশোধক, শুদ্ধতার স্বরূপ, তিনটি মলের বিনাশকারিণী। তিনি নির্ভরশূন্য, নির্ভরবিহীন, অঙ্কুরহীন অরণ্য থেকে উদিতা। তিনি উচ্চ-নিম্নের ব্যবস্থা জানেন, মহান পুরুষের জ্যেষ্ঠসন্তান। তিনি জ্ঞানময়, সহস্রনয়না, সহস্রমুখ থেকে জন্মগ্রহণ করেছেন। তিনি ধৌতিকারিণী, সাররূপা, সর্বব্যাপী, দীপ্তিময়, পদ্ম জাগরণকারিণী। তিনি আকাশের শ্রী, সিংহবাহিনী, বিচক্ষণ, অপরিমেয় দীপ্তির অধিকারিণী। তিনি অনাহত, কুণ্ডলিনী, পদ্ম, পদ্মে অবস্থিতা। তিনি বাকদেবী, ব্রহ্মণের অংশ, অংশাতীত, অংশের উৎস। তিনি আকাশশক্তি, ক্রিয়াশক্তি, জ্ঞানশক্তি, পরম পথ। তিনি অবিভক্ত ও বিভক্ত রূপে, বংশীবাদক, বংশীহরণকারিণী। তিনি ভগবানের বোন, পত্নী, সম্পূর্ণা, সময়ের কর্তা। তিনি প্রক্রিয়া, যোগের জননী, গঙ্গা, বিশ্বেশ্বরের অধিষ্ঠাত্রী। তিনি সদ্গুণময়ী, পদ্মিনী, ভোগকারিণী, ইন্দ্রপুরীর শ্রেষ্ঠা। তিনি পঞ্চব্রহ্মের উৎস, পরমার্থের মূর্তি। তিনি মোহনীয়, মনরক্ষিকা, তপস্বিনী, বেদময়ী। তিনি জননী, যোগেশ্বরদের স্বামিনী, মহাশক্তি, মনোবিনির্মিত। তিনি দেবকন্যা, পূজনীয়া, সুরভি, নন্দিনী, নন্দির প্রিয়। তিনি সর্বাস্ত্রধারিণী, কাম্য, কামেশ্বরী। তিনি কুমাণ্ডী, ধনরত্নবতী, সুবাসিনী, গন্ধদাত্রী। তিনি দুর্লভ, রত্নরক্ষিকা, সৌভাগ্যশালিনী, পিঙ্গলনয়না। তিনি আদ্যাশক্তি, হৃদয়পদ্মে জন্মগ্রহণকারী, গোবর্গে শ্রেষ্ঠা, যুদ্ধপ্রিয়। তিনি দুর্গা, কাত্যায়নী, উগ্র চণ্ডিকা, চর্চিকা, শান্তরূপা। তিনি মন্দার পর্বতবাসিনী, শরদা, সুবর্ণমালাবিভূষিতা। তিনি পদ্মবদনা, পদ্মসদৃশী, সর্বদা সন্তুষ্ট, অমৃতসম্ভূতা। তিনি মহেন্দ্রের ভগিনী, পূজনীয়া, বরণীয়, বরদাত্রী। তিনি স্তুতিযোগ্যা, বরেশ্বরী, পূজনীয়া, অজেয়া, দুর্জয়। তিনি ভদ্রকালী, জগতের জননী, ভক্তদের সৌভাগ্যদাত্রী। তিনি কীর্তিময়ী, যশোদা, ষড়্মার্গবিহারিণী। তিনি চৈত্রমাসের অধিষ্ঠাত্রী, বর্ষবাহিনী, ইন্দ্রকন্যা, বিশ্বপূরণকারিণী। তিনি পক্ষীবাহিনী, পক্ষীরাজে আরোহণকারী, পরম মূল্যবান, শ্রেষ্ঠ মালায় ভূষিতা। তিনি বিজয়িনী, হৃদয়গুহায় আনন্দদায়িনী, অন্তর্নিহিত, গণনেত্রী। তিনি কলিযুগের দোষনাশিনী, গোপন উপনিষদসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠা।