সমগ্র কূর্ম পুরাণ গদাধর দ্বারা উচ্চারিত হয়েছিল। ভাসুদেব এই সমস্তের বিন্যাস করেছিলেন, যাতে সমস্ত প্রাণী মায়ার দ্বারা আচ্ছন্ন হয়। এখানে ধর্ম, অর্থ, কাম ও মোক্ষ—এই চারটি পুরুষার্থের শুভ লক্ষণগুলি যথাযথভাবে বর্ণিত হয়েছে। একত্ব ও বহুত্ব, এবং তাদের পার্থক্যসমূহ সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এছাড়া, বর্ণ ও আশ্রমের যথাযথ গুণাবলীও এখানে নির্ধারিত হয়েছে। হিরণ্যগর্ভের সৃষ্টির কথা, ব্রহ্মার জলে বিশ্রাম এবং তাঁর নামকরণের ব্যাখ্যাও এখানে বর্ণিত হয়েছে। মূল সৃষ্টি, পরবর্তী সৃষ্টি এবং ঋষিদের সৃষ্টির কাহিনীও বলা হয়েছে। ধর্মের দ্বারা পূর্বে সংঘটিত তামসিক প্রকৃতির জীবসৃষ্টির কথাও এখানে এসেছে। ব্রহ্মার কমল থেকে ভগবানের জন্ম এবং জ্ঞানী হয়েও তাঁর মায়ার বর্ণনা পাওয়া যায়। সর্বোচ্চ প্রভু ব্রহ্মা কিভাবে দিব্যদৃষ্টি প্রদান করেছিলেন, তাও বলা হয়েছে। গিরীশের কৃপা, বরপ্রদান, এবং পিনাকধারীর অভূতপূর্ব বরদান ও তাঁর অন্তর্ধান—সবই এখানে এসেছে। ব্রহ্মার নাভিকমল থেকে ভগবানের অবতরণ এবং ব্রহ্মার মোহ, তারপর হরির নামলাভের ঘটনাও বর্ণিত হয়েছে। পরে, মহেশ্বরের কপাল থেকে প্রকাশের কথা বলা হয়েছে। দেবাদিদেবের ঐশ্বর্য ও বরপ্রদানের নির্দেশনাও এখানে আছে। দেবাদিদেবের দর্শন, তাঁর অর্ধনারীশ্বর রূপের বর্ণনাও পাওয়া যায়। এরপর দেবীর কাহিনী ও তাঁর দক্ষের কন্যা হওয়ার ঘটনা এসেছে। দেবী-রূপ ও বিশ্বরূপ দর্শনের কথা, দেবীর নির্দেশ এবং বরপ্রদানও বর্ণিত হয়েছে। দক্ষের প্রাচেতসপুত্র হওয়া ও দক্ষযজ্ঞের বিনাশের ঘটনাও এখানে বলা হয়েছে। তারপর, মহর্ষিদের দ্বারা উচ্চারিত অভিশাপের কথা এসেছে। পিতামহ ব্রহ্মার নির্দেশ—সংরক্ষণের জন্য যা বলা হয়েছিল—এখানে বর্ণিত হয়েছে। হিরণ্যকশিপু ও হিরণ্যাক্ষের বিনাশের কাহিনী, তারপর অন্ধকের দমন ও গণপতির সর্বোচ্চ নেতৃত্বের কথা বলা হয়েছে। বাণাসুরের দমন ও ত্রিশূলধারীর কৃপাও এখানে এসেছে। এরপর ভাসুদেবের ইচ্ছায় স্বয়ং বিষ্ণু—হরির—জন্মের কথা বলা হয়েছে। মহাদেব ও তাঁর পুত্রের দর্শনলাভের পর বরলাভের ঘটনাও এখানে বর্ণিত হয়েছে। এরপর দ্বারকাবাসীদের ভয়ের কথা, নারদের আগমন এবং গরুড়ের যাত্রার কাহিনী এসেছে। ভাসুদেবের নিত্য শিবলিঙ্গ পূজা ও লিঙ্গের পূজার কারণও এখানে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ব্রহ্মা ও বিষ্ণুর মধ্যে যা ঘটেছিল, তার বর্ণনা, দেবাদিদেবের স্তব ও পরমেশ্বরের কৃপা—সবই এখানে বলা হয়েছে। অনিরুদ্ধের উৎপত্তি এবং মহাত্মা কৃষ্ণের বরদানও বর্ণিত হয়েছে। যুগধর্ম, যা কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাখ্যা করেছেন, এবং আশ্চর্যকর্মা মহর্ষি ব্যাস—পরাশর্য—তাঁর নির্বাসন ও বরদান, এসব কাহিনিও এখানে সুন্দরভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।