রাজা, শুনুন — শুক্লতীর্থে এক মহৎ কর্ম সম্পন্ন করলে পূর্বপুরুষরা মুক্তি ও তৃপ্তি লাভ করেন, যতদিন চাঁদ ও তারা আকাশে বিরাজমান। এই তীর্থে স্নান করলে কঠোর তপস্যার ফল প্রাপ্ত হয়। নর্মদার তীরে এমন পবিত্র স্থান আর নেই, হে যুধিষ্ঠির। এখানে শুক্লতীর্থে অর্ঘ্য প্রদান ও উপবাস করলে অসীম পুণ্য অর্জন হয়। শুক্লতীর্থ সমুদয় পাপ বিনাশকারী হিসেবে বিখ্যাত। এখানে ভর্গ দেবীসহ সর্বদা বিরাজ করেন, হে শঙ্কর। কৈলাস থেকে হারা এখানে উপস্থিত আছেন। এখানে দেবদেবী, অপ্সরা ও নাগদের বিশাল সমাবেশ দেখা যায়। এখানে স্নান, দান, তপস্যা ও পূর্বপুরুষদের জন্য শ্রাদ্ধ—সবই সীমাহীনভাবে পালন হয়। শুক্লতীর্থে দিন-রাত উপবাস করলে মানুষ শুদ্ধ হয়। একুশ পুরুষের সঙ্গে সে দেবত্ব থেকে পতিত হয় না। অন্য কোনো পথ শুক্লতীর্থে অর্জিত অবস্থার সমান ফল দেয় না। এখানে স্নান করলে মানুষ পুনর্জন্ম গ্রহণ করে না, হে রাজা। উপবাস, সংযম ও একাগ্রতার সঙ্গে স্নান করলে এই তীর্থের শক্তিতে সব কিছু অবিনশ্বর হয়ে যায়। এখানে বিয়ে করলে কী পুণ্য হয়, শুনুন—সে রুদ্রের লোকেতে হাজার বছর সম্মানিত হয়। এখানে স্নান করে, যদি কেউ শুধু রাতে আহার করেন, তবে গর্ভের কষ্ট আর দেখতে হয় না। এক ব্রাহ্মণকে অন্নদান করলে যেন কোটি ব্রাহ্মণকে অন্নদান করা হয়। নর্মদার জল মিশিয়ে ব্যবহার করলে সব পাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। সেই শুভ দিনে এখানে গঙ্গার অবতরণ ঘটে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। সব পাপ থেকে মুক্ত হয়ে সে ব্রহ্মার লোকেতে সম্মানিত হয়। নন্দীশা সন্তুষ্ট হন, এবং সে সোমের লোকেতে সম্মান পায়। এখানে স্নান করলে মানুষ কখনো নরক দর্শন করে না, হে রাজা। সে সুন্দর, ধনবান ও ভোগে পূর্ণ হয়ে জন্মায়। এখানে স্নান করলে হাজার গোমেদার ফল লাভ হয়। ভক্তিসহ উপবাস করে এখানে ঘৃতের প্রদীপ দান করা উচিত। ঘণ্টা পরানো পিঙ্গল গাভী দান করলে সে শিবের সমান শক্তিশালী হয়ে দীর্ঘকাল শিবের মতো ভোগ করে। শিবের স্নান করিয়ে ব্রাহ্মণদের অন্নদান করলে, সে শক্রর লোকেতে গিয়ে শক্রর সঙ্গে আনন্দে থাকে। পরিশ্রম করে এখানে স্নান করলে সে সুন্দর ও সৌভাগ্যবান হয়। শ্রাবণ মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশীতে, পূর্বপুরুষদের অর্ঘ্য দিলে তিন ঋণের মুক্তি হয়। জন্ম থেকে করা পাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়, এতে কোনো সন্দেহ নেই। এই তীর্থ তিন জগতের মধ্যে বিখ্যাত, দশটি অশ্বমেধ যজ্ঞের সমান। অমাবস্যায় স্নান করে, ষাঁড়চিহ্নিত প্রভুকে পূজা করা উচিত। রুদ্রের মনোরম নগরে গিয়ে সে রুদ্রের সঙ্গে আনন্দে থাকে। এখানে পূর্বপুরুষদের অর্ঘ্য দিলে অশ্বমেধ যজ্ঞের ফল লাভ হয়। প্রাচীন কালে এখানে ভৃগু দেবতা রুদ্রের পূজা করেছিলেন।