হে রাজা, শুনুন—নর্মদার তীরের এক পবিত্র স্থানে একদিন ও একরাত্রি উপবাস করলে ব্রাহ্মণহত্যার পাপ মোচন হয়। এই তীর্থটি "কমতীর্থ" নামে পরিচিত, যেখানে কাম দেবতা ভবা অর্থাৎ মহাদেবের পূজা করেছিলেন। এখানে প্রেমের দেবতার রূপে একজন রুদ্রলোকেও সম্মানিত হন। এই স্থানের আরেক নাম "উমাহকা"; এখানে পূর্বপুরুষদের সন্তুষ্ট করার বিধান আছে। এই স্থানে জলাশয়ের মধ্যে একটি হাতির আকারের পাথর দাঁড়িয়ে আছে। যিনি এখানে পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে অর্ঘ্য নিবেদন করেন, তাঁর পূর্বপুরুষরা পৃথিবী টিকে থাকা পর্যন্ত সন্তুষ্ট থাকেন। এখানে স্নান করলে গনপতির অবস্থান লাভ হয়। আবার, এখানে স্নান করলে বিষ্ণুলোকেও সম্মানিত হওয়া যায়। এখানে শিব নিজেকে লিঙ্গরূপে প্রকাশ করেছেন, যা পরম আবাস। এখানে পিণ্ডদান করলে মৃত্যুর পর অসীম ফল লাভ হয়। এই কর্মে পূর্বপুরুষরা চন্দ্র ও তারাগণ বিদ্যমান থাকা পর্যন্ত মুক্ত ও সন্তুষ্ট থাকেন। হে যুধিষ্ঠির, এখানে স্নান করলে তপস্যার ফল লাভ হয়; নর্মদার তীরে এমন পবিত্র স্থান আর কোথাও নেই। "শুক্লতীর্থ" নামে এখানে উপবাস ও অর্ঘ্য দিলে মহাপুণ্য লাভ হয়। এই শুক্লতীর্থ সমস্ত পাপ নাশকারী হিসেবে বিখ্যাত। এখানে ভর্গ দেবীসহ সর্বদা বিরাজ করেন, হে শঙ্কর। কৈলাস থেকে হারা এখানে এসে উপস্থিত হয়েছেন। এখানে দেবতা, অপ্সরা ও নাগদের দল বসবাস করেন। এখানে স্নান, দান, তপস্যা ও পূর্বপুরুষদের জন্য অর্ঘ্য—সবই অসীমভাবে দেখা যায়। শুক্লতীর্থে একদিন ও একরাত্রি উপবাস করলে পবিত্রতা অর্জিত হয়। একুশ পুরুষের সঙ্গে তিনি দেবত্ব থেকে পতিত হন না। অন্য কোনো পথ এমন ফল দেয় না, যা শুক্লতীর্থে পাওয়া যায়। এখানে স্নান করলে পুনর্জন্ম হয় না। উপবাস, আত্মসংযম ও মনোসংযোগসহ স্নান করলে এই তীর্থের শক্তিতে সবই অক্ষয় হয়। শুনুন, এখানে বিবাহ সম্পন্ন করলে যে পুণ্য হয়—তিনি হাজার হাজার বছর রুদ্রলোকেও সম্মানিত হন। স্নান শেষে রাতেই আহার করলে গর্ভের কষ্ট দেখতে হয় না। এখানে একজন ব্রাহ্মণকে অন্নদান করলে যেন কোটি ব্রাহ্মণকে অন্নদান করা হয়। নর্মদার জল মিশিয়ে ব্যবহার করলে সমস্ত পাপ মুক্তি হয়। শুভ দিনে এখানে গঙ্গার অবতরণ ঘটে, সন্দেহ নেই। সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত হয়ে ব্রহ্মলোকেও সম্মানিত হওয়া যায়। নন্দীশা সন্তুষ্ট হন, সোমলোকেও সম্মানিত হন। এখানে স্নান করলে কখনো নরক দর্শন হয় না। তিনি সৌন্দর্য, ধন ও ভোগে সমৃদ্ধ হয়ে পৃথিবীতে জন্ম নেন। এখানে স্নান করলে হাজার গাভীর ফল পাওয়া যায়। ভক্তিসহ উপবাস করে এখানে ঘৃতের প্রদীপ দান করা উচিত। ঘণ্টা-বাঁধা পীতবর্ণ গাভী দান করতে হয়। তখন তিনি শিবের সমান শক্তি লাভ করেন এবং শিবের মতো দীর্ঘকাল ভোগ করেন। শেষে শিবকে স্নান করিয়ে ব্রাহ্মণদের অন্নদান করা উচিত। এই তীর্থের মাহাত্ম্য, উপবাস, স্নান, দান ও পিণ্ডদান—সবই অসীম ফল, মুক্তি ও দেবলোকের সম্মান এনে দেয়।