একবার এক জ্ঞানী ব্রাহ্মণ শিষ্যদের কাছে পাপ ও শুদ্ধিকরণের নানা বিধি বর্ণনা করছিলেন, যেগুলো কুর্ম পুরাণে নির্দিষ্ট করা হয়েছে। তিনি বললেন, “যদি কেউ নিষিদ্ধ খাদ্য গ্রহণ করে, তবে পূর্বের নিয়ম অনুযায়ী, ব্রত পালনের মতোই প্রायশ্চিত্ত করতে হবে। যেমন, যদি কেউ চক্রবাক বা প্লব পাখি খায়, তাকে বারো দিন উপবাস করতে হবে। একইভাবে, যদি কেউ পেঁচা বা জালে ধরা পাখি খায়, তাকেও এই ব্রত পালন করতে হবে। আবার, কটাহারা খেলে একই ব্রত পালন করতে হবে। যদি কেউ এক মাস গোমূত্র ও যব খেয়ে থাকে, সে শুদ্ধ হয়ে যায়। লাল পা-ওয়ালা পাখি খেলে সাত দিন এই ব্রত পালন করতে হয়। এক মাস ধরে খেলে, সেই পাপ দূর করার জন্য এই সাধনা করতে হবে। শঙ্খ বা কচ্ছপ খেলে প্রাজাপত্য প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে। নালিকা বা তণ্ডুলীয়া খেলে প্রাজাপত্য প্রায়শ্চিত্তেই শুদ্ধি হয়। কাক্কুভা ডিম খেলে প্রাজাপত্য প্রায়শ্চিত্তেই শুদ্ধি লাভ হয়। উদুম্বর ফল ইচ্ছা করে খেলে, তপ্তকৃচ্ছ্র প্রায়শ্চিত্তে শুদ্ধি হয়। এই ধরনের খাদ্য খেলে তিন রাতেই শুদ্ধি লাভ হয়। আবার, এক মাস গোমূত্র ও যব খেলে শুদ্ধি হয়। জীবিত বাছুরের গরুর দুধ পান করলে, সেই সাধনা পালন করতে হয়। সাত রাত গোমূত্র ও যব খেলে শুদ্ধি হয়। এক ব্রাহ্মণ যদি সংযত থাকে, চাঁদ্রায়ণ প্রায়শ্চিত্তে শুদ্ধি লাভ করে। দ্বিজদের উচিত, খাদ্য গ্রহণের পর যথাযথভাবে চাঁদ্রায়ণ ব্রত পালন করা। স্ত্রীসহ বাস করলে তপ্তকৃচ্ছ্র প্রায়শ্চিত্তে শুদ্ধি হয়। কিন্তু যদি সচেতনভাবে পাপ করা হয়, তবে এক বছর কৃচ্ছ্র ব্রত ও পুনঃসংস্কার করতে হয়। নিষিদ্ধ খাদ্য খেলে প্রাজাপত্য প্রায়শ্চিত্তে শুদ্ধি হয়। যেখানে নির্দিষ্ট নির্দেশ নেই, সেখানে এক দিন যথাযথভাবে পালন করতে হয়। যদি কেউ মূত্র বা বিষ্ঠা গ্রহণ করে, দ্বিজদের উচিত চাঁদ্রায়ণ ব্রত পালন করা। তিন দ্বিজ জাতিকে পুনঃসংস্কার করতে হয়। ভাসা, মণ্ডূক, কুরর বা বিষ্কিরা পাখি খেলে কৃচ্ছ্র প্রায়শ্চিত্ত করতে হয়। দ্বিজ যদি শূদ্রের উচ্ছিষ্ট খায়, চাঁদ্রায়ণ ব্রত পালন করতে হয়। যব গোমূত্রে ভিজিয়ে খেলে বা অন্যের পান করা উচ্ছিষ্ট খেলে, তখন পাপ প্রবল হয়ে যায়। তখন সন্তাপন ব্রত পাপ মোচনের জন্য নির্দিষ্ট। ব্রাহ্মণদের উচিত কঠোর সন্তাপন ব্রত পালন করা। তিন রাত ও পঞ্চগব্য ব্যবহারে শুদ্ধি হয়। কেউ জেনে, বিভ্রান্ত মনে পাপ করলে তপ্তকৃচ্ছ্র পালন করতে হয়। অসাবধানতাবশত খেলে তিন রাতেই শুদ্ধি হয়। কিন্তু সচেতনভাবে করলে, কঠিনভাবে শুদ্ধি লাভ হয়, যেমন পদ্মজা বলেছেন। খাওয়ার পর উপবাস বা কৃচ্ছ্রপদও পালন করা যায়। অজান্তে খেলে কিংবা জেনে পাপ করলে, শুদ্ধির জন্য এই নিয়মগুলি পালন করতে হয়। গুরুতর মন্ত্রচর্চা না থাকলে, তিন কৃচ্ছ্র ব্রতেই শুদ্ধি হয়। যব গোমূত্রে ভিজিয়ে খেলে প্রাজাপত্য ব্রত পালন করতে হয়। চুল কাটা বা যৌন মিলনে এক দিন ও এক রাতেই শুদ্ধি হয়। তিন রাতে শুদ্ধি হয়; আবার তিন রাতের পর ছয় দিনে পুনরায় শুদ্ধি হয়। এই পাপ থেকে মুক্তি পেতে কৃচ্ছ্র ও চাঁদ্রায়ণ ব্রত পালন করতে হয়। প্রভু বলেছেন, কঠোর সন্তাপন কৃচ্ছ্র ব্রত পালন করা উচিত। এভাবেই শুদ্ধিকরণের নানা বিধি শিষ্যদের সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠল।