যারা সর্বদা লিঙ্গের পূজা করেন, তারা সত্যিই বিশ্বনাথকে দর্শন করেন। এমনকি একবার বিনীতভাবে নমস্কার করলেও রুদ্রকে সত্যভাবে দেখা যায়। তিনি স্বয়ং ঈশ্বর, হিরণ্যগর্ভের পুত্ররূপে দর্শিত হন। সেই শঙ্কর সর্বদা সঙ্গী থাকেন, কখনোও তাঁর পাশ ছাড়েন না। দান করলে রুদ্রকে দেখা যায়, তিনি সংসার-সাগর পার করে দেন। তিনি স্বয়ং কাল, যোগের আত্মা; আবার তিনিই কাল-সংহারকারী রূপে প্রকাশিত। সেই দেবতা সোম, যাঁর অলংকার তিনি ধারণ করেন, তিনিও দর্শিত হন। সর্বোচ্চ মুক্তির যাঁর গুণগান হয়, তিনি সেই মহাযোগী রূপে দেখা দেন। দেবতারা যোগে ধ্যান করেন, তিনিই সেই যোগী। উত্তম আসনে উপবিষ্ট হয়ে তিনি পরম স্মরণ লাভ করেন। তিনি সোমকে তুষ্ট করেন, যিনি বরদানকারী ও সোম-অলংকৃত। শান্তরূপ শিবকে নমস্কার, শান্তিকে নমস্কার। আদ্য প্রকৃতিকে নমস্কার, পুনঃপুনঃ মহেশ্বরকে নমস্কার। কাল-সংহারকারীকে নমস্কার, বারবার স্বাধিপতিকে নমস্কার। কামকে নমস্কার, পুনঃপুনঃ মায়াকে নমস্কার। প্রকৃতিকে নমস্কার, নারায়ণকেও নমস্কার। সংসার-সংহারকারীকে নমস্কার, সংসারের উৎসকেও নমস্কার। কর্মশূন্যকে নমস্কার, সর্বব্যাপী স্বভাবকে নমস্কার। আকাশে অবস্থানকারী আপনাকে নমস্কার, আকাশশক্তিকে বারবার নমস্কার। তিনি শত্রুদ্রিয় স্তোত্র পাঠ করতে করতে দণ্ডের মতো ভূমিতে পড়ে গেলেন। তখন তিনি আমাকে হাতে ধরে উঠিয়ে বললেন, ‘‘এখন আমি তোমার সামনে উপস্থিত।’’ তিনি আমার সামনে দাঁড়ানো দেবতাকে, যিনি নীল ও লালবর্ণের, সম্বোধন করলেন। বললেন, ‘‘তুমি তাঁকে রক্ষা করবে, কারণ তিনি তোমার জ্যেষ্ঠ, শিক্ষক ও পিতা। নিজের যোগবলেই তিনি কেবল আমার শরণাগত হয়েছেন। তোমাকে বিরিঞ্চিপুত্রকে শাসন করতে হবে, তাঁর মস্তক বহন করতে হবে। সর্বদা ভিক্ষা করে দেবতা ও দ্বিজগণকে প্রতিষ্ঠা করো।’’ এরপর তিনি স্বীয় স্বভাবত দেবস্থান, সেই পরম আবাসে গেলেন। তিনি কালভৈরবকে ব্রহ্মার মস্তক নিতে বললেন। সেই ভগবান, হাতে খাপড় নিয়ে, সর্বদিক থেকে ভিক্ষা গ্রহণ করলেন। তাঁর মুখ ছিল ভয়ংকর, দন্তযুক্ত, গলায় ছিল অগ্নিমাল্য। তখন পর্যন্ত, ‘‘তুমি ভয়ংকর কালকে অনুসরণ করবে, হে ত্রিনয়ন। আমার আদেশে সমস্ত লোকালয়ে ভিক্ষা করে বেড়াবে।’’ পরে তিনি পাপমোচনের উপায় স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেবেন। ভগবান, হাতে খাপড় নিয়ে, বিশ্বাত্মা হয়ে তিনটি লোক ঘুরে বেড়ালেন। তিনি জটাজুটধারী, উজ্জ্বল, নির্মল, অতুলনীয় দীপ্তিতে উদ্ভাসিত। সেই মহেশ্বর, যাঁর চক্ষু কালের অগ্নির মতো, চতুর্দিকে পরিবেষ্টিত হয়ে দীপ্তিমান। তিনি লীলাচার্যে পরিপূর্ণ, সমস্ত জগতে বিচরণ করেন। তিনি রমণীদের সভায় প্রবেশ করলেন, যাঁদের রূপ ও আকর্ষণ ছিল অপূর্ব। তারা তাঁর হাস্যোজ্জ্বল মুখের দিকে চেয়ে ভ্রুক্ষেপমাত্র করল। এরপর তিনি বিষ্ণুর ধামে গেলেন, যেখানে মধুসূদন অবস্থান করেন।