প্রাচীনকালে ধর্মজ্ঞানীরা মানুষের জীবনযাত্রা শুদ্ধ ও সৎ রাখার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম ও আচরণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তারা বলেছিলেন, দেবতাদের সন্তুষ্ট করতে কখনোই জাগতিক স্তব বা বাহ্যিক স্তব ব্যবহার করা উচিত নয়। দৈনন্দিন জীবনে শুচিতা বজায় রাখা অপরিহার্য—অশুচি অবস্থায় কখনো শুয়ে পড়া উচিত নয়, এবং নগ্ন অবস্থায় স্নানও করা উচিত নয়। চুল, নখ বা দেহের লোম কখনো দাঁত দিয়ে কাটা উচিত নয়, আর যারা ঘুমাচ্ছে, তাদের জাগানোও অনুচিত। খালি ঘরে একা ঘুমানো উচিত নয়, নিজের হাতে চটি বহন করাও বর্জনীয়। পা দিয়ে কখনো পা ধোয়া উচিত নয়। বায়ু, অগ্নি, গুরু, ব্রাহ্মণ, সূর্য এবং চন্দ্র—এই সকলের উপস্থিতিতে কখনোই বাইরে প্রাকৃতিক কর্ম করা উচিত নয়। বিশেষত, সন্ধ্যা ও মধ্যাহ্নে এ ধরনের কাজ থেকে সর্বদা বিরত থাকতে হবে। দেবতার আসন বা মূর্তি কখনো পা দিয়ে স্পর্শ করা উচিত নয়। অকারণে গভীর জলে প্রবেশ বা জল বহন করাও অনুচিত। প্রস্রাবের পরে না ধুয়ে নিজেকে শুচি করা উচিত নয়, এবং জলে বীর্যপাত করা নিষেধ। পবিত্র বৃক্ষ কখনো কাটা উচিত নয়, জলে থুতু ফেলাও বারণ। তুষ, অঙ্গার বা গোবরের উপর বসা উচিত নয়, এগুলো পা দিয়ে স্পর্শ করা বা মুখ দিয়ে ফুঁ দেয়াও অনুচিত। আগুনে আগুন নিক্ষেপ করা বা জল দিয়ে আগুন নেভানোও বর্জনীয়। বিক্রয়ের জন্য অনুপযুক্ত বা ভেজাল জিনিস ব্যবহার করা উচিত নয়। তীর্থস্থানে বা জলাধারে জমির সীমানা চিহ্নিত করাও অনুচিত। বন্য প্রাণী, পশু বা পাখিদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করা উচিত নয়। সন্ধ্যা বা সকালে ভিক্ষার জন্য কারো বাড়ির দরজায় কড়া নাড়া অনুচিত। ঝগড়া-বিবাদ এড়িয়ে চলতে হবে এবং অনুচিত পথে প্রবেশ করা উচিত নয়। নিজের অগ্নিকে হাতে স্পর্শ করা বা দীর্ঘক্ষণ জলে থাকা অনুচিত। মুখ দিয়ে আগুনে ফুঁ দেয়া উচিত নয়, কারণ আগুন মুখ থেকেই উৎপন্ন হয়েছে। একজন ব্রাহ্মণ কখনো একা সভায় যাবে না বা জনসমাবেশে যোগ দেবে না। কাপড় দিয়ে নিজের শরীর পাখা করা, মন্দিরে ঘুমানো, রোগাক্রান্ত, শূদ্র বা পতিতদের সঙ্গে শোয়া—সবই নিষিদ্ধ। আগুন, গরু বা ব্রাহ্মণের মাঝ দিয়ে পার হওয়া উচিত নয়। যোগী, সিদ্ধ, তপস্বী বা ব্রতধারীদের নিন্দা করা অনুচিত। ইচ্ছাকৃতভাবে ব্রাহ্মণ বা গরুর ছায়ার উপর দিয়ে হাঁটা উচিত নয়। অঙ্গার, ছাই বা চুলের উপর বসাও বারণ। দ্বিজদের জন্য নিষিদ্ধ খাদ্য বা অনুপযুক্ত পানীয় গ্রহণ করা অনুচিত। কেউ যদি অনাবশ্যক বা অনুচিত খাদ্য খায়, তবে সে শূদ্রের গর্ভে জন্ম নেয়; জীবিত অবস্থায় শূদ্র হয় এবং মৃত্যুর পরে কুকুররূপে জন্মায়। অন্যের আহার পেটে নিয়ে মৃত্যু হলে সেই খাদ্যের যোগ্য জন্ম লাভ হয়। সমষ্টিগত আহার, পতিতা, ক্লীব, গায়ক, কামার, সদ্যপ্রসূতা, পুনর্বিবাহিতা, ছাতামিস্ত্রি, অভিশপ্ত, চিকিৎসক, পতিতা, লাঠিধারী, সোমবিক্রেতা, বিশেষত কুকুরের জন্য রান্না করা ব্যক্তির আহার—এসব থেকে বিরত থাকতে হবে। কৃপণের ফেলে রাখা খাদ্য, অবশিষ্ট ভক্ষণকারী, ভীত, কাঁদা, অপমানিত বা ক্লান্ত ব্যক্তির আহারও এড়াতে হবে। এইভাবে, আচরণ ও আহারে শুদ্ধতা ও সংযম বজায় রাখার জন্য শাস্ত্রসম্মত এই বিধানগুলি পালন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে ধর্মজ্ঞরা উপদেশ দিয়েছেন।