একবার এক মহাজ্ঞানী ঋষি তাঁর শিষ্যদের কাছে বিধি-নিষেধের কথা বলছিলেন, কিভাবে একজন সত্যিকারের জ্ঞানী ও সদাচারী মানুষকে জীবনযাপন করা উচিত। তিনি বললেন— “তোমরা কখনোই নীচ প্রকৃতির বা কঠোর বুদ্ধির লোকদের সঙ্গে মিশবে না। যারা সম্মানিত, তাদের অবজ্ঞা করবে না, এবং জ্ঞানী ব্যক্তি কখনো নিজের প্রতি অভিশাপ দেবে না। নদীর মাঝে কখনোই কোনো নদীকে ‘নদী’ বলে ডাকবে না, কিংবা পর্বতমালার মাঝে কোনো পর্বতকে ‘পর্বত’ বলে সম্বোধন করবে না। নগ্ন অবস্থায় জলে প্রবেশ করবে না, আগুনের ওপর দিয়ে হেঁটে পার হবে না। অশুচি কারো সঙ্গে এমন স্থানে যাবে না, যেখানে চুল বা গোপনাঙ্গ প্রকাশ পায়। যৌনাঙ্গ, পেট বা হাস্য-পরিহাস সংক্রান্ত কথা বা কাজ করবে না, এমন কথা শোনাও উচিত নয়। পা বা হাত দিয়ে জলে আঘাত করবে না। বর্বর জাতির ভাষা শিখবে না, কিংবা পা দিয়ে আসন টেনে আনবে না। বুদ্ধিমান ব্যক্তি প্রয়োজনে মালিশ করতে পারে, তবে তা আকস্মিক বা উদ্দেশ্যহীনভাবে নয়। নাচবে না, গান গাইবে না, বা বাদ্যযন্ত্র বাজাবে না। ঈশ্বরকে বাহ্যিক বা লোকজ স্তুতি দিয়ে তুষ্ট করার চেষ্টা করবে না। অপবিত্র অবস্থায় শোবে না, নগ্ন হয়ে স্নান করবে না। দাঁত দিয়ে চুল, নখ বা শরীরের লোম কাটবে না, কিংবা কাউকে ঘুম থেকে জাগাবে না। ফাঁকা বাড়িতে একা শোবে না, নিজে নিজেই চটি বহন করবে না। পা দিয়ে নিজের পা ধুবে না। বাতাস, আগুন, গুরু, ব্রাহ্মণ, সূর্য বা চন্দ্রের সামনে কখনোই বাইরে গিয়ে প্রাকৃতিক কর্ম করবে না। এই কাজ সন্ধ্যা ও মধ্যাহ্ন সময়ে বিশেষভাবে এড়িয়ে চলতে হবে। পা দিয়ে আসন বা দেবমূর্তিকে স্পর্শ করবে না। অকারণে গভীর জলে প্রবেশ করবে না, বা অপ্রয়োজনে জল বহন করবে না। প্রস্রাবের পর না ধুয়ে নিজেকে পরিষ্কার করবে না, জলে কখনো বীর্যস্খলন করবে না। পবিত্র বৃক্ষ কাটবে না, জলে থুথু ফেলবে না। তুষ, অঙ্গার বা গোবরের ওপর বসবে না, সেগুলোকে পা দিয়ে স্পর্শ করবে না, বা মুখ দিয়ে ফুঁ দেবে না। আগুনে আগুন নিক্ষেপ করবে না, আগুনকে জলে নিভাবে না। অযোগ্য বা ভেজাল দ্রব্য বিক্রির জন্য ব্যবহার করবে না। পুণ্যস্থান বা জলাধারে সীমানা নির্ধারণ করবে না। পশু, বন্য জন্তু বা পাখিদের মধ্যে বিঘ্ন সৃষ্টি করবে না। সন্ধ্যা বা সকালে ভিক্ষার জন্য ঘরের দরজায় কড়া নেড়ে বিরক্ত করবে না। বিবাদ এড়িয়ে চলবে, এবং অনুচিত দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে না। নিজের অগ্নিকে হাতে স্পর্শ করবে না, বা দীর্ঘক্ষণ জলে থাকবে না। মুখ দিয়ে আগুনে ফুঁ দেবে না, কারণ আগুন মুখ থেকেই উৎপন্ন। ব্রাহ্মণ একা সভায় যাবে না, বা কোনো সংঘে যুক্ত হবে না। কাপড় দিয়ে নিজেকে পাখা করবে না, মন্দিরে শোবে না। রোগাক্রান্ত, শূদ্র বা পতিতদের সঙ্গে শয়ন করবে না। কখনোই গরু, অগ্নি বা ব্রাহ্মণের মধ্য দিয়ে যাবে না। যোগী, সিদ্ধ, তপস্বী বা ব্রতধারীদের নিন্দা করবে না। ইচ্ছাকৃতভাবে ব্রাহ্মণ বা গরুর ছায়ার ওপর দিয়ে হাঁটবে না। অঙ্গার, ছাই বা চুলের ওপর বসবে না। দ্বিজাতি কখনো নিষিদ্ধ আহার করবে না, বা অযোগ্য পানীয় পান করবে না।” এভাবেই ঋষি শিষ্যদের জীবনযাপনের শুদ্ধ পথ, সম্মান, শুচিতা ও সংযমের নিয়মাবলী একে একে শিখিয়ে দিলেন।