একদিন এক জ্ঞানী আচার্য তাঁর শিষ্যদের শুচিতা ও আচরণের নিয়মাবলী শেখাচ্ছিলেন। তিনি বললেন, “যখন কোনো বস্তু মাটিতে রাখা হয়, তখন জল চুমুক দিয়ে তা ছিটিয়ে দিতে হবে। কাপড় বা অনুরূপ কিছু স্পর্শ করলে, সেখানেও জল চুমুক দিতে হয়—এ বিষয়ে অনুমতি আছে। প্রস্রাব বা পায়খানা করার পর, যে হাত দিয়ে বস্তু ধরা হয়, সেই হাত অপবিত্র হয় না। দিনের বেলায় প্রস্রাব বা পায়খানা করা উচিত; কিন্তু রাতে করলে দক্ষিণ দিকে মুখ করে করতে হবে। সেই সময় মাথা ঢেকে রাখা আবশ্যক। অগ্নি, শ্মশান, প্রস্রাব বা পায়খানার স্থানে কখনোই শুচিকর্ম করা যাবে না। দাঁড়িয়ে, আশ্রয়হীন স্থানে, পাহাড়ের চূড়ায়, জীবজন্তুর মাঝে, গর্তে কিংবা হাঁটতে হাঁটতে শুচিকর্ম করা অনুচিত। ক্ষেত, জলাভূমি, তীর্থস্থান বা চৌরাস্তায়ও নয়। সিঁড়িতে, জুতো পরে, ছাতা হাতে, বা মাঝ আকাশে কখনোই শুচিকর্ম করা যাবে না। দেবালয় বা জলাশয়ের কাছে নয়; সূর্য, অগ্নি বা চাঁদের দিকে মুখ করে নয়। সবসময় পরিষ্কার, আহৃত জল দিয়ে শুচিকর্ম করতে হবে। রাস্তা, অনুর্বর স্থান বা অন্যের ব্যবহৃত জল শুচিকর্মে ব্যবহার করা যাবে না। এরপর পূর্ববর্ণিত নিয়মে জল স্পর্শ করতে হবে। তারপর আচার্য বললেন, “যখন গুরু ডাকেন, তখন তাঁর মুখের দিকে তাকিয়ে বিদ্যা অধ্যয়ন করতে হবে। ‘বসে পড়ো’ বললে, গুরুর দিকে মুখ করে বসবে। গুরুর পেছনে বসা, খাওয়া, বা দাঁড়িয়ে থাকা উচিত নয়। তাঁর দৃষ্টিতে ইচ্ছেমতো বসা যাবে না। গুরুর বসা, কথা বলা বা চলাফেরা অনুকরণ করবে না। প্রয়োজনে কান ঢেকে নেবে বা অন্যত্র সরে যাবে। গুরুর সামনে কখনো জবাব দেবে না, তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে বা বসে থাকবে না। সর্বদা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পরিষ্কার করবে ও তেল মাখবে। গুরুর আসন, ছায়া বা অনুরূপ কিছুতে পা দেবে না। বিশেষ করে প্রিয় বা কল্যাণকর কিছুতে মনোযোগী হলে, অনুমতি না নিয়ে চলে যাবে না। গুরুর সামনে শব্দ করবে না বা থুতু ফেলবে না। গুরুর নিচে, আসনে বা মাদুরে মনোযোগ সহকারে বসবে। গুরু দৌড়ালে অনুসরণ করবে, তিনি কোথাও গেলে সঙ্গে যাবে। গুরুর সঙ্গে একসঙ্গে পাথর বা কাঠের আসনে বসবে। সর্বদা কোমল, মধুর ও কল্যাণকর কথা বলবে। তেল মাখানো, পাখা করা, জুতো বহন ও ছাতা ধরে রাখা—এসব কাজ করবে। অপরকে কষ্ট দেওয়া বা নিন্দা করা থেকে বিরত থাকবে। প্রয়োজনমতোই সংগ্রহ করবে এবং প্রতিদিন ভিক্ষা সংগ্রহ করবে। নৃত্য দেখা, গান শোনার আকাঙ্ক্ষা থেকে নিজেকে বিরত রাখবে। অপবিত্র নারী বা নিম্নবর্ণের কারো সঙ্গে একান্তে কথা বলবে না। কুস্তি, স্নান বা অনুরূপ খেলায় অংশ নেবে না। মোহ বা লোভবশত পরিত্যক্ত বস্তু গ্রহণ করলে অধঃপতিত হবে। যাঁর কাছ থেকে বিদ্যা পেয়েছে, তাঁকে কখনো কষ্ট দেবে না। যদি কেউ ভুল পথে চলে, তখন মনু বলেছেন—তাকে পরিত্যাগ করতে হবে।” এভাবেই আচার্য তাঁর শিষ্যদের শুচিতা, শিষ্টাচার ও গুরুসেবা সম্পর্কে পবিত্র উপদেশ দিলেন।