যক্ষ, রাক্ষস এবং পিশাচ—এদেরকে স্বয়ম্ভূর বিধানে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। ঋতু, পক্ষ ও মাসও সেই প্রজাপতির বিধানে স্থাপিত। সর্বোচ্চ ও তার অংশগুলি, সময়ের বিভাজন—সবই সেই বিধানের বাইরে নয়। এরা সকলেই পরমাত্মার আদেশে বিদ্যমান। সমস্ত বিশ্বব্রহ্মাণ্ড স্বয়ম্ভূর দ্বারা সৃষ্টি হয়েছে। এরা চারপাশে অসংখ্য উপাদানের সঙ্গে উদ্ভূত হয়েছে এবং সর্বদা পরমসত্তার আদেশ পালন করে। আদি প্রকৃতি, যা সমস্ত জীবের উৎস, আমার নির্দেশেই কার্যকর হয়। মায়া সর্বদা রূপান্তরিত হয় এবং তিনিও প্রভুর আদেশে কাজ করেন। এই আত্মা সর্বদা প্রভুর নির্দেশে বিদ্যমান। জ্ঞানও মহেশ্বরের আদেশাধীন। এই সমস্ত কিছু একমাত্র আমার দ্বারাই চালিত হয় এবং সবই শেষ পর্যন্ত আমার মধ্যেই লয় পায়। পরমসত্তা, পরমব্রহ্ম—আমার বাইরে কিছুই জানা যায় না। এই জ্ঞান অর্জন করলে জীব জন্ম ও সংসারের বন্ধন থেকে মুক্তি পায়। যাকে জানলে মানুষ মুক্ত হয় এবং পুনরায় সংসারে পতিত হয় না, সেটিই আমার পরমধাম—চিরন্তন, আনন্দময়, এবং বৈষম্যহীন। আমি সেই প্রাচীন, অবিনাশী ঈশ্বর, হরি, যিনি মায়ার অধিপতি। আদিত্যদের মধ্যে আমি বিষ্ণু; বসুদের মধ্যে আমি পাভক। রাজা হাতিদের মধ্যে আমি ঐরাবত; অস্ত্রধারীদের মধ্যে আমি রাম। শিল্পীদের মধ্যে আমি বিশ্বকর্মা; অমরদের শত্রুদের মধ্যে আমি প্রহ্লাদ। বীরদের মধ্যে আমি বীরভদ্র; সিদ্ধদের মধ্যে আমি কপিল মুনি। অস্ত্রের মধ্যে আমি বজ্র; ব্রতের মধ্যে আমি সত্য। জীবনের সমস্ত আশ্রমের মধ্যে আমি গৃহস্থ; প্রভুদের মধ্যে আমি মহাপ্রভু। যক্ষদের মধ্যে আমি কুবের; গননায়কদের মধ্যে আমি বীরক। শক্তিধারীদের মধ্যে আমি বায়ু; দ্বীপের মধ্যে আমি পুষ্কর। বেদগুলির মধ্যে আমি সামবেদ; যজুরের মধ্যে আমি শতরুদ্রিয়। স্তোত্রের মধ্যে আমি পুরুষসূক্ত; সামের মধ্যে আমি জ্যেষ্ঠ সাম। ভূমির মধ্যে আমি ব্রহ্মাবর্ত; তীর্থক্ষেত্রের মধ্যে আমি অবিমুক্তক। সত্ত্বের মধ্যে আমি আকাশ; জীবের মধ্যে আমি মৃত্যুই। পথের মধ্যে আমি মুক্তি; সর্বোচ্চের মধ্যে আমি পরমপ্রভু। জেনে রাখো, এগুলো আমারই দীপ্তির প্রকাশ। এদের মধ্যে আমি প্রভু, জ্ঞানীরা যাকে পশুপতি বলে স্মরণ করে। বেদজ্ঞরা আমাকে একমাত্র জীবের মুক্তিদাতা বলে ঘোষণা করেন। আমার বাইরে, পরমসত্তা, অবিনাশী জীবের প্রভু—আর কিছু নেই। এগুলোই পশুপতির বন্ধন, জীবকে বেঁধে রাখে যেসব ক্লেশ। এগুলোই আটটি আদি প্রকৃতি, এবং অন্যান্য পরিবর্তন। গুদ, যৌনাঙ্গ, দুই হাত, দুই পা, এবং বাক—এগুলো দশটি বলে গণ্য। এই তেইশটি প্রকৃতির মৌলিক তত্ত্ব। যার শুরু নেই, মধ্য নেই, শেষ নেই—তিনি এই জগতের পরম কারণ। এদের স্থিতি, সমতা—এটাই অপ্রকাশিত, আদি প্রকৃতি বলে পরিচিত।