সেই মহান নগরীতে, যেখানে আনন্দ ও উল্লাস সর্বদা বিরাজমান, সেখানে বাসিন্দারা নানা রকম সুখ ও আনন্দে মগ্ন হয়ে খেলায় মেতে থাকে। সেই স্থানে অপ্সরাদের বাস, রম্ভার নেতৃত্বে তারা প্রেমের আকাঙ্ক্ষায় সদা উন্মুখ। নগরীটি নানা রত্নে সমৃদ্ধ, অগণিত জলধারায় পূর্ণ। সেখানে শান্ত ও উগ্র স্বভাবের রুদ্রাণীরা থাকেন, যাদের মন সদা প্রভুর প্রতি নিবেদিত। তারা সর্বোচ্চ আলোকের দিকে উঠে, সেই শ্রেষ্ঠ স্থান অর্জন করেন। কপিলায় বাস করেন বিখ্যাত ঋষি নন্দীশ্বর। সেখানে আছে ভাস্করের, অর্থাৎ সূর্যদেবের, সেই উজ্জ্বল ও পবিত্র আবাস, যার দীপ্তি অপরিমেয়। আর সেই স্থানে শীতল কিরণের অধিপতি চন্দ্রও আনন্দ লাভ করেন। এই নগরী হাজার যোজন দৈর্ঘ্যের, তার স্বর্ণ ও রত্নের দরজা অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর। সেখানে বিশ্বাত্মা স্বাভিত্রীসহ, বাসুদেব ও অন্যান্যদের সঙ্গে অবস্থান করেন। বিশিষ্ট ঋষিরা, যেমন সনন্দন, সেখানে বাস করেন। কাছাকাছি রয়েছে দৈত্যদের জ্ঞানী গুরু’র আশ্রম। সেই পবিত্র স্থানে venerable sage কার্দমা বাস করেন। সানতকুমার, যিনি ব্রহ্মজ্ঞানে শ্রেষ্ঠ, তিনিও সেখানে থাকেন। সেই স্থানে আছে স্বচ্ছ হ্রদ, নদী, ও দেবতাদের আবাস। অগণিত অরণ্য ও উৎকৃষ্ট আশ্রমের কথা বলে শেষ করা যায় না। শত বছরেও এই সবের বিস্তারিত বর্ণনা সম্ভব নয়। লবণসমুদ্রকে ঘিরে অবস্থিত প্লক্ষ দ্বীপ। তার পর্বতগুলি সোজা ও উচ্চ, যেখানে সিদ্ধগণের সমাবেশ ঘটে। সপ্তম পর্বত, বৈভ্রাজ, ব্রহ্মার অত্যন্ত প্রিয়। সেখানে বিশ্বাত্মা, যিনি সবকিছুর সাক্ষী ও সৃষ্টিকর্তা, পূজিত হন। সেখানে কোনো দুষ্ট বা অপবিত্র ব্যক্তি নেই। ব্রহ্মর্ষিরা সর্বদা পিতামহ ব্রহ্মাকে পূজা করেন। তারা অমর ও সদাচারী নামে বিখ্যাত। এই যুগে দ্বীপের মানুষেরা দীর্ঘজীবী নয়। ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্রদের কথা সেই দ্বীপে বলা হয়েছে। তাদের মধ্যে চন্দ্রের সঙ্গে মিল ও সাদৃশ্য বিদ্যমান। তারা পাঁচ হাজার বছর ধরে রোগমুক্ত জীবনযাপন করেন। এরপর, ইক্ষুরসের সমুদ্রকে ঘিরে শাল্মলী দ্বীপ স্থিত। সেখানে সাতটি সোজা ও সংযুক্ত নদী আছে। দ্রোণ, কঙ্ক, মহিষ ও ককুদ্বান—এই সাতটি পর্বতের নাম। সেই নদীগুলির নাম নিবৃত্তি ও অন্যান্য, যেগুলি মানুষের পাপ দূর করে। সেখানে যুগের কোনো বিভাজন নেই; মানুষ অসুস্থতা ছাড়াই বাস করেন। তাদের মধ্যে মিল, সাদৃশ্য ও একই জগতে বসবাসের কথা বলা হয়েছে। এই দ্বীপে বৈশ্যরা হলুদ, শূদ্ররা কালো, আর দ্বিজরা বহিষ্কৃত। এরপর, মদসমুদ্রকে ঘিরে কুশ দ্বীপ অবস্থিত। কুশেশয়, হরি ও মন্দার—এই সাতটি পর্বতের নাম। বিদ্যুদ, অম্ভা ও মহী—এই নদীগুলি সেখানে প্রবাহিত। সেই স্থানে ব্রহ্মা, ঈশান ও দেবগণ পূজিত হন। বৈশ্যদের সেখানে স্নেহ, শূদ্রদের মন্দেহ নামে পরিচিত। এইভাবে, পবিত্র ও অপূর্ব স্থানসমূহ, দেবতা, ঋষি, নদী, পর্বত ও দ্বীপের কথা বর্ণিত হয়েছে, যেখানে আনন্দ, শান্তি, এবং ধর্মের আলো সর্বদা ছড়িয়ে রয়েছে।